কারাগারে কেমন আছেন তারেক

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান- যার সততা কখনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, তারই জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান কপালে দুর্নীতির কলংক তিলক নিয়ে এখন লৌহ কপাটের অন-রালে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। চক্ষু নিমীলিত করে এই দৃশ্যপটটি মনে মনে আঁকার চেষ্টা করে অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। তাদের মতে, দুর্নীতির তমসালিপ্ত পথে পা না বাড়িয়েও তারেক রহমান অঢেল স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারতেন। মা দু’দুবার প্রধানমন্ত্রী। একটি বড় দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের সম্ভাবনার পথটি তৈরি হয়েছিল। সেই পথে না চলে অতল অন্ধকারের আহ্বানে সাড়া দিলেন তিনি। সেই অন্ধকারের পথটির শেষ প্রানে- ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার জন্য এখন ভূমিশয্যা। কারাগারে কেমন আছেন তারেক? খুব একটা খোঁজখবর পাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য। তবু জানা গেল, কারা হাসপাতালে তিনি গতকাল সারাদিনই ছিলেন বিষণ্ন। চুপচাপ। চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করেছেন। ওষুধ দিয়েছেন। তারেক রহমান ঠাণ্ডাজনিত অসুখে ভুগছেন। এছাড়া তার কোমর ও পায়ে ব্যথা। ডা. আহসান হাবিব ও ডা. হাফিজুর রহমান তার চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন। কারা সুপারের কক্ষে গোয়েন্দা পরিবেষ্টিত তারেক রহমানের সঙ্গে গতকাল সাক্ষাৎ করেছেন তার স্ত্রী ডা. যোবাইদা রহমান, কন্যা জায়মা ও ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন- তারা কথাবার্তা বলেন। তারা তারেক রহমানের জন্য কিছু শুকনো খাবার ও কাপড়-চোপড় নিয়ে যান। আইনগত বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলেন তারা। জেল কোডে একজন বিচারাধীন আসামি যে সুবিধা পান তার অতিরিক্ত কোন সুবিধা তারেক রহমানকে দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জাকির হোসেন। তারেক রহমানকে দু’চার দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে সাধারণ আসামিদের সেলে নেয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় পুলিশ তারেক রহমানকে চারদিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে সোমবার রাতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনের আবেদন না থাকায় আদালত তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।

আরও মামলা দায়েরের প্রস্ততি
এদিকে তারেক রহমানের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা দায়েরের প্রস’তি চলছে। সে সঙ্গে তারেক রহমানের সঙ্গে দুর্নীতিতে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পাঁচটি দেশে তারেকের ব্যাংক একাউন্ট, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন প্রজেক্টে লগ্নিকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, এসব দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া দেশে তারেক ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে গড়ে তোলা শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তদন- শুরু হয়েছে। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদে তারেক রহমান সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তার ৫টি ব্যাংক একাউন্ট থাকার কথা স্বীকার করেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-14

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: