বাংলাদেশ কাল ঘুমায়নি আনন্দে কাঁপছে সারাদেশ

বাংলাদেশ কাল ঘুমায়নি। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল না কোথাও। ঘরে ঘরে জ্বলেছে আলো। উল্লাসে মেতেছে মানুষ। আনন্দে কাঁপছে দেশ। জয়ের উত্তেজনা সবখানে। পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভাল স্টেডিয়ামে টাইগারদের উল্লাস আর তাদের স্বদেশে ক্রিকেটভক্ত লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস একাকার হয়ে গেছে। ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ঘরে ঘরে টিভি পর্দার সামনে কাল সারারাত ছিল উত্তেজনার সঙ্গে উচ্ছ্বাস। ছিল আনন্দ। রাস্তায়ও বেরিয়ে এসেছে অনেকে। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয়, সারাদেশেই ছিল জয়ের আনন্দ।

কাল সারাদিন একই গল্প- ক্রিকেট। বিশ্বকাপ ওয়ার্মআপ ম্যাচে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে টাইগাররা। ২০০৩-এর বিশ্বকাপের চেয়ে অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী বাশার বাহিনী। দেশে অগণিত ক্রিকেটামোদীও আশায় বুক বেঁধেছেন, নিশ্চয়ই টাইগাররা হতাশ করবে না। কিন’ প্রথম ম্যাচ বিশ্বকাপ বিজয়ী ভারতের বিরুদ্ধে। যে দলে রয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়ের মতো দুনিয়া কাঁপানো ব্যাটসম্যান। পোর্ট অব স্পেনে টাইগাররা আর বাংলাদেশে আবালবৃদ্ধবনিতা ক্রিকেটভক্ত সবাই টেনশনে। শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে টাইগাররা কি দাঁড়াতে পারবে? সারাদিন টিভির সামনে বসার প্রস্তুতির পাশাপাশি এ প্রশ্ন উঁকি দেয় সবার মনে।
অভিজ্ঞজনরা মন্তব্য করেন- যদি বাংলাদেশ টসে জিতে তাহলে হয়তো একটা আশা আছে। সন্ধ্যায় দ্রাবিড় টস জিতে ফিল্ডিংয়ে পাঠান টাইগারদের। শুরু হয় বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপ ক্রিকেটযুদ্ধ। মাত্র ৬ রানের মাথায় মাশরাফি ওপেনার সেহওয়াগকে সাজঘরে পাঠালে আনন্দ-উল্লাসে কেঁপে ওঠে যেন গোটা বাংলাদেশ। তারপর রবিন উথাপ্পা বিদায় নেন দলীয় ২১ রানের মাথায়। ৪০ রানের সময় ক্রিকেটের গোল্ডেনবয় সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকার স্পিনার আবদুর রাজ্জাকের কাছে ধরাশায়ী হলে তরুণ-তরুণীর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভেসে যায় রাজধানী ঢাকা। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ভারতের অধিনায়ক দলীয় ৭২ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে গেলে টিভি সেটের সামনে কেউ যেন আর সুস্থির থাকতে পারেননি।
উল্লাসধ্বনি আর একে অপরকে জড়িয়ে নাচানাচির মাধ্যমে দর্শকরা আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন। বিশ্বকাপ দেখার জন্য সবচেয়ে বড় আয়োজন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। টিএসসির সবুজ চত্বরে বসানো হয় বিশাল টিভি স্ক্রিন। রাতে হলের ছাত্ররা টিএসসিতে একসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ টিভিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেন। এর বাইরে প্রত্যেক হলে দেয়া হয়েছে ৪৪ ইঞ্চির একজোড়া করে টিভিসেট। বাংলাদেশের খেলা উপলক্ষে এমনিতেই সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট সুনসান হয়ে যায়। পাড়া-মহল্লায় তরুণদের বড় টিভি পর্দার সামনে বসে খেলা উপভোগ করতে দেখা যায়। পোর্ট অব স্পেনে টাইগারদের দুর্দান- বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে যেন জ্বলে ওঠে বাংলাদেশ দল। আর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সেই আবেশে উন্মাতাল হয় লাখ লাখ ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-18

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: