দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পূর্ণ ক্ষমতা পেল দুদক

সরকার জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭-এর অধিকতর সংশোধন করেছে। এসব সংশোধনীতে দুনর্ীতিবাজদের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পূর্ণ ৰমতা দেয়া হয়েছে দুনর্ীতি দমন কমিশনকে (দুদক)। এই বিধিমালার আওতায় কোন অপরাধ অনুসন্ধান, তদনত্দ ও বিচার চলাকালীন কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে জামিনের আবেদন করতে পারবে না। এছাড়া চূড়ানত্দ রায় ছাড়া উচ্চতর কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে তর্কিত করে কোনরূপ প্রতিকার দাবি করা যাবে না। এছাড়া তদনত্দ কর্মকর্তারা তদনত্দ স্বার্থে আয়কর সংক্রানত্দ বা অন্যকোন কর সংক্রানত্দ নথি, ব্যাংক হিসাব বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাব বা কাগজপত্র বা অন্যকোন বিষয় পরিদর্শন বা পরীৰাসহ আটক ও জব্দ করতে পারবে। এই বিধিমালার আওতায় কোন মামলা কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে বিচার কার্য শুরম্ন হওয়ার তারিখ হতে ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিধিমালার আওতায় আইন-শৃংখলা রৰাকারী বাহিনী, কমিশন কর্মকর্তা বা বিধিমালার অধীন অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত অপরাধ সংশিস্নষ্ট কোন ঘটনার বা ঘটনার সংশিস্নষ্ট অন্যকোন বিষয়ের চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র বা অন্যকোন যান্ত্রিক মাধ্যমে ধারণকৃত বা গৃহীত টেপ, ডিস্ক, তথ্য বা মামলা সংশিস্নষ্ট অন্য কোন উপাদান উক্ত অপরাধের বিচারে সাৰ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে উক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাসত্দি প্রদান করতে পারবে না।

গত বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবিধিবদ্ধ আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে এসব বিধান রেখে জরম্নরি ৰমতা অধ্যাদেশ-২০০৭ সংশোধন করে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জরম্নরি অবস্থা জারি করার পর ২৫ জানুয়ারি এ সংক্রানত্দ বিধিমালা জারি করা হয়েছিল। জরম্নরি ৰমতা অধ্যাদেশ, ২০০৭ (২০০৭ সনে ১ নম্বর অধ্যাদেশ)-এর ধারা-৩-এ প্রদত্ত ৰমতাবলে সরকার জরম্নরি ৰমতা বিধিমালা ২০০৭-এর অধিকতর সংশোধন করল। এই প্রজ্ঞাপন ১৩ ফেব্রম্নয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে ঃ

জরম্নরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা কালে এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ এবং ১৫-এ উলিস্নখিত কোন আইনের অধীন কোন মামলা কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে বিচারকার্য শুরম্ন হইবার তারিখ হইতে ৪৫ (পঁয়তালিস্নশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে। কোন অনিবার্য কারণে উক্ত মেয়াদের মধ্যে কোন মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, সংশিস্নষ্ট আদালত বা ট্রাইবু্যনাল কেবল কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করিতে পারিবে এবং উক্ত রূপে সময় বর্ধিতকরণ সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করিয়া উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে। জরম্নরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ এবং ১৫-এ উলিস্নখিত কোন আইনের অধীন কোন মামলার বিচারকার্য কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে শুরম্ন হইলে উহা শেষ না হওয়া পর্যনত্দ একটানা চলিবে, তবে আদালত বা ট্রাইবু্যনাল সংশিস্নষ্ট কোন পৰের আবেদনে যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিচারকার্যে মূলতবী করা প্রয়োজন, তাহা হইলে আদালত বা ট্রাইবু্যনাল অনূধর্্ব ৩ (তিন) দিন পর্যনত্দ বিচারকার্য মূলতবী করিতে পারিবে। উপবিধি (১) এর অধীন কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনাল কোন মামলার বিচারকার্য এইরূপে মূলতবী করিতে পারিবে না, যাহার ফলে উক্ত মামলার বিচারকার্য বিধি ১৯ক এ উলিস্নখিত মেয়াদের মধ্যে নিষ্পন্ন করা অসম্ভব হইয়া পড়ে। বিধি ১৯ক এ উলিস্নখিত সময়সীমার মধ্যে কোন মামলা নিষ্পত্তি না হইবার ৰেত্রে, আদালত বা ট্রাইবু্যনাল, পাবলিক প্রসিকিউটর, আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনী, বিধি ১৫-এর অধীন ৰমতাপ্রাপ্ত কমিশন কর্মকর্তা, সংশিস্নষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বা উক্ত বিচারকার্যের সহিত সংশিস্নষ্ট অন্য কোন ব্যক্তির জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে দ্রম্নত বিচার ট্রাইবু্যনাল আইন, ২০০২ (২০০২ সনের ২৮নং আইন)-এর ধারা ১৫ এর বিধান, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, প্রযোজ্য হইবে।

“জরম্নরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭ ও ৪৯৮ বা অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ ও ১৫ এ উলিস্নখিত কোন আইনের অধীন কোন অপরাধ অনুসন্ধান, তদনত্দ ও বিচার চলাকালীন কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে জামিনের আবেদন করিতে পারিবে না। জরম্নরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ ও ১৫ এ উলিস্নখিত কোন আইনের অধীন অনুসন্ধান, অভিযোগ দায়ের বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, তদনত্দ, বিচার পূর্ববর্তী কার্যক্রম বা বিচার চলাকালীন সময়ে কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনাল কতর্ৃক প্রদত্ত কোন আদেশকে, চূড়ানত্দ রায় ব্যতিরেকে, উচ্চতর কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনালে তর্কিত করিয়া কোনরূপ প্রতিকার দাবী করা যাইবে না।

জরম্নরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে রহপড়সব ঞধী ঙৎফরহধহপব, ১৯৮৪ (ঙৎফ. ঘড়. ঢঢঢঠও ড়ভ ১৯৮৪) সহ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে আনীত দুর্নীতি সম্পর্কিত অপরাধ তদনত্দকালে আয়কর বা অন্য কোন কর সংক্রানত্দ কোন নথি, ব্যাংক হিসাব বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাব বা কাগজপত্র বা অন্য কোন বিষয় পরিদর্শন বা পরীৰাসহ তদনত্দের প্রয়োজনে আটক ও জব্দ করা আবশ্যক হইলে তদনত্দকারী কর্মকর্তা, প্রযোজ্য ৰেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশিস্নষ্ট অন্য কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেৰে, উক্ত আয়কর বা অন্য কোন কর সংক্রানত্দ নথি, ব্যাংক হিসাব বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাব বা কাগজপত্র বা অন্য কোন বিষয় পরিদর্শন বা পরীৰাসহ আটক ও জব্দ করিতে পারিবে। বিচারের সময় যদি উপ-বিধি (১) এ উলিস্নখিত নথি, হিসাব বা কোন কাগজপত্র সাৰ্য হিসাবে উপস্থাপন করা আবশ্যক হয়, তাহা হইলে আদালত বা ট্রাইবু্যনাল উহা তলব করিতে পারিবে এবং সাৰ্য হিসাবে উহা গ্রহণীয় হইবে।

জরম্নরী অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতাকালে এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ ও ১৫ এ উলিস্নখিত কোন আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের সময় আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনী, কমিশন কর্মকর্তা বা এই বিধিমালার অধীন ৰমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত অপরাধ সংশিস্নষ্ট কোন ঘটনার বা ঘটনা সংশিস্নষ্ট অন্য কোন বিষয়ের চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র বা অন্য কোন যান্ত্রিক মাধ্যমে বা উপায়ে ধারণ বা গ্রহণ করিলে উক্ত চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র বা অন্য কোন যন্ত্রের মাধ্যমে বা উপায়ে ধারণকৃত বা গৃহীত টেপ, ডিস্ক, তথ্য বা মামলা সংশিস্নষ্ট অন্য কোন উপাদান উক্ত অপরাধের বিচারে সাৰ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, কেবল উক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করিয়া কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাসত্দি প্রদান করিতে পারিবে না।

এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ ও ১৫ এ উলিস্নখিত আইনের অধীন কোন অপরাধ সংক্রানত্দ কার্যক্রম চলাকালীন সরকার বা অন্য কোন কতর্ৃপৰ বা প্রতিষ্ঠান কতর্ৃক নিয়োজিত কোন রাসায়নিক পরীৰক, হসত্দলিপি বিশেষজ্ঞ, আঙ্গুলাংক বিশারদ, আগ্নেয়াস্ত্র বিশারদ, ব্যাংক হিসাব নিরীৰক, আয়কর নিরীৰক বা অন্য কোন বিশেষজ্ঞকে কোন বিষয়ে পরীৰা বা বিশেস্নষণ করিয়া প্রতিবেদন প্রদান করিবার পর বিচারকালে তাহার সাৰ্য গ্রহণ প্রয়োজন, কিন্তু তিনি মৃতু্যবরণ করিয়াছেন বা তিনি সাৰ্য দিতে অৰম বা তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া সম্ভব নয় বা তাহাকে আদালত বা ট্রাইবু্যনালে হাজির করিবার চেষ্টা এইরূপ বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধার ব্যাপার হইবে যাহা পরিস্থিতি অনুসারে কাম্য হইবে না, তাহা হইলে তাহার স্বাৰরযুক্ত পরীৰার রিপোর্ট এই বিধিমালার অধীন বিচারের সময় সাৰ্য হিসাবে গ্রহণ করা যাইবে। তবে শর্ত থাকে যে, কেবল উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করিয়া ট্রাইবু্যনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাসত্দি প্রদান করিতে পারিবে না।

জরম্নরী অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতাকালে এই বিধিমালা বা বিধি ১৪ ও ১৫ এ উলিস্নখিত আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের তদনত্দ প্রতিবেদনে কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পলাতক হিসেবে উলেস্নখ করা হইলে, আদালত বা ট্রাইবু্যনালের যদি এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারে সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন, তাহা হইলে উক্ত আদালত বা ট্রাইবু্যনাল যে ভবনে অবস্থিত সেই ভবনের সহজে দৃশ্যমান হয় এমন কোন স্থানে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বশেষ যে বাসস্থানে বসবাস করিয়াছেন বা যে স্থানে চাকরি করিয়াছেন বা ব্যবসা পরিচালনা করিয়াছেন মর্মে জানা যায় সেই বাসস্থান, কর্মস্থল বা ব্যবসার স্থানের সহজে দৃশ্যমান হয় এমন কোন স্থানে, নোটিস লটকাইয়া বা অন্য কোন উপায়ে জারিপূর্বক নোটিসে উলিস্নখিত সময়, যাহা ৩ (তিন) দিনের বেশি হইবে না, এর মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে বা ট্রাইবু্যনালে হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালত বা ট্রাইবু্যনালে হাজির হইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আদালত বা ট্রাইবু্যনাল তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিবে। উপবিধি (১) এর অধীন কোন নোটিস জারি হইলে উহা অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর ব্যক্তিগতভাবে জারি হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।

এ প্রজ্ঞাপন ১ ফাল্গুন, ১৪১৩ মোতাবেক, ১৩ ফেব্রম্নয়ারি ২০০৭ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/03/22/w/n_ztquvv

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: