মহাখালী সওজ বসত্দির দু’শ’ ঘর পুড়ে ছাই ।। শিশুর মৃতু্য ।। নিখোঁজ ২

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় সড়ক ও জনপথের বসত্দিতে ভয়াবহ অগি্নকান্ডে দুইশতাধিক ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। অগি্নদগ্ধ হয়ে মারা গেছে ৩ বছরের শিশু শানত্দ। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের দুইজন কর্মীসহ আহত হয়েছেন ১০ জন। আগুন লাগার পর মহাখালী থেকে নাবিস্কো মোড় পর্যনত্দ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় একটানা দু’ঘন্টা মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা একটার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করার পরই মহাখালী ও নাবিস্কো ক্রসিংয়ে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরম্ন হয়।

প্রত্যৰদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টার দিকে বসত্দিতে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা বসত্দিকে গ্রাস করে ফেলে। বসত্দিতে বসবাসকারী পুরম্নষ ও মহিলাদের অনেকেই ছিল কর্মস্থলে। আগুনের খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রম্নত অকুস্থলে পেঁৗছে আগুন নির্বাপণের চেষ্টা চালায়। অনেকেই পার্শ্ববর্তী ভবনের ছাদে গিয়ে বালতি দিয়ে নিচে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ায় গোটা বসত্দি এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট বসত্দির কাছাকাছি পেঁৗছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরম্ন করে। পুলিশ গোটা বসত্দি ঘিরে রাখে। একই সাথে মহাখালী থেকে নাবিস্কো ক্রসিং পর্যনত্দ সড়কে উভয়মুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। দুপুর ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং বেলা একটায় পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলে ফায়ার সার্ভিস। বসত্দিবাসীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস দেরীতে পেঁৗছার কারণে বসত্দিতে অবশিষ্ট আর কিছুই আগুন থেকে রৰা পায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডাইরেক্টর শেখ মিজানুর রহমান জানান, ইচ্ছে করে নয়, যানজট এবং রেলগেটের সিগন্যালের জন্যই পেঁৗছতে দেরী হয়েছে। আগুন নির্বাপণের পর বসত্দি থেকে শিশু শানত্দর লাশ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের আবুল হোসেন ও গাউস আগুন নেভানোর সময় আহত হন। অগি্নকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস থেকে পরিষ্কার করে কিছুই বলা হয়নি। তবে বসত্দির কয়েকজন জানায়, আরিফা নাম্নী এক মহিলা মাটির চুলায় রান্না করার সময় বাঁশের বেড়ায় আগুন লেগে দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়ে। মোসত্দফা মৃধা জানান, তার দু’টি সনত্দান মেহেদী ও পিংকিকে পাচ্ছেন না। স্ত্রী ডালিয়া অপর দু’টি সনত্দানকে নিয়ে বের হয়েছেন মনে করে তিনি রাসত্দায় অপেৰা করছিলেন। আগুন নির্বাপণের পর স্ত্রীর দেখা পেলেও দু’টি সনত্দানের খোঁজ পাননি। বসত্দির অপর বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সড়ক ও জনপথের কর্মচারী শামসুল হকের নিকট থেকে ১৮ বছর আগে তিনি একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। আগুনে ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় তার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আগুন বসত্দির দুই-শতাধিক পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/03/20/w/n_ztqxuz

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: