চট্টগ্রাম বন্দরে আটশ’ গাড়ি নিলামে উঠছে

আমদানিকৃত রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবসায় এখন চলছে দারুণ মন্দা। টাস্কফোর্স দুর্নীতিবাজদের গাড়ি-বাড়ির উৎস সন্ধানে নামায় এখন গাড়ির ক্রেতা বলতে গেলে নেই। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাড়ি ডেলিভারির হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আটকে পড়া বিপুল পরিমাণ গাড়ির মধ্য থেকে একসঙ্গে সর্বোচ্চসংখ্যক (৮শ’) গাড়ি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। আগামী ২ এপ্রিল এই বিশেষ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিলাম ইয়ার্ডে রক্ষিত গাড়িগুলোর তালিকার কাজ চলছে। প্রতিটি গাড়ির বডিতে লিখে দেয়া হচ্ছে ক্রয় মূল্য তালিকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, একসঙ্গে বেশিসংখ্যক গাড়ি নিলামে তোলা হলে আয় বেড়ে যাবে। পাশাপাশি বারবার নিলাম আয়োজনের মতো ঝামেলা অনেকটা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিলাম ইয়ার্ডে নিলামের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পড়ে আছে প্রায় দু’হাজার আমদানিকৃত গাড়ি। এর মধ্যে কোটি টাকা দামের বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, প্রাডো গাড়ি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ১২৮২টি গাড়ির তালিকা হস্তান্তর করেছে।

এর মধ্যে আমদানিকারকরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় কিছু গাড়ি ইতিমধ্যে ডেলিভারি নিয়ে গেছে। তালিকা অনুযায়ী বাকি গাড়ির মধ্যে প্রাথমিকভাবে একসঙ্গে নিলামে তোলা হচ্ছে ৮শ’র মতো গাড়ি। বন্দর ইয়ার্ডে রাখা গাড়ির মধ্যে বেশ কিছু গাড়ি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিলামের অপেক্ষায় পড়ে আছে। নিয়মানুযায়ী আমদানির পর ৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেই তা নিলাম হওয়ার কথা। ৪৫ দিন পেরুনোর পর আমদানিকারক ডেলিভারি নিতে ব্যর্থ হলে অন্যান্য মালামালের মতো গাড়িও নিয়ে আসা হয় নিলাম ইয়ার্ডে। কিন’ নানা ঝক্কি-ঝামেলার কারণে সময়মতো নিলাম আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় নিলাম ইয়ার্ডে অন্যান্য মালামালের পাশাপাশি বিপুল গাড়ির স্তূপ জমে যায়। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বহু দামি গাড়ির রংও বদলে গেছে। গত বছরের শেষদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশেষ নিলামের উদ্যোগ নেয়ায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গাড়ি নিয়ে গেছেন আমদানিকারকরা।
আবার নিলামে অংশ নিয়ে বিডাররাও স্বল্পমূল্যে নিয়ে গেছেন বেশ কিছু গাড়ি। এরপরও ইয়ার্ডে পড়ে আছে বিপুলসংখ্যক গাড়ি। এবার একসঙ্গে সর্বোচ্চসংখ্যক গাড়ি নিলামের মাধ্যমে ইয়ার্ডে পড়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে দামি গাড়ি আটকের ঘটনায় ক্রেতারা গাড়ি কেনার প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন। গাড়ি ব্যবসায়ীরাও আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে নিলামে তোলার আগেই আমদানিকারকরা গাড়ি ডেলিভারি নেয়ার যে তোড়জোড় করত তা এখন নেই। কারণ ডেলিভারি নেয়া গাড়ি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আমদানিকারকদের নেই।
তারা বন্দর ইয়ার্ডকেই গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। নিলাম তালিকায় ওঠার পর সামান্য কিছু গাড়ি আমদানিকারক ডেলিভারি নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। এদিকে নিলাম আয়োজনের জন্য আগের নিয়ম পরিবর্তন করে ৪৫ দিনের স্থলে ৩০ দিন করার সিদ্ধান্তের পর নতুন নিয়মে নিলাম আয়োজনের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয় কাস্টমসের নিলাম শাখায়। চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, নতুন ধার্যকৃত সময়ের মধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। পরে নতুন বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে গাড়ি নিলামের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-20

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: