বর্তমান সরকার সাংবিধানিক জনগণের কাছে দায়বদ্ধ

প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি সাংবিধানিক সরকার। আমরা সরাসরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সংবিধানের আওতায় শপথ নিয়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। জনগণ আমাদের কাজের মূল্যায়ন করছে। তিনি আরও বলেন- সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি ছাড়াও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল এবং উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তার সরকার কাজ করছে। দেশে আইনের শাসন কায়েম ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কালো টাকা, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসমুক্ত, অবাধ, অর্থবহ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এ সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

রোববার সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তা এবং সুধীজনদের উদ্দেশে ভাষণদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা রোববার সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সিলেট পৌঁছে প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিভাগীয় শহর পর্যায়ে এটা ছিল তার চতুর্থ সফর।
বেলা পৌনে ১১টায় সিলেট সার্কিট হাউসে সামরিক ও বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ড. ফখরুদ্দীন মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস, সংবিধানের রক্ষক।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ, অধিনায়কসহ সব খেলোয়াড়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সরকার চায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। জনগণেরও প্রত্যাশা- সৎ, যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা গণতন্ত্রের হাল ধরুক। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। দেশে সুশাসন বিরাজ করছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে এটা যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা নির্ভয় ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে পারলে তারা তাদের কর্মদক্ষতা দিয়ে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন-শৃংখলা বজায় রাখতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, জনগণ যেন মনে করেন সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের বন্ধু, তাদের কল্যাণে সরকার কাজ করছে- সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ। সরকার-জনগণ সবাই চায়, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসুক।

সৎ ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে যৌথ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে উপস্থাপন করলে জনগণ আশ্বস- হবে। তিনি বলেন, সরকারের বেদখল হওয়া যেসব জমি ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়েছে সেসব ভূমি স্বচ্ছভাবে কাজে লাগাতে হবে। জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাটবাজার এবং বস্তি উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব কাজে খেয়াল রাখতে হবে যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী হয়রানির শিকার না হন। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ যেন মনে করে আপনাদের কাছে এলে তারা সেবা পাবেন, মন খুলে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সব থানাকে মডেল থানায় রূপান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেবার মান বাড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে পুলিশ জনগণের বন্ধু। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল দেশে এমন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে মানুষ শানি-তে বাস করতে পারে। দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পায়- এই অভীষ্ট লক্ষ্যে আমাদের পৌঁছতে হবে। বেলা ১টায় সুধী সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের সজাগ-সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর যে অভিযান চলছে তা একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে। সবকিছুই করা হচ্ছে একটি অর্থবহ নির্বাচনের লক্ষ্যে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা সমাজের সচেতন মহলের সার্বিক সহযোগিতা চান। তিনি সুধীজনদের সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন ও তাদের পরামর্শ শোনেন এবং তার সরকার সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আজিজ হাসানের পরিচালনায় উভয় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুল করিম, প্রেস সচিব সৈয়দ ফাহিম মুনায়েম ও কুমিল্লা সেনানিবাসের জিওসি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সুধীজনের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, শাবির ভিসি প্রফেসর আমিনুল ইসলাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ইকবাল হোসেইন, সিলেট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হাই খান, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, চেম্বার সভাপতি জুন্নুন মাহমুদ খান, মৌলভীবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তজম্মুল হোসেন, সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট আবু আলী সাজ্জাদ হোসেন, হবিগঞ্জের সমাজসেবিকা জাহানারা আফসার, এনজিও কর্মকর্তা বেলাল আহমদ প্রমুখ।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার তার প্রাথমিক বক্তব্যে অবিলম্বে সিলেট মেট্রোপলিটন অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ ও চালু, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওর এবং জাফলং এলাকাকে অসাধারণ পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা, সুনামগঞ্জ জেলাকে সড়ক যোগাযোগে জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, শাহজিবাজারে বিদ্যুৎ কেন্দ এবং ফেঞ্চুগঞ্জে সারকারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-19

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: