সুপৃম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চিফ জাস্টিস বিচার বিভাগের কালিমার জন্য জজ আইনজীবী উভয়ই দায়ী

সুপৃম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন চিফ জাস্টিসকে সংবর্ধনা দেয় _যাযাদিবিচার বিভাগের যে কোনো কালিমার জন্য জজ ও আইনজীবী উভয়ই দায়ী হবে। এক পাৰিক কোনো ঘটনা ঘটতে পারে না। এর জন্য প্রতিপৰও লাগে। তবে নিকট অতীতে যা ঘটেছে তা ভুলে গিয়ে এবার এ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে। এ ৰেত্রে আমার আনত্দরিকতার কোনো কমতি থাকবে না। গতকাল বুধবার সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ সুপৃম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন নবনিযুক্ত চিফ জাস্টিস মোঃ রম্নহুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপৃম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সুপৃম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার টি এইচ খান, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট ওজায়ের ফারম্নক, অ্যাডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভুইয়া, অ্যাডভোকেট এম হাফিজ উলস্নাহ, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, ড. রফিকুর রহমান, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম ও রফিকুল হক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন। চিফ জাস্টিস তার বক্তব্যে আরো বলেন, অতীতে বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সদস্যরা যেভাবে এ বিভাগের মর্যাদাকে সমুন্নত রেখেছিলেন তার ধারাবাহিকতায় এর মান আরো বাড়ানো তো গেলই না বরং এখন আগের অর্জনও রৰা করা যাচ্ছে না। আগে বার সমিতির যে শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ছিল তা অনুসরণযোগ্য। তবে অতীত ভুলে গিয়ে এ প্রতিষ্ঠানকে আবারো গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি জোর দেন। তিনি বারের প্রবীণ ও সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করবেন বলে জানিয়ে বলেন, বারের সঙ্গে বসার চিনত্দা আমার আগে থেকেই ছিল। যে কোনো সমস্যায় বারের সিনিয়র আইনজীবীদের দেখা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বার আর বেঞ্চ হলো একই অঙ্গের দুটি রূপ। এ কথা মানতে হবে। সভাপতি ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে গত বছর যা ঘটে গেল তা নিয়ে একটি রিসার্চ করা যেতে পারে। তাহলে দেশ ও জাতি বুঝতে পারবে, সে সময় আমরা একটি সিসটেমেটিক ডিজঅর্ডারের মধ্যে ছিলাম। রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ঠিক রাখার জন্য কতকগুলো প্রতিষ্ঠান মনিটরের ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহাহিসাব নিরীৰক ও নিয়ন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন, সুপৃম কোর্ট প্রভৃতি। কিন্তু এসবের মধ্যে এমন দলীয়করণ হয়েছিল যে, গত বছর সিসটেমের মধ্যে একটা বিশৃঙ্খলা ঘটে যায়। তবে অতীতের এসব বিষয় ভুলে গিয়ে নতুন করে এ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এক বছর মেয়াদের শেষ প্রানত্দে এসে ভালো লাগছে দেখে যে, দলমত নির্বিশেষে সবাই এখানে এসেছেন। ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নবনিযুক্ত চিফ জাস্টিস যেদিন নিয়োগ পেলেন সেদিন এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল। এ বৃষ্টির তোড়েই বিচার বিভাগের সব ময়লা আবর্জনা ধুয়ে যায়। ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা এতোদিন ছিলাম এক অন্ধকার সময়ে। এখন আমরা আলোর দিকে যাত্রা করবো। অ্যাডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, জাতির ক্রানত্দিলগ্নে আপনি চিফ জাস্টিসের দায়িত্ব নিলেন। তাই আপনার দায়িত্ব অনেক। এতোদিন বিচার বিভাগে আপনি যেসব সমস্যা দেখে এসেছেন তার সমাধান করবেন বলে আশা করি। অনুষ্ঠান শেষে চিফ জাস্টিসকে বাংলাদেশ সংবিধানের প্রসত্দাবনা প্রদান করেন ড. কামাল হোসেন এবং ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=1201

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: