তারেকের ঘনিষ্ঠজনদের কেউ হবে আসামি, কেউ সাক্ষী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে বুধবার এক মাসের আটকাদেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে তারেক রহমানের দেয়া তথ্যের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে থাকা তারেকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দেয়া তথ্য যাচাই করছে টাস্কফোর্স। তারেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আগে তার আরও কয়েক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক পার্টনারকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

একই সঙ্গে তারেকের ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকোর সম্পদের যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এসব তারেকের টাকায় গড়া হয়েছে বলে জেআইসিতে তারেক রহমান জানিয়েছেন। একসময় যারা তারেকের খুব কাছের লোক ছিল এখন তাদেরই খোঁজা হচ্ছে। সূত্র জানায়, তারেকের যে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে তার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তারেকের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে কে আসামি হবে আর কাকে সাক্ষী বানানো যাবে তা নির্ধারণের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বান্ধবী অদিতি সেনগুপ্তাকে ধানমণ্ডি থানার একটি জিডির পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশের ১৬(২) ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সূত্র জানায়, হাওয়া ভবনের অনেক খবর অদিতির জানা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারেক ও মামুন সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই জেলহাজতে পাঠানো হয়।
সূত্র জানায়, অদিতিসহ আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। হাওয়া ভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু ও টিংকুর সহযোগী আবদুর রাজ্জাক যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তারেক রহমান ও মামুনের দুর্নীতি সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য দেয়। মূলত তারেকের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু, টিংকু, অদিতিসহ আরও কয়েকজনের জবানবন্দি থেকে ইতিমধ্যে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলার চার্জশিট তৈরি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মাহবুব মোরশেদ জানান, মামলার প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ হয়েছে। রোববার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তারেকের বিদেশে ৫টি ব্যাংক একাউন্টে কি পরিমাণ অর্থ জমা আছে তা টাস্কফোর্স তদন্ত করছে। সূত্র জানায়, এসব দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া দেশে তারেক ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে গড়ে তোলা শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদে তারেক রহমান সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তার ৫টি ব্যাংক একাউন্ট থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি কিভাবে এ অর্থ আয় করেছেন সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে তারেক রহমানের ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকোর সম্পদের খোঁজ-খবর নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম কাজ করছে। জেআইসিতে তারেক রহমান জানান, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তার ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকো, তার মামা সাঈদ এস্কান্দার, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন নিয়ন্ত্রণ করেন। শিপিং, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ডিস্টিলারি ও খাম্বা ব্যবসা এই তিনজন নিয়ন্ত্রণ করেন। এর মধ্যে বিজ্ঞাপনী সংস্থা আরাফাত রহমান কোকো নিয়ন্ত্রণ করেন। দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন কোকোর প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মাণ ও প্রচার করা হয়। আবার বড় ধরনের বিজ্ঞাপন নির্মাণ ও প্রচারে কমিশন আদায় করা হতো কোকোর বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান থেকে। কোকো নৌ-পরিবহন ব্যবসা, টেক্সটাইল মিল ও বিজ্ঞাপনী সংস্থা পরিচালনা করেন। তাই ওইসব সম্পদের হিসাব তিনি জানেন না। জেআইসির এসব তথ্য দুদকের টাস্কফোর্সের কাছে দেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। টাস্কফোর্স কোকোকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

এখনও হাসপাতালে তারেক
পত্রিকা পড়ে, চিকিৎসাধীন কয়েদিদের সঙ্গে কথা বলে আর শুয়ে-বসেই কারা হাসপাতালে সময় কাটছে তারেক রহমানের। ডাক্তারের পরামর্শে এক গ্লাস গরম দুধ, একটি ডিম এবং দুটি সাগরকলা বাড়তি খাবার হিসেবে দেয়া হয়েছে তাকে। কারাগার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, আরও দু-তিনদিন তারেককে হাসপাতালে রাখা হতে পারে। ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন আবদুল আউয়াল বুধবার দুপুরে তারেক রহমানকে নতুন চিকিৎসাপত্র দিয়েছেন। ডিআইজি প্রিজন মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী জানান, তারেক রহমানকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু ওষুধপথ্যও দেয়া হয়েছে।
তাকে আরও দু-তিনদিন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। এর আগে কারা হাসপাতালের চিকিৎসকরাই তারেকের চিকিৎসা করছিলেন। জানা গেছে, সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে থাকতে চাচ্ছেন না তারেক। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে গোঁ ধরেছেন- তাকে যেন পৃথক রাখা হয়। তাকে বোঝানো হয়েছে, জেল কোডের ১৮ ক্যাটাগরির বাইরে ডিভিশন দেয়া যায় না। এর কোনটির আওতায় তিনি পড়ছেন না। মাথাব্যথা আর সামান্য জ্বর থাকায় তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। তবে হাসপাতালে থাকার মতো গুরুতর অসুস্থও তিনি নন। কারা হাসপাতালের ডা. আহসান হাবিব এবং ডা. হাফিজুর রহমানের দু’দিনের চিকিৎসায় তারেক এখন অনেকটা ভালো।

কারা সূত্র বলেছে, তারেক রহমান যতটা না অসুস্থ তার চেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস-। দিনের বেশিরভাগ সময় শুয়ে কাটিয়েছেন। দু’জন কয়েদি তারেক রহমানের সেবা-শুশ্রূষা করছে। ফুট-ফরমায়েশ খাটছে। তারেককে কাছে পেয়ে ওই কয়েদিরা খুব খুশি। কিসে তারেক খুশি হবেন তা নিয়ে তারা ব্যস- থাকে সবসময়। কারা হাসপাতালের দোতলার যে কক্ষে তার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সেখানে আরও তিন হাজতি চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরা হচ্ছে- কবীর, জিয়াউল হক ও সজীব। এদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন তারেক।

সূত্র বলেছে, সাধারণ হাজতিদের মতোই বুধবার সকালে সবজি দিয়ে রুটি খেয়েছেন তারেক রহমান। সঙ্গে দেয়া হয়েছিল একটি ডিম, কলা আর এক কাপ গরম দুধ। হাসপাতালের বেডে বসে তারেক রহমানসহ ৪ জন একসঙ্গে নাস্তা করেন। দুপুরে খেতে দেয়া হয় সাদা ভাত, সবজি, মাছ ও ডাল। সূত্র জানায়, সকালে নাস্তার আগেই তারেক রহমানকে সরবরাহ করা হয় চারটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-15

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: