মেয়র মহিউদ্দিন বান্দরবান জেলে

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বান্দরবান কারাগারে স্থানান-র করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে র্যাব ও পুলিশের কড়া প্রহরায় তাকে বান্দরবান নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে মেয়রের প্রভাব খাটিয়ে গত ১৪ বছর ধরে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায়কারী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালিকার প্রত্যেকেই মেয়র মহিউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন এবং বিশেষ সুবিধাভোগী।
মাত্র একরাত চট্টগ্রাম কারাগারে রাখার পর মেয়র মহিউদ্দিনকে শুক্রবার ভোরে একটি প্রিজন ভ্যানে করে যৌথ বাহিনীর কড়া প্রহরায় বান্দরবানে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গেছে, চট্টগ্রাম কারাগারে মেয়রকে ডিভিশন দেয়া হয়। তার কক্ষে আরও ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক তিন মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও একেএম মোশাররফ হোসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বান্দরবান কারাগার সূত্র জানায়, চিকিৎসক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তিনি সুস্থ আছেন।
বিশেষ সুবিধাভোগীদের তালিকায় সিটি কর্পোরেশনের কোটিপতি কর্মকর্তা, কর্মচারী, ঠিকাদার, সিবিএ নেতা ছাড়াও মেয়র মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্য ও আত্দীয়-স্বজন রয়েছে। তালিকা তৈরির কথা স্বীকার করে র্যাব চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক বলেন, তালিকাভুক্তদের দুনর্ীতির আলামত হিসেবে ইতিমধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র জব্দ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এবং দুনর্ীতি দমন কমিশন এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তাদের দুনর্ীতির তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন_ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেয়রের জামাতা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন মাহমুদ কাতেবী, মেয়রের এপিএস ও নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, তার ভাই সৈয়দ সাজ্জাদ মাহমুদ, মেয়রের ভগি্নপতি মুজিবুর রহমান, ভাতিজা রুবায়েত ও তার কয়েকজন সহযোগী, নাসিরাবাদ ওয়ার্ডের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার (বর্তমানে পলাতক) মামুনুর রশিদ মামুন, সিটি কর্পোরেশনের ধনাঢ্য তিন ঠিকাদার নুরুল আলম, জাফর আহমদ ও কালু সওদাগর, সিবিএ নেতা জালালসহ মেয়রের আরও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। এদের দুনর্ীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তদন-ে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা ও দুদক সদস্যরা।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, ৫০ জন সিনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মেয়রের জামাতা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরবান প্রাইমারি হেলথ ও এইডস প্রকল্পের কোটি টাকা আত্দসাৎ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মালামাল ক্রয়ে দুনর্ীতির অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছরে তিনি জামালখান রোডে বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নাসিরাবাদে স্ত্রীর নামে অভিজাত সালসাবিল বুটিক হাউস গড়ে তোলেন। জমি ও ফ্ল্যাট কেনেন। মেয়রের এপিএস হাসান মাহমুদ শমসেরও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্দসাৎ করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার ভাই সাজ্জাদও টেন্ডারবাজি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তবে সিটি কর্পোরেশনের সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন মেয়রের ভাতিজা রুবায়েত। তার বেপরোয়া দৌরাত্দ্যে সবাই অতিষ্ঠ ছিল। এমনকি তার দাপটের কারণে মেয়রের আরেক আলোচিত ভাগ্নে যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনও এক পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনে আসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্দসাৎ, টেন্ডারবাজিসহ বহুমুখী দুনর্ীতির সঙ্গে কর্পোরেশনের একাধিক ঊধর্্বতন কর্মকর্তাও সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে। দুদক ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, দুনর্ীতির আলামত হিসেবে মেয়রের অফিস কক্ষ থেকে জব্দ করা ২৫টি ফাইল খতিয়ে দেখে এদের সম্পৃক্ততা খুঁজে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মেয়রের অফিস কক্ষ থেকে জব্দ করা ২৫টি ফাইলের মধ্যে রয়েছে লেকসিটি হাউজিং প্রকল্প, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি নির্মাণ, মাড়োয়ারি বিল্ডিং ক্রয়, রিসাইক্লিং প্রকল্প, গার্বেজ ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট, জিইসি মোড়ে ভবন নির্মাণ, সিএনজি স্টেশন স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল।
Source: http://jugantor.com/online/news.php?id=52945&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: