বিএনপি স্থবির, আওয়ামী লীগে অগ্নু্যৎপাত

নেতৃত্ব শূন্যতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে বিএনপি এখন স্থবির। অন্যদিকে নেতাদের কারাগারে ও গ্রেফতারের মুখে রেখে দলীয় প্রধানের আমেরিকা সফরের সিদ্ধানত্দে আওয়ামী লীগের ভেতরে শুরু হয়েছে অগ্ন-্যৎপাত। এ নিয়ে দল দুটির নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। সাবেক তিন মন্ত্রী ও সাংসদসহ কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। তাদের মতে, সৃষ্টির পর থেকে গত ৩০ বছরে বিএনপিকে এতোবড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়নি। এমনকি জিয়া হত্যা, বিচারপতি সাত্তার সরকারের পতন, এরশাদের হাত ধরে মওদুদ আহমদ ও শাহ মোয়াজ্জেমের মতো নেতাদের দলত্যাগ, কেএম ওবায়েদুর ও জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আলাদা বিএনপি গঠন, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠান, বি চৌধুরী ও পরে কর্নেল অলির পৃথক দল গঠনেও দলটিকে এতোটা বিপর্যয়ে পড়তে হয়নি। বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে জনবিচ্ছিন্ন, দলের সিনিয়র নেতাদেরকে দুর্নীতির দায়ে এবং সর্বশেষ তারেক রহমানকে গ্রেফতারের পর দলটি এখন সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনাহীন ও স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ গত ২০০২ সাল থেকে তারেক রহমানের মাধ্যমেই দলটির অধিকাংশ সাংগঠনিক সিদ্ধানত্দ আসতো।
এর আগে দলের মূল সিদ্ধানত্দগুলো আসতো চেয়ারপারসনের কাছ থেকে। সেনানিবাসের বাসায় বসবাসের কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অন্য নেতাদের কোনো যোগাযোগ নেই। ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় দলের কার্যালয় দুটিও তালাবদ্ধ। স্থায়ী কমিটি বা দলের উপদেষ্টাদের সঙ্গেও খালেদা জিয়ার কোনো যোগাযোগ নেই। দলের অনেক সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা এখন কারাবন্দি। এছাড়া ১১ জানুয়ারির পর সরকার দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেয়া নানান পদক্ষেপ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার নীরবতা নিয়ে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন এমন নেতারা ক্ষুব্ধ।
বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওয়া ভবনের সুবিধাভোগীরা দলকে আরো বেশি ক্ষতিগ্রসত্দ করছে। তারাই এখন গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারকে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করছে। এ কারণেই এদের একজন ছাড়া বাকিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। বিএনপি নেতাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, হারিছ চৌধুরী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ড. ফিরোজ, শামসুল আলম, এপিএস আব্দুল মতিন, তারেকের পিএস অপু, আশিক ইসলামসহ ক্ষমতাধরদের নাম। এছাড়া অনেককে মনে করা হচ্ছে সরকারের অনুচর বা দালাল। ফলে কেউ মন খুলে কারো সঙ্গে কথা বলছেন না। এ অবিশ্বাস দলকে আরো বেশি কেন্দ্র বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
অন্যদিকে আজ শেখ হাসিনা তার পুত্রবধূ এবং নাতনিকে দেখতে আমেরিকা যাচ্ছেন এ খবরে সভানেত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ দলের অনেক নেতাকর্মী। বিশেষ করে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকে কারাগারে এবং শত শত নেতাকর্মীকে পলাতক ও অভিভাবকহীন ফেলে রেখে তার বিদেশ যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করছেন নেতারা। তারা বলেন, শেখ হাসিনা এখন আর একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্য নন। গোটা দেশের লাখ লাখ পরিবারের সদস্য প্রতিনিয়ত তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার বক্তব্য, কথা এবং উপস্থিতিতে এরা সাহস ও শক্তি পায়। এ পরিস্থিতিতে তার দেশে অবস্থান না করা দলকে হতাশ করবে, কর্মীরা অসহায় হয়ে পড়বে। এরইমধ্যে তার ওপর নেতাকর্মীদের যে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে এর পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে। আর এর সুযোগ নিতে পারে অন্য একটি শক্তি। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে পুত্রবধূ ও নাতনির অসুস্থতার অজুহাত তার কাছে বড় হওয়া উচিত নয়।

সূত্রঃ http://amadershomoy.com/news.php?id=144545&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: