গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারিতে অর্ধশতাধিক কোটিপতি চিকিৎসক

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারিতে রয়েছেন দেশের অর্ধশতাধিক কোটিপতি চিকিৎসক। এছাড়া সব চিকিৎসকের সহায়সম্পত্তির হিসাব ও পেশাগত রেকর্ড খতিয়ে দেখছে ওইসব গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যেই রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালের প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে কর্মরত চিকিৎসকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল। তিনদিনের মধ্যে ফরম পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ছাপানো ফরমের মাধ্যমে চিকিৎসকের নাম, পদবি, কত টাকা বেতন পান, প্রাইভেট প্রাকটিস করেন কিনা, করলে কোথায়, প্রতিদিন কতজন রোগী দেখেন, কত টাকা পান ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসকদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সূত্র জানায়, অর্ধশতাধিক কোটিপতি চিকিৎসকের তালিকা তৈরি করে তাদের সহায়সম্পত্তি ও আয়করের হিসাব মিলিয়ে দেখছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হতে পারে। জানা গেছে, র‌্যাব-২ এর দফতর থেকে সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট, হূদরোগ ইন্সটিটিউট, পঙ্গু হাসপাতাল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রধানদের কাছে চিকিৎসকদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চিঠি পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন নামিদামি চিকিৎসকরা দুঃশ্চিন্তাগ্রস- হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, রাজধানীতে যেসব চিকিৎসকের কাছে রোগীর ভিড় বেশি এ ধরনের চিকিৎসকের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তালিকায় যেসব চিকিৎসক রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-

নিউরোসার্জন প্রফেসর ডা. দীন মোহাম্মদ, হেপাটোলজির প্রফেসর মবিন খান, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজির অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এইচএস ফিরোজ, পেডিয়েট্রিক অনকোলজিস্ট ডা. সেলিমুজ্জামান, পেডিট্রিশিয়ান শহীদ করিম, ইউরোলজিস্ট আবদুস সালাম, জেনারেল সার্জন মতিউর রহমান, কার্ডিওলজিস্ট ডা. বাশার (ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ), ডা. জামান, ডা. একে আজাদ (বারডেম), সরদার নাঈম (বারডেম), ডা. তামজিদ (বারডেম), ডা. লুৎফর রহমান, ডা. মতিউর রহমান, ডা. রেয়ান আনিস (ল্যাভএইড), চর্ম বিশেষজ্ঞ রাশেদ আহমেদ, মাহিদুল ইসলাম, নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা. মজুমদার (হলিফ্যামিলি হাসপাতাল), নিউরোসার্জন ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ডা. মোঃ আফজাল হোসেন, গাইনোকোলজিস্ট প্রফেসর কোহিনুর বেগম, ডা. সায়েবা আক্তার, লায়লা আর্জুমান্দ বানু, ডা. হাফিজ, টেস্টটিউব বিশেষজ্ঞ ডা. পারভীন ফাতেমা, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়াক সার্জন মমিনুজ্জামান, মোঃ জাহাঙ্গীর, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এমএন আলম, নিউরোমেডিসিনের ডা. একেএম আনিসুল হক, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোঃ হানিফ, অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা, অধ্যাপক এমআর খান (শিশু হাসপাতাল), অর্থপেডিকস সার্জন প্রফেসর আমজাদ হোসেন, ডা. মোঃ ইদ্রিস আলী, অধ্যাপক রুহুল হক, পেডিয়েট্রিক সার্জন অধ্যাপক মোঃ শফিকুল হক, রুহুল আমিন, ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ, ডা. আইনুন আফরোজ, ডা. মোঃ আবদুল মান্নান ও ডা. সেলিম সাকুর।

জানা গেছে, তালিকাভুক্ত চিকিৎসকদের অনেকের কাছে গড়ে প্রতিদিন ১শ’র বেশি রোগী আসেন। অভিযোগ রয়েছে, সর্বনিম্ন ৩শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা ভিজিট নিলেও তারা রোগীদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলেন না। কোন কিছু জানতে চাইলে অনেক সময় রোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। অনেক চিকিৎসকের কাছে সিরিয়াল পেতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়। আবার তাদের পিয়নদের হাতে নগদ টাকা ধরিয়ে দিলে খুব তাড়াতাড়ি সিরিয়াল পাওয়ার তথ্যও রয়েছে। তালিকাভুক্ত চিকিৎসকদের অধিকাংশেরই একাধিক বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে কম আয়কর পরিশোধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এই চিকিৎসকদের অনেকেই এখন বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানী থেকে ঢাকার অদূরের বিভিন্ন জেলা- টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীতে রোগী দেখতে চলে যান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত অনেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের হতে পারে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-18

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: