তারেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট আজ ছোট ভাই কোকোও ফেঁসে যাচ্ছে

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় চাঁদাবাজির মামলার চার্জশিট আজ রবিবার সিএমএম আদালতে দাখিল করবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই মামলায় তারেক রহমান প্রধান আসামি এবং দ্বিতীয় আসামি তার ব্যক্তিগত সচিব মিয়া নূর উদ্দিন অপু। গত ৮ মার্চ ঠিকাদার ব্যবসায়ী আমিন আহমেদ ভুঁইয়া বাদি হয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করেন। এজাহারে তিনি অপুকেও অভিযুক্ত করেছেন। মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই মাহবুব মোর্শেদ তদনত্ম করে এই চাঁদাবাজির প্রমাণ পান। এছাড়া তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব অপু বসের দাপট দেখিয়ে কিংবা নাম ভাঙ্গিয়ে কোটি কোটি টাকা সম্পদের মালিক হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা তদনত্ম করতে গিয়ে অপুর এই অবৈধ আয়ের সন্ধান পায়।

তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর বিরম্নদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঠিকাদার ব্যবসায়ী আমিন আহমেদ ভুঁইয়াকে তারেক রহমান বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে এক কোটি টাকা দেয়ার জন্য বলেন। গত ৪ জানুয়ারি তিনি ও অপর তিন সঙ্গীকে নিয়ে আমিন আহমেদ ভুঁইয়া হাওয়া ভবনে এক কোটি টাকার চেক নিয়ে যান। ঐ সময় তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব অপু চেক গ্রহণ না করে নগদ টাকা আনার জন্য তাকে চাপ দেয়। আমিন আহমেদ ভুঁইয়া ঢাকা ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে এক কোটি টাকা তুলে সঙ্গীদের নিয়ে হাওয়া ভবনে যান। অপু তারেক রহমানের পড়্গে এক কোটি টাকা গ্রহণ করে। পরদিন তারেক রহমান ফোন করে এক কোটি টাকা পাওয়ার কথা আমিন আহমেদ ভুঁইয়াকে জানিয়েছেন। ৭ মার্চ রাতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে তারেক রহমান গ্রেফতার হন। পরদিন গুলশান থানায় আমিন আহমেদ ভুঁইয়া বাদি হয়ে তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা আলামত হিসেবে এক কোটি টাকা তোলার চেক ও ব্যাংকের হিসাব শাখার স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেছেন। সাড়্গী হিসেবে বাদি ও তদনত্মকারী কর্মকর্তাসহ ১২ জনের নাম চার্জশিটে উলেস্নখ করা হয়। দ্রম্নত বিচার আইনে মামলার তদনত্ম সাত কার্যদিবসে শেষ করে চার্জশিট প্রদান করার বিধান। আজ শেষ দিন। এ কারণে এই মামলার চার্জশিট আজ দেয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। এই মামলায় দুই বছর থেকে পাঁচ বছর পর্যনত্ম শাসিত্মর বিধান রয়েছে।

তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব অপু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহপাঠাগার সম্পাদক ছিল। ১৯৯২ সাল থেকে বিভিন্ন স্থানে চাকরির জন্য সে ঘোরাফেরা করে। শরীয়তপুর জেলার গোসাইর হাট থানার গোয়ালকান্দি গ্রামে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে অপুর জন্ম। সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমানউলস্নাহ আমানের বডিগার্ড হিসেবে অপুর আত্মপ্রকাশ। ২০০২ সালে অপু তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব নিযুক্ত হয়। এরপর থেকে অপুর উত্থান। ড়্গমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ বদলি বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় অপু। তারেক রহমানকে দেয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ছিকেফোঁটা পেয়েও অপু কোটিপতি বনে গেছে। লালমাটিয়া সি বস্নকে ও বনানীতে অপুর একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। সে বিলাসবহুল গাড়িতে যাতায়াত করে। ব্যক্তিগত সচিব হলেও অপু তারেক রহমানের ক্যাডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। বিভিন্ন সংস্থা তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম করতে গিয়ে অপুর অনেক দুর্নীতির তথ্য পায় বলে জানা যায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ড়্গমতার অপব্যবহার করে সিটি কর্পোরেশন থেকে একচেটিয়া বিজ্ঞাপন ব্যবসা দখল করে নেন। তিনি ভিআইপি সড়কসহ রাজধানীর গুরমুত্বপূর্ণ স্থানে বড় বড় বিলবোর্ড তৈরি করে বিজ্ঞাপনের ব্যবসা করেছেন। যা বিজ্ঞাপন নীতির লংঘন। অন্যান্য বিজ্ঞাপনী সংস্থা এই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়। কোকো ড়্গমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এই অভিযোগে কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি চূড়ান্ত। আজ রবিবার এই মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা যায়। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-18

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: