দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এবার অভিযান

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের পৃথক পৃথক তালিকা তৈরি করছে সরকারের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একইসঙ্গে সমাজে ও সহকর্মীদের কাছে দুর্নীতিবাজ হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তাদের জীবনবৃত্তান্ত এবং তাদের অর্থ-সম্পদের হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তবে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এলেই সেটা আমলে নেয়া হবে না। প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই ও পরীড়্গা-নিরীড়্গা করেই কেবল অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরম্ন করা হবে।

এ কর্মকর্তা জানান, যে সমসত্ম সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সাধারণভাবে দুর্নীতির আখড়া হিসাবে জনগণের কাছে পরিচিত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা আগে তৈরী করা হবে। এড়্গেত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিড়্গা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সিএমএমইউ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসা, ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃপড়্গ (ডেসা), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (সিডিএ) এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সিভিল প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি তালিকা এবং বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারী নেতাদের পৃথক একটি তালিকা তৈরীর কাজও চলছে।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের এমন অনেক প্রকৌশলী আছেন যারা এক একজন শত শত কোটি টাকার মালিক বলে প্রচার আছে। দুর্নীতির জন্য প্রধানত রাজনীতিবিদদের ঢালাওভাবে দোষারোপ করা হলেও বাসত্মবে এসব দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী কোন অংশে পিছিয়ে নেই। প্রতিবছরই দেশের উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করে দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা। এ ধরনের প্রকৌশলীদের অনেকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। অনেকে আবার চাকরিতে থাকা অবস্থায়ই বেনামে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু এতদিন তারা পার পেয়ে গেছেন।

এই কর্মকর্তা জানান, দুর্নীতিবাজ হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির পর তাদের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এরপর সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযুক্তদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লড়্গ্যে বিষয়টি সংশিস্নষ্ট কমিটিতে প্রেরণ করা হবে। কমিটির অনুমোদনক্রমেই শুরম্ন হবে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া।

প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনাক্ত করার লড়্গ্যে ইতিমধ্যেই রাজধানী ঢাকার সব ফ্ল্যাট বা এপার্টমেন্ট, রাজধানী সংলগ্ন সকল আবাসিক প্রকল্পের পস্নট ও বাগানবাড়িসমূহের মালিকদের তালিকা তৈরির সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও এ কাজে যুক্ত থাকছে রেজিস্ট্রেশন পরিদপ্তর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এড়্গেত্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সহায়তা নেয়া হবে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-14

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: