হাওয়া ভবনে দু’দফা তল্লাশি

গতকাল শুক্রবার পুলিশের একটি দল বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক অফিস বনানীর হাওয়া ভবনে দুই দফা তলস্নাশি চালিয়েছে। দুপুরে এবং বিকালে বনানী ১৩ নম্বর রোডের এই তিনতলা ভবনের নীচতলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমানের অফিস কৰে তলস্নাশি চালায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ ভবনে ঢুকে ২০০৭ সালের ৪ জানুয়ারি কারা কারা এখানে এসেছিলেন তাদের নাম এন্ট্রি সম্বলিত লগবই দেখতে চায়। কিন্তু লগবই না থাকায় তারা কোন তথ্য পায়নি। বিকাল সোয়া ৪টায় দ্বিতীয় দফায় ৩ গাড়ি পুলিশ সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হাওয়া ভবনে প্রবেশ করে। সেখানে তারা দুইটি কৰে তলস্নাশি এবং একটি তালিকা প্রণয়ন করে। হাওয়া ভবনের দুই পাশের বাড়িতে কারা থাকেন তাদের নামধাম পরিচয় লিপিবদ্ধ করে। এ সময় পুলিশ হাওয়া ভবনের কর্মচারি এসএম পারভেজ জ্যাককে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব অপুকেও সন্ধান করে। আধা ঘন্টা হাওয়া ভবনে তলস্নাশি শেষে পুলিশ চলে যায়। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার গুলশান থানায় নোয়াখালীর চাটখিল থানার বাসিন্দা ঠিকাদার আমিন আহমেদ এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তারেক রহমানের নামে মামলা করে।

তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে ঠিকাদার ব্যবসায়ী আমিন আহমেদ ভুঁইয়া গুলশান থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উলেস্নখ করেন যে, ৪ জানুয়ারি তার বন্ধু ক্যাপ্টেন (অবঃ) সবুরকে সঙ্গে নিয়ে হাওয়া ভবনে যান। তিনি তারেক রহমানের নামে এক কোটি টাকার একটি একাউন্টপেয়ি চেক নিয়ে যান। ঐ সময় তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব অপু আমিন আহমেদ ভুঁইয়ার ওপর ৰিপ্ত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে অপু বলে, নগদ টাকা নিয়ে আসতে হবে। তারেক রহমানকে চাঁদা দেয়া ব্যতীত কোন ঠিকাদারী ব্যবসা করতে পারবেন না বলে অপু হুমকি দেয়। সেখান থেকে আমিন আহমেদ ভুঁইয়া ফোন করলে তার ভাই ফারম্নক আহমেদ দুইটি ব্রিফকেস ভর্তি ১ কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া ভবনে যান। অপু এই এক কোটি টাকা গ্রহণ করে। পরদিন তারেক রহমান ফোন করে আমিন আহমেদকে এক কোটি টাকা পাওয়ার কথা জানান। উলেস্নখ্য, গত ২২ জানুয়ারি বাতিলকৃত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিন আহমেদ ভুঁইয়া নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রাথর্ী ছিলেন।

জেআইসিতে কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে এই সকল বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। হাওয়া ভবন থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বদলি, নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এ সকল ঘটনার সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ৰমতার অপব্যবহার করে তারেক রহমানের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আটক তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন তার দুনর্ীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। গত ৫ বছরে চারদলীয় জোট সরকারের শাসন আমলের এই দুনর্ীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা যায়।

সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/03/10/w/n_zttzvy

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: