দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পাচ্ছে দুদক

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হিসাব জমা না দেয়া দুনর্ীতিবাজদের গ্রেফতার ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য দুনর্ীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ৰমতা দেয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার জরম্নরী অধ্যাদেশের একটি আইন পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছে। এই আইন পরিবর্তন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি না পাঠিয়েই দুনর্ীতি দমন কমিশন হিসাব খেলাপীদের বিরম্নদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এদিকে শীঘ্রই হিসাব না দেয়া ১৫ জনের বিরম্নদ্ধে মামলা করার প্রসত্দুতি নিয়েছে। আর মামলা পরিচালনার জন্য দুনর্ীতি দমন কমিশন তাদের নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করার চিনত্দা-ভাবনা করছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমাদানকারীদের মধ্যে প্রথম দফায় ২১ জনের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরম্ন করলেও কিছুটা বিলম্ব হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

দুনর্ীতিবাজ, ভূমিদসু্য, ৰমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে দুনর্ীতি দমন কমিশন যে ৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নির্ধারিত ৭২ ঘন্টার মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার কথা থাকলেও ৩৪ জন সশরীরে কিংবা তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেন। যারা যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন, কেবল তাদের প্রতিনিধিরাই হিসাব জমা দিতে পেরেছেন। ড. এইচ.বি. এম ইকবাল অসুস্থ থাকার কারণে হাইকোর্টের আদেশে তার হিসাব সময়সীমা পার হওয়ার পরেও গ্রহণ করে। কিন্তু বাকি ১৫ জন দুদকের নোটিস অমান্য করে তাদের হিসাব জমা দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন উচ্চ আদালতে রিট করেন। আজ সোমবার ওই রিটের শুনানি হবে। নোটিস প্রাপ্তির ৭২ ঘন্টার মধ্যে সম্পত্তির হিসাব জমা না দিলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দিলেও বিধিমালার অভাবে দুদক সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। তাই হিসাব জমা না দেয়া ১৫ ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায়। চিঠি পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় নিয়ে চিনত্দা-ভাবনা করে।

দুদক জরম্নরি বিধিমালা ২০০৭ এর ১৫ ঘ (২) ধারা অনুযায়ী ৫০ জনকে নোটিস দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, ১৫ ঘ এর ২ উপধারা (১) এ কিছুটা পরিবর্তন করে যে কর্তৃপৰ হিসাব দাখিল করতে বলেছিলেন তাদেরকেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও গ্রেফতারের ৰমতা দেয়া যায় কিনা। ইতিমধ্যে এ প্রক্রিয়াও শুরম্ন করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে কবে নাগাদ এই ৰমতা দেয়া হবে তা জানা যায়নি। জরম্নরি বিধিমালার ১৫ ঘ এর ২ উপধারা (১) এ বলা হয়, নোটিস প্রাপ্তির ৭২ ঘন্টার মধ্যে হিসাব দাখিলে ব্যর্থ ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য সংশিস্নষ্ট নোটিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাজিস্ট্রেট বা ৰেত্রমতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারবে। কিন্তু এ বিধিমালার পরিবর্তন হলে দুদক সরাসরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এজন্য দুদককে কোথাও যেতে হবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমাদানকারীদের মধ্যে প্রথম দফায় ২১ জনের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। যাদের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে তারা হচ্ছেনঃ মোহাম্মদ নাসিম, সালমান এফ রহমান, তরিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী , ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, আলী আজগর লবী, মোসাদ্দেক আলী ফালু, আমান উলস্নাহ আমান, মীর নাছির, নাসের আহমেদ, সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন, ওয়াদুদ ভুঁইয়া, নাসির আহমেদ পিন্টু, মুফতি শহীদুল ইসলাম, রশিদুজ্জামান মিলস্নাত, লোটাস কামাল, ইকবাল আহসান মাহমুদ টুকু, মঞ্জুরম্নল আহসান মুন্সি, সাবেক সচিব আ.ন.হ আখতার হোসেন ও সিবিএ নেতা ফিরোজ মিয়া। দুদক জানায়, এদের জমা দেয়া হিসাবের তদনত্দ করা হিসাবের সঙ্গে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় দফায় বাকিদের দেয়া হিসাব তদনত্দ করা হবে।

সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/03/05/w/n_ztzzyv

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: