বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধানে বিএনপি

চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে পর্যুদস্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এখন রীতিমতো প্রশ্নের মুখে। তাঁর পুত্র তারেক রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে সহসা দলের নেতৃত্বে ফিরবেন-এমনটিও আশা করছেন না বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী। বরং তারা দলের আজকের পরিণতির জন্য তারেক ও তার সহযোগীদের গত ৫ বছরের নানা কর্মকান্ড এবং সেসবের ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নীরবতাকেই দায়ী করছেন। এ পরিস্থিতিতে দলের অস্তিস্ত রক্ষা এবং নেতা-কর্মীদের নিরাপদ করার লক্ষে বিএনপিতে বিকল্প নেতৃত্বের অনুসন্ধানে তৎপর হয়েছেন দলটির বেশ ক’জন নেতা।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে বিএনপির বিভিন্ন সত্মরের বিপুলসংখ্যক নেতা গ্রেফতার হলেও আজ পর্যনত্ম এ বিষয়ে দলের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো কোন অবস্থান নেয়া হয়নি। পুত্র তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে বেগম খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন হিসাবে পুরোপুরিই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে গ্রেফতার আতঙ্কে দলটির বিভিন্ন সত্মরের অধিকাংশ নেতা পলাতক জীবনযাপন করছেন। দলীয় হাইকমান্ডের পড়্গ থেকে তাদেরকে কোন রকম দিক-নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে দলে বিকল্প শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরম্ন করেন বিএনপির প্রভাবশালী কয়েক নেতা। ইতিমধ্যে তারা একাধিক দফায় বৈঠকে বসে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। দিনে দিনে প্রক্রিয়াটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

সংশিস্নষ্ট একজন নেতা ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে বলেন, তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে এ পর্যনত্ম দলের মহাসচিবসহ কয়েকজন নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সেনানিবাসের বাসভবনে গিয়ে সাড়্গাৎ করেছেন। দেখা করেছেন দলের মহানগর কমিটির সভাপতি ও ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই তিনি কথা বলেছেন শুধুমাত্র তারেক রহমান প্রসঙ্গ নিয়ে। দলের সাংগঠনিক ভিত্তি রড়্গা করা, গ্রেফতার হওয়া কিংবা পালিয়ে বেড়ানো নেতাদের বিষয়ে তেমন কিছুই বলেননি দলের চেয়ারপারসন।

মূলত এ খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই দলের প্রভাবশালী নেতাদের একটি অংশ বিকল্প ভাবনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ শুরম্ন করেন। তারা দলের শীর্ষ পদে বেগম খালেদা জিয়ার বিকল্প একজন নেতা মনোনয়নের বিষয়ে কথা বলছেন পরস্পরের সঙ্গে। এ প্রক্রিয়ার সূচনালগ্নে উদ্যোক্তা ছিলেন দু’জন সাবেক প্রতিমন্ত্রী। গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েক দফা বৈঠকে মিলিত হবার পর এখন প্রক্রিয়াটির সঙ্গে আরো বেশ ক’জন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও অর্ধশতাধিক সাবেক সংসদ সদস্য যুক্ত হয়েছেন। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো এসব সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি প্রায় দিনই বৈঠকে বসছেন গুলশানে একজন সাবেক এমপি’র বাসভবনে। এছাড়া উদ্যোক্তা দুই সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনেও কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়। প্রথমদিকে অবশ্য তারা দলের গুরম্নত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সাবেক এক মন্ত্রীর বাসায়ই কয়েকদিন একত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম ওই বাসায় আর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তেমন অগ্রসর হয়নি।

প্রক্রিয়াটির সঙ্গে যুক্ত একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এটা ঠিক যে ড়্গমতায় থাকাকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অনেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম ও সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই বলে দলের সর্বসত্মরের সকল নেতা-কর্মীকে এ জন্য দায়ী করার অবকাশ নেই। বরং দুর্নীতির এমন ভয়াবহ বিসত্মৃতির জন্য দায়ী করা যেতে পারে প্রধানত তারেক রহমান ও তার বন্ধু-বান্ধবদের। খালেদা জিয়ার ভাই-ভাগ্নেসহ কিছু আত্মীয়-স্বজনও অবৈধ প্রভাব বিসত্মারের মাধ্যমে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া বরাবরই নমনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তারই পরিণতিতে আজ বিএনপিকে এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হলো।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কিছু চিহ্নিত ব্যক্তির দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য গোটা দলকে কেন মূল্য দিতে হবে? কেন পালিয়ে বেড়াতে হবে দলের অধিকাংশ নেতাকে ? এমন উপলব্ধি থেকেই বিএনপির কয়েকজন নেতা দলের অসিত্মত্ব রড়্গার উদ্দেশ্যে বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবতে শুরম্ন করেছেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দল যখন তারই উত্তরসূরীদের কর্মকাণ্ডের কারণে বিলুপ্ত হতে চলেছে, তখন একে রড়্গায় কেউ যদি কোন উদ্যোগ নেয় সেটা নিশ্চয়ই খারাপ কিছু নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কয়েক দফা বৈঠকে বসে সংশিস্নষ্টরা দলের শীর্ষ পদে খালেদা জিয়ার বিকল্প হিসাবে আপাতত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নাম নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও সাইফুর রহমানের ইমেজ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও তারা মনে করছেন যে, স্থায়ী কমিটির সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য হিসাবে তাকে ঘিরেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেয়া যেতে পারে। আজকালের মধ্যে আরও একাধিক দফায় বৈঠকে বসে এ ব্যাপারে একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ানত্ম করা হতে পারে তিনি জানান। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-18

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: