নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি

গত কয়েক সপ্তাহে চাল, আটা, পেয়াজ, ডিমসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে৷ ফলে অসহায় ক্রেতাদের বাজারের লিস্ট দিন দিন কেবল ছোট হয়ে পড়ছে৷
বাজারে পণ্যের পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা মূল্যের মধ্যে রয়েছে বিরাট পার্থক্য৷ মূল্য নিয়ন্ত্রণের আশায় রাজধানীর কাচা বাজারগুলোয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) বিভিন্ন পণ্যের যে পাইকারি মূল্য তালিকা টানিয়েছে সে সব পণ্যের খুচরা দাম তা থেকে অনেক বেশি৷ ক্রেতাদের অনেকের বক্তব্য, বাজারে টানানো তালিকায় বাস্তবে কেনাকাটা করা যায় না৷ বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছামতো দামেই পণ্য বিক্রি করেন৷
কারওয়ান বাজারে আসা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী হাতেম আলী বলেন, ডিসিসির ঝুলিয়ে রাখা তালিকা নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে তর্ক হয়৷ বিক্রেতারা সাপ্লাই কম ও পরিবহন খরচ বেশি দেখিয়ে পণ্যের দাম বেশি রাখে৷ জিগাতলায় বসবাসকারী চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, দাম বাড়াটাই এখন রীতি হয়ে দাড়িয়েছে৷ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেই৷ চাল, আটা, তেলসহ বেসিক কিছু দ্রব্যে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা খুবই জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন৷ ক্রেতাদের অভিযোগ, মজুদদার ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাত রয়েছে মূল্য বাড়ার নেপথ্যে৷
আবার ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বাজারে দ্রব্যের মাত্রাতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়াকে উল্লেখ করেন৷
গত কয়েক সপ্তাহে চাল, ডাল, আটা, পেয়াজ, জিরা, আলু, ডিম, গুড়া দুধ, মাংস, চা, সবজি ও সব ধরনের শাকের দাম বেড়েছে৷ কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) সূত্রে জানা গেছে, গেল দু’মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) চালের দাম বেড়েছে দশমিক ৪৫ শতাংশ, আটার দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে দশমিক ৩১ শতাংশ, পেয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে দুই শতাংশ৷ এছাড়া মাছের দাম বেড়েছে দশমিক ১৬ এবং মাংসের দাম বেড়েছে দশমিক ১৯ শতাংশ৷
মিনিকেট চাল ২৫-২৬ টাকা থেকে এখন কেজিপ্রতি ২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ আলু এক সপ্তাহ আগে ১২ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতি কেজির দাম ১৪ টাকা৷ শিম ও মাঝারি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়৷ পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০ থেকে ২৫ টাকায়৷ ডিমের দাম গেল মাসের তুলনায় বেড়েছে ৮.৪১ শতাংশ৷ ডিমে হালিপ্রতি এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে৷ গুড়া দুধের দাম বাড়ছে লাফিয়ে৷ প্রতি কেজি ডানো ৩৬৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ বাজারে ফলের দাম বেড়েছে৷ তবে অপরিবর্তিত রয়েছে চিনির দাম৷ গুড়া সাবানের দাম বেড়েছে কেজিতে চার টাকা৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=31364&issue=241&nav_id=7

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: