১০টি প্লটসহ ২০ কোটি টাকার সম্পদ সরকারকে দিয়ে মুক্তি চাই

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম অবলীলায় স্বীকার করেছেন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের কথা। বলেছেন, অবৈধ পন্থায় আয় করা সমপদের পুরোটাই সরকারের হাতে তুলে দিয়ে মুক্তি চান, শুরু করতে চান নতুন জীবন। লুটপাট করা প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদের হিসাবও দেন তিনি। তার মধ্যে রয়েছে- ঢাকার বসুন্ধরা সিটিতে ১০টি প্লট, যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। গুলশানে ২৯শ’ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য অনুমান ২ কোটি টাকা। উত্তরায় ৩৬শ’ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য অনুমান দেড় কোটি টাকা। বগুড়ার সিরাজগঞ্জ রোডে রয়েছে মুর্শেদ পেট্রোল স্টেশন, ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট লিজিং কোমপানিতে (আইডিএলসি) রয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বন্ড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১ কোটি টাকা এবং সিলোন ব্যাংকে রয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত সাইফুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার প্রায় ১ ঘণ্টা নগর ভবন ঘেরাও দিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন- এ অভিযান চলে। আটকের ১ ঘণ্টা আগে যৌথ বাহিনীর একটি টিম নগর ভবনে সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক চলার সময়েই মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সাইফুল ইসলামকে ডেকে সাময়িক বরখাসে-র নির্দেশপত্র হাতে তুলে দেন। বরখাসে-র পরপরই যৌথ বাহিনী তাকে আটক করে র‌্যাব-৯ এর সদর দফতরে নিয়ে যায়।
এর পর জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই প্রায় ২০ কোটি টাকার সমপদের হিসাব দিলেও যৌথ বাহিনীর ধারণা, আটক কর্মকর্তার নামে-বেনামে ১শ’ কোটি টাকার সমপদ থাকতে পারে। সাইফুল ইসলামের নামে-বেনামে থাকা সব ব্যাংক একাউন্ট ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের খোঁজ নিলে তার প্রকৃত সমপদের হিসাব জানা যাবে। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অত্যন- স্নেহভাজন কর্মকর্তা সাইফুলকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নিয়ে আসার পর মাত্র ক’বছরের মধ্যেই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নগর ভবনের কর্মকর্তারা জিম্মি হয়ে পড়েন তার কাছে। জনপ্রতিনিধিরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন নগর ভবনে। সাইফুল মন্ত্রীর স্নেহভাজন হওয়ায় মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে জোট বাঁধেন তিনি। শুরু হয় লুটপাট। সোমবার দেয়া সাইফুলের অবৈধ সমপদের সিংহভাগই সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে আত্মসাৎ করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় সমপদ লুটপাটের এই মহোৎসবে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে তারা ভাগে নেন সময়ের ব্যবধানে- এমন অভিযোগ রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাইফুলকে আটকের আগে বিকাল ৩টায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সাইফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস- করার জন্য মেয়রকে টেলিফোনে নির্দেশ দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই যৌথ বাহিনীর সদস্যরা নগর ভবন ঘিরে ফেলে। এসময় শত শত উৎসুক জনতা নগর ভবনের আশপাশে ভিড় জমায়। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-14

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: