ফ্ল্যাট পস্নট ও বাগানবাড়ির মালিকদের তালিকা তৈরি করা হবে

দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের আওতায় শীঘ্রই ঢাকা মহানগরী এলাকায় অবস্থিত সকল ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্টের মালিকদের নামের তালিকা তৈরী করা হবে। খোঁজখবর নেওয়া হবে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত আবাসন প্রকল্পের পস্নট ও বাগানবাড়িসমূহের মালিকানার ব্যাপারেও। এজন্য বর্তমানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘পস্ন্যান অব অ্যাকশন’ তৈরীর কাজ চলছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের দুর্নীতি রোধের লৰ্যে এ সংক্রানত্দ পুরনো আইনগুলো সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় নতুন আইন বা বিধি প্রণয়ন করা হবে। নির্ভরযোগ্য একটি গোয়েন্দা সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

ঊধর্্বতন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ ও সমাজের সর্বত্র দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এ জন্য আমলাতন্ত্রও কম দায়ী নয়। কোনো কোনো ৰেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ এবং যোগসাজশেই রাজনীতিবিদরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু এতকাল পর্যনত্দ সব ধরনের দুর্নীতির দায়ভার প্রধানত রাজনীতিকদেরই বহন করতে হয়েছে। তবে সন্দেহ নেই যে, মূলতঃ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদৰতা ও অযোগ্যতার কারণেই আমলারা দুর্নীতি-অনিয়ম করেও পার পেয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমাদের কাছে প্রতীয়মাণ হয়েছে যে, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য মহানগরীতে যেসব বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্ট রয়েছে, তার অনত্দতঃ ৫০ ভাগের মালিক সরকারি চাকরিজীবীরা। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর অনেক কর্মচারীও দামী ফ্ল্যাটের মালিক। তাদের অনেকেরই ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ ৰেত্র হিসাবে বেছে নেয় ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্ট ক্রয় করাটাকে। বিগত কয়েক বছরে ঢাকায় ফ্ল্যাটের দাম অবিশ্বাস্য হারে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণও এটি। এছাড়া ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক পস্নট রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় যে সমসত্দ বাগানবাড়ি রয়েছে, তন্মধ্যে অনেকগুলোর মালিকই সরকারি কর্মকর্তারা।

এমন তথ্যের আলোকে প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরী এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্টসমূহের মালিকদের একটি তালিকা তৈরি করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান চালানো হবে আবাসন প্রকল্পের পস্নট ও বাগানবাড়ি সম্পর্কে। এ কাজে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, রেজিষ্ট্রেশন পরিদপ্তর ও আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সহায়তা নেওয়া হবে। এছাড়া বিআরটিএ ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ব্যক্তিগত গাড়িরও হিসাব বের করবে গোয়েন্দারা।

দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার এই বড় কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের দুর্নীতি বন্ধে বর্তমানে যে বিধান রয়েছে (সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা ১৯৮৫) সেটি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দুর্নীতি রোধে একেবারেই অকার্যকর। এ আইনানুযায়ী কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুর্নীতি পর পর তিনবার হাতেনাতে ধরা না পড়লে তাকে চাকরিচু্যত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রথম দফায় দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়লে সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে মৌখিক সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয় দফায় হাতেনাতে ধরা পড়লে তাকে সাসপেন্ড বা সাময়িক বরখাসত্দ করা হবে এবং তৃতীয়বার হাতেনাতে ধরা পড়লে উপযুক্ত সাৰ্য-প্রমাণসহ তাকে চাকরিচু্যত বা ডিসমিস করা যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে দুর্নীতি হয় মূলত পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণে। এ ধরনের আর্থিক দুর্নীতি হাতেনাতে ধরার তেমন কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অহরহ ঘুষ-দুর্নীতি করেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন এবং এ সম্পর্কিত পুরনো আইনের যথাযথ সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করা হবে।
Source: http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/03/10/w/n_zttzzz

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: