হাসিনা-খালেদা আগামী নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন

আগামী নির্বাচনকে কালোটাকা, পেশিশক্তি ও দুর্নীতিমুক্ত করে দেশে অর্থবহ পরিবর্তনের সূচনা করতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার ও নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আইনের সম্ভাব্য সংস্কারসমূহ বাসত্দবায়িত হলে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।
অন্যদিকে বিএনপি-আওয়ামী লীগের যে সকল নেতা অনত্দত বিগত দুটি সংসদে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য হতে পারেন। এর ফলে আগামী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে যোগ্য ও রাজনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার মতো উপযুক্ত লোক খুঁজে পেতে বেগ পেতে হতে পারে বিএনপি-আওয়ামী লীগকে।
এছাড়া ভুঁইফোঁড় রাজনৈতিক সংগঠন, বিশেষ করে যে সব রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থী কখনই নির্বাচিত হতে পারেননি সে সব দলকে অসত্দিত্ব সংকটে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আনত্দর্জাতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে নির্বাচন থেকে ঝরে যেতে পারে বেশক’টি দল। এক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগে মুশকিলে পড়তে হতে পারে জামায়াতে ইসলামীকেও। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত হওয়ার দায়ে নবগঠিত দুএকটি দলসহ কয়েকটি ইসলামি সংগঠনও নিষিদ্ধ হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে নির্বাচনী আইনের সংস্কার আনয়নে এরইমধ্যে একটি খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। এ খসড়ায় কমপক্ষে ২০টির মতো সংশোধনী আনা হবে। এসব সংশোধনীর খসড়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত ১ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে কথা বলেছেন। খসড়া প্রসত্দাব চূড়ানত্দ করতে শিগগিরই আনত্দঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য হতে হলে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নূ্যনতম স্নাতক পাস হতে হবে- এ ধরনের প্রসত্দাব করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসত্দাব চূড়ানত্দ হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সাবেক অনেক এমপি প্রার্থিতার যোগ্যতা হারাতে পারেন। এছাড়া দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার দায়ে খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর তা প্রমাণ হলে তারা নির্বাচন করার যোগ্যতা হারাতে পারেন।
জানা গেছে, বিএনপি-আওয়ামী লীগের যে সকল সাবেক সাংসদ গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তারা কেউ যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে সন্ত্রাস-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হতে পারেন সাবেক এমপি ও আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে তাদেরও দূরে রাখার প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহের কাজ চলছে। এছাড়া ‘৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের অনুচ্ছেদ ১২(ক) সংশোধন করে ঋণখেলাপি ছাড়াও বিদু্যৎ, পানি ও টেলিফোন বিলখেলাপিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ খসড়া নিয়ে আনত্দঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে। নতুন এ আইনে দোষী সাব্যসত্দ হলে যেকোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিধান রাখা হচ্ছে।
সূত্রঃ http://amadershomoy.com/news.php?id=144229&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: