ফয়েজীর সনদ বাতিল বিজ্ঞপ্তি হাইকোর্টে স্থগিত

জালিয়াতির কারণে হাইকোর্টের বিতর্কিত বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজীর এলএলবি পরীক্ষা পাসের সনদ বাতিল করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি ফয়েজীর দায়ের করা এক রিট মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ও বিচারপতি মোঃ আব্দুল আউয়াল সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত একই সঙ্গে বিচারপতি ফয়েজীর সনদ বাতিলের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষের জারি করা বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না দুই সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষের ওপর র\”ল জারি করেন। এছাড়া আগামী শুনানির সময় ফয়েজীর এলএলবি পরীক্ষার মার্কশিট ও টেবুলেশন শিট আদালতে দাখিল করার জন্য আদালত বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত, টেবুলেশন শিটে ঘসামাজা কাটাকুটিকরে জালিয়াতির মাধ্যমে বানোয়াট ফলাফল তৈরির কারণে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় ফয়েজীসহ ২ হাজার ৪০০ জন পরীক্ষাথর্ীর পরীক্ষা পাসের সনদপত্র বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ফয়েজীসহ ৫০ জন এলএলবি সনদধারীও রয়েছেন। সিন্ডিকেটের সভায় বিচারপতি ফয়েজীর সনদ বাতিলের পর ৫ মার্চ থেকে বিচারপতি ফয়েজী ছুটিতে চলে যান। যাদের সনদপত্র বাতিল করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ ১১ মার্চ তাদের নাম বিশেষ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে। ফয়েজীর সনদ বাতিলের সিদ্ধানত্দের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে অবগত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ প্রধান বিচারপতি ফয়েজীর বিষয়টি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদনত্দের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লেখেন। কাউন্সিল এখন বিষয়টি তদনত্দ করার অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে, বিচারপতি ফয়েজী তার সনদ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট করেন। গতকাল এই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ফয়েজীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মাসুদ আর সোবহান। শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সনদ জালিয়াতির বিষয়ের সঙ্গে ফয়েজীর কোনো সম্পর্ক নেই। ফয়েজীর সনদ জাল নয় এবং এ সংক্রানত্দ কোনো তথ্য প্রমাণও নেই।
অপরদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, জালিয়াতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ তদনত্দ করে সনদপত্র বাতিল করেছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিদ্ধানত্দ। আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিদ্ধানত্দের ওপর হসত্দক্ষেপ করতে পারে না।
উল্লেখ্য, বিচারপতি ফয়েজী ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি পরীক্ষাথর্ী দেন। পরীক্ষায় পাস না করেই জালিয়াতির মাধ্যমে সনদপত্র নিয়ে তিনি আইন পেশা শুর\” করেন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর ২ মাস পর ৩০ অক্টোবর ফয়েজীর এলএলবি পরীক্ষা পাসের সনদ জালিয়াতির সংবাদ ভোরের কাগজসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ হলে সারা দেশে হুলুস্থুল পড়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিষয়টি তদনত্দের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=3600&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: