তারেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র যগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ও তার পিএস মিয়া নূরউদ্দিন অপুকে আসামি করে রোরবার চাঁদাবাজি মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মাহবুব মোর্শেদ বিকাল সোয়া ৩টায় মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট সেরেস্তার কাছে এ চার্জশিট দাখিল করেন। দ্রুত বিচার আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল রউফ খান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে ব্যস্ত থাকায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণের বিষয় গতকাল কোন আদেশ হয়নি। আজ আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরুর দিন ধার্য করবেন। এদিকে নূরউদ্দিন অপু পলাতক থাকায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য অনুরোধ করেছেন।

সূত্র জানায়, মামলার সাক্ষী ১২ জন। এক পাতার চার্জশিটের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে মামলার তদন-কারী কর্মকর্তা, বাদী আমিন উদ্দিন ভূঁইয়া, তার ভাই ফারুক, বন্ধু ক্যাপ্টেন (অব.) ওয়াহিদুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হাই ও ঢাকা ব্যাংক বনানী শাখার দুই কর্মকর্তাসহ ১২ জনের লিখিত বক্তব্য। মামলায় আলামত হিসেবে দেখানো হয়েছে কোটি টাকার একটি চেক (বাদী যে চেকে ১ কোটি টাকা তুলেছিলেন, তারিখ ৪/১/০৭) ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট। ঘটনাস্থল বনানী হাওয়া ভবনের একটি স্কেচ (রোড ১৩, বাড়ি-৫৩, ব্লক ডি)। স্কেচে দেখানো হয়েছে চাঁদার ১ কোটি টাকা লেনদেনের ঘটনাস্থল। চার্জশিট দাখিল করা হয় দ্রুত বিচার আইনের ৪ (১) ধারায়। এ ধারায় ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করার নিয়ম রয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসে মামলার নিষ্পত্তি না হলে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় দেয়া হবে। মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর সাজা এবং অর্থ জরিমানার বিধান রয়েছে। তারেকের সাজা হলে আগামী ৫ বছরে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তারেকের পিএস নূরউদ্দিন অপু পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, বাদীর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারেক রহমান বাদীর কাছ থেকে চাঁদা বাবদ এক কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন।

আদালতে দাখিল করা চাঁর্জশিটে (অভিযোগপত্র) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক রহমান এক কোটি টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। সাক্ষীরা আসামি তারেক রহমানকে শনাক্ত করেছেন। তারেক রহমান বাদী আমিন উদ্দিন ভূঁইয়াকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে টেলিফোনে বলেন, ঠিকাদারি করতে হলে চাঁদা দিতে হবে এবং তাকে হাওয়া ভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সেই মোতাবেক গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আমিন উদ্দিন বন্ধু ক্যাপ্টেন (অব.) ওয়াহিদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে হাওয়া ভবনে যান। তিনি দাবিকৃত ১ কোটি টাকার চেক দিতে চাইলে তারেক রহমান ক্ষুব্ধ হন। তিনি ক্যাশ টাকা দাবি করেন। ৪ জানুয়ারি আমিন উদ্দিন ভূঁইয়ার ছোট ভাই ফারুক (বেয়ারার চেক) ঢাকা ব্যাংক বনানী শাখা থেকে ১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিয়ে ফারুক ও আমিন উদ্দিন ভূঁইয়ার বন্ধু ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হাই হাওয়া ভবনে যান। হাওয়া ভবনে এ টাকা গ্রহণ করেন তারেকের ব্যক্তিগত সহকারী নূরউদ্দিন অপু। টাকা পৌঁছানোর পর আমিন উদ্দিন ভূঁইয়া মোবাইল ফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। তারেক রহমান মোবাইল ফোনে টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন।

আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় বাদী আমিন উদ্দিন ভূঁইয়া বিষয়টি কারও কাছে জানাতে ও থানায় অভিযোগ করতে পারেননি। তারেক রহমানের গ্রেফতারের খবর শুনে তিনি গত ৮ মার্চ গুলশান থানায় গিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গুলশান থানায় দায়ের করা এ মামলাটির নম্বর-৩৪/৩/০৭। ধারা দ্রুত বিচার আইনের ৪ (১)।

৮ মার্চ রাতে গুলশান থানা পুলিশ এ মামলায় তারেককে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে ১২ মার্চ রাতে তারেক রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদী আমিন উদ্দিন ভূঁইয়া তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সহযোগী। গুলশান উদয় টাওয়ার ও আল আমিন কন্সট্রাকশনের মালিক তিনি। উদয় টাওয়ারে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ব্যক্তিগত ও তার মালিকানাধীন চ্যানেল ওয়ান অফিস রয়েছে। সদ্য বাতিল হওয়া নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ (চাটখিল) আসন থেকে চারদলীয় ঐক্যজোটের পক্ষে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আমিনউদ্দিন ভূঁইয়া। রাজনীতিতে আমিন উদ্দিনের এটাই ছিল প্রথম প্রকাশ। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার উদয়পুরে। গ্রামের নামে তিনি গুলশানে উদয় টাওয়ার নির্মাণ করেন।

কারা সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের চেষ্টায় তারেক এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। আজ ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন আবদুল আউয়াল কারা হাসপাতালে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। সিভিল সার্জনের দেয়া রিপোর্টের পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে হাসপাতাল থেকে তারেক রহমানকে সেলে নেয়া হবে কিনা। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-19

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: