নতুন বন্দিদের জায়গা দিতে মুক্তি দেয়া হবে ৪ সহস্রাধিক কয়েদিকে

নতুন বন্দিদের জায়গা করে দেয়ার লক্ষে দেশের কারাগারগুলো থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কয়েদিকে মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এসব কয়েদিকে মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো। অন্য সূত্র জানিয়েছে, দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূলের চলমান অভিযানের আওতায় সারাদেশ থেকে বিভিন্ন সত্মরের আরও কয়েক হাজার ব্যক্তিকে শীঘ্রই ধরা হবে। মূলত, এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই বিপুল সংখ্যক কয়েদিকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের কারাগারগুলোর ধারণড়্গমতা সব মিলিয়ে ২৬ হাজার। কিন্তু বর্তমানে দেশে কারাবন্দির সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার। এত বিপুলসংখ্যক বন্দি নিয়ে রীতিমতো বিপাকে আছে কারা প্রশাসন। তার ওপর সাম্প্রতিক দুর্নীতি ও গডফাদার বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হাজতির সংখ্যা দ্রম্নত বাড়তে থাকায় কারাগারগুলোর ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দুরূহ হয়ে পড়েন। এই পটভূমিতে সর্বমোট ৪ হাজার ১৬৯ জন কয়েদিকে মুক্ত করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জাকির হাসান ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান, সাধারণত প্রত্যেক বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে কিছু কিছু কারাবন্দিকে মুক্ত করে দেয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে। তবে এই সংখ্যা ১শ’ থেকে ৫শ’য়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মুক্তি দেয়া হয়েছিল ১৫৮ জনকে। কিন্তু এবার তিন শ্রেণীর মোট ৪ হাজার ১৬৯ জন কারাবন্দিকে আগামী ২৬ মার্চ মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ানত্ম করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে এসব কয়েদির তালিকা তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যে তিন শ্রেণীর কয়েদিকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে লঘু অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদি, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অপরাধ সংঘটনে অড়্গম হয়ে যাওয়া কয়েদি এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে যাদের সাজার মেয়াদ শেষ প্রানেত্ম এসে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে যাবজ্জীবন সাজা বলতে ৩০ বছরের কারাদন্ড বোঝায়। আবার কারাবন্দি থাকা অবস্থায় যে সমসত্ম কয়েদি কারাগারের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলবে তাদেরকে সাজার মোট মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ সময় রেয়াত দেয়ারও বিধান রয়েছে। তাছাড়া এ সম্পর্কিত ২০০৩ সালের আইনে বলা হয়েছে যে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ২০ বছর সাজা ভোগের পর সরকার চাইলে বিশেষ বিবেচনায় যে কাউকে মুক্তি দিতে পারে। আইনটি পাস হওয়ার পর এখনো পর্যনত্ম এ সুবিধা কাউকে দেয়া হয়নি। এ পর্যায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে অনত্মত ২৩০ জন কয়েদি এ সুবিধা পেতে পারেন।

এদিকে অন্য একটি সূত্র জানায়, দেশের কারাগারগুলোতে ধারণড়্গমতার কয়েকগুণ অতিরিক্ত বন্দি থাকার বিষয়টি নতুন নয়। অনেক বছর যাবৎই এ অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু বর্তমানে দুর্নীতি ও গডফাদার বিরোধী অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু কারাভ্যনত্মরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে বন্দিদের ডিভিশন সুবিধা প্রদানের ড়্গেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক হাজার দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের লড়্গ্যেই এবারের স্বাধীনতা দিবসে একযোগে ৪ হাজারেরও বেশি কয়েদিকে মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে কারাগারগুলোর ধারণড়্গমতা বৃদ্ধিরও উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সূত্রটি জানায়। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-20

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: