টাইগারের গর্জনে কাঁপছে ভারত

বাঘের গর্জনে কাঁপছে ভারত। বিশ্বকাপে আরো একটি অঘটন ঘটানো, চমক জাগানোর পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের কথা সত্য হতে চলেছে। মাত্র ১৯১ রানে ভারতকে আটকে রেখে ২০০৭ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয়ার অপেক্ষায় টাইগাররা।

অনবদ্য, অসাধারণ নৈপুণ্য পুরো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। মাশরাফি ৪, রফিক ও রাজ্জাক ৩টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন, সাকিব, রাসেল তাদের যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন। আলোচিত, বিতর্কিত উইকেটরক্ষক মুশফিক রহিম শচীন টেন্ডুলকারের যে ক্যাচটি দুরন্ত প্রচেষ্টায় ধরলেন তাতে নিশ্চয়ই খালেদ মাসুদও তাকে ক্ষমা করে দেবেন। হাবিবুল বাশার, আফতাব আহমেদ, আশরাফুল, তামিম, শাহরিয়ার নাফীস এমনকি দ্বাদশ ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য পর্যনত্ম জান বাজি রেখে যে ফিল্ডিংগুলো করলেন তাতে জয়ের নেশাই ফুটে উঠল বাংলাদেশ শিবিরে।

ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভাল ছিল যেন একখণ্ড বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে যেমন রাত জেগে মানুষ খেলা দেখেছে, সৃষ্টিকর্তার কাছে আর্জি জানিয়েছে নিজের দলের জন্য। ঠিক তেমনি স্টেডিয়ামে হাজির অধিকাংশ দর্শকের সমর্থন ছিল বাংলাদেশের প্রতি। প্রিয় লাল সবুজ পতাকা গায়ে জড়িয়ে তারা হয়ে উঠেছিলেন একেকজন বাংলাদেশী।

টস জয়ী ভারত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধানত্ম নিয়ে কি ভুল যে করেছিল তা টের পেয়েছে হাড়ে হাড়ে। শুরম্নতে ৭২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর সৌরভ ও যুবরাজ সিং ৫ম উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়ে তোলেন। তারপর রফিক, রাজ্জাক, মাশরাফি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হানেন ভারতীয় শিবিরে। মাত্র ২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমত ধ্বংসসত্মূপে পরিণত হয় ভারত। রফিক তার শেষ ওভারে সৌরভ গাঙ্গুলী, মহেন্দ্র সিং ধোনীকে আউট করেন। মাশরাফি দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলে ফিরিয়ে দেন আগারকারকে। অবশ্য ধ্বংসলীলার শুরম্ন করেন রাজ্জাক, যুবরাজকে ফিরিয়ে দিয়ে।

শেষ উইকেটে জহির খান ও মুনাফ প্যাটেল ৩২ রান যোগ করে বাংলাদেশের অপেড়্গা বাড়ান। শেষ পর্যনত্ম মাশরাফির বলে মুনাফ আউট হলে ৩ বল আগে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।

টুর্নামেন্ট শুরম্ন হয়েছে চারদিন আগে। ইতিমধ্যে ১৪ দলের প্রথম ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচ। আর তাই দু’দলের মধ্যেই ছিল টেনসন। গত আসরের রানার্সআপ ভারতকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট মনে করার ফলে তাদের উপর স্নায়ুর চাপটা ছিল বেশি। আর বাংলাদেশ দ্বিতীয় পর্বে ওঠার টার্গেট নিয়ে একমাস আগে খেলতে যায় নবম বিশ্বকাপে এবং ক্যারিবিয়ান মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচে একে একে বারমুডা, কানাডার পর নিউজিল্যান্ডকে হারাল সাড়া পড়ে যায় ক্রিকেট ভুবনে। আর সেই থেকেই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরম্ন করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। প্রথম ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত হওয়ায় তাদের টেনসনও বেশি ছিল। এ অবস্থায় কুইন্স পার্ক ওভালে টস জিতে রাহুল দ্রাবিড় ব্যাটিংয়ে নেমে চমকে দেন সবাইকে। মাশরাফি মোর্তজার সামনে ভারতীয় ওপেনিং জুটির ত্রাহি অবস্থা। প্রথম ওভারেই পরাসত্ম সেহবাগ। থার্ড আম্পায়ারের দেয়া বেনিফিট অব ডাউটে বেঁচে যান শেষ পর্যনত্ম। ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন নড়াইল এক্সপ্রেস। নিজের পরের ওভারেই পরিষ্কার বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন সেই সেহবাগকে (২ রান)। মিডিল স্ট্যাম্প উড়ে যায় অভিজ্ঞ ওপেনারের দলীয় ৬ রানে। শেহবাগের ব্যাড প্যাঁচ অব্যাহত রয়েছে। নতুন ব্যাটসম্যান উথাপ্পা। মাশরাফি ও ন্যাটাপেসার সৈয়দ রাসেলের সামনে ত্রাহি অবস্থা তার। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ডবল ফিগারে পৌঁঁছানোর পরই ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় মাত্র ১০ রানে। আফতাব গালিতে ছুটে গিয়ে সহজ ক্যাচ লুফেন, দলীয় ২১ রানে। গাঙ্গুলীর সাথী হন শচীন টেন্ডুলকার। একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির রেকর্ডের (৪১টি) অধিকারী এই তারকার বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে এখনো শতরানের দেখা পাননি। বাংলাদেশের বোলারদের বিরম্নদ্ধে গতকালও তিনি ছিলেন অস্বসিত্মতে। রাসেলের বলে একবার এলবিডবিস্নউর জোরালো আবেদন নাকচ করেন অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার ডেভিস। ১৪ ওভার পর মাশরাফির পরিবর্তে বাশার বল তুলে দেন বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাকের হাতে। অস্বসিত্মর মধ্যে পাঁচ বল মোকাবিলার পর ওভারের শেষ বল শচীনের ব্যাটের ভেতরের কাণায় লেগে প্যাড ছুঁয়ে উইকেট রড়্গক মুশফিকের হাতে। দু’বারের চেষ্টায় ক্যাচ লুফে নেন আলোচিত তরম্নণ উইকেট রড়্গক। ৪০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যসত্ম অবস্থায় ভারত। গাঙ্গুলীর সাথে যোগ দেন অধিনায়ক দ্রাবিড়। টাইগারদের পেস ও স্পিনের সামনে তিনিও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না। ২১তম ওভারে রফিক বোলিং শুরম্ন করে প্রথম ওভারেই এলবিডবিস্নউ আউট করেন দ্রাবিড়কে ব্যক্তিগত ১৪ রানে।

ভারত রান বল ৪ ৬

সৌরভ গাঙ্গুলী ক রাজ্জাক ব রফিক ৬৬ ১২৯ ৪ –

সেহবাগ বোল্ড মাশরাফি ২ ৬ – –

রবিন উথাপ্পা ক আফতাব ব মাশরাফি ৯ ১৭ ১ –

শচীন টেন্ডুলকার ক মুশফিক ব রাজ্জাক ৭ ২৬ ১ –

রাহুল দ্রাবিড় এলবিডবিস্নউ ব রফিক ১৪ ২৮ – –

যুবরাজ সিং ক বাশার ক রাজ্জাক ৪৭ ৫৮ ৩ ১

মহেন্দ্র সিং ধোনি ক আফতাব ব রফিক ০ ৩ – –

হরভজন সিং বোল্ড রাজ্জাক ১ ৩ – –

আগারকার ক মুশফিক ব মাশরাফি ০ ২ – –

জহির খান অপরাজিত ১৫ ১৭ ২ –

মুনাফ প্যাটেল ক রাজ্জাক ব মাশরাফি ১৫ ১৪ ২ –

অতিরিক্ত (লে বা-৪, ও-৪, নো-৭) ১৫

অল আউট (৪৯.৩ ওভার) ১৯১

উইকেট পতনঃ ১/৬ (সেহবাগ, ২.১ ওভার), ২/২১ (উথাপ্পা, ৬.৪), ৩/৪০ (টেন্ডুলকার, ১৪.৬), ৪/৭২ (দ্রাবিড়, ২৪.১), ৫/১৫৭ (যুবরাজ, ৪২.৪), ৬/১৫৮ (সৌরভ, ৪৩.২), ৭/১৫৯ (ধোনি, ৪৩.৫), ৮/১৫৯ (হরভজন, ৪৪.২), ৯/১৫৯ (আগারকার, ৪৫.১), ১০/১৯১ (প্যাটেল, ৪৯.৩)।

বোলিংঃ মাশরাফি বিন মোর্তজা ৯.৩-২-৩৮-৪, সৈয়দ রাসেল ১০-২-৩১-০, আব্দুর রাজ্জাক ১০-২-৩৮-৩, সাকিব আল হাসান ১০-০-৪৪-০, মোহাম্মদ রফিক ১০-১-৩৬-৩। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-18

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: