জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে যে নির্বাচন দরকার তারই প্রস্তুতি চলছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ ও জনস্বার্থ রক্ষা। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে নির্বাচন দরকার তেমন নির্বাচন করার জন্য আমাদের কাজ চলছে। এর বাইরে আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য এমন পর্যায়ে আনতে চাই যাতে ভোক্তা-উদ্যোক্তা উভয়েই খুশি হবে। গতকাল বুধবার রাজশাহী সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুনর্ীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছি। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কিভাবে এটাকে আরো শক্তিশালী করা যায় সেজন্য কাজ চলছে। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজও চলছে। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগ পৃথকিকরণ গুর\”ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেউ আইনের ঊধের্্ব নয়-এটা প্রমাণ করার দরকার ছিল এবং আছে। দুনর্ীতির যে টাকা সে
টাকা দেশের রাজনীতিতে যে প্রভাব ফেলছিল তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দুনর্ীতি দমনের কাজ শুর\” হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নতি করার কাজে আমরা নজর দিয়েছি। এই উন্নতি যাতে টেকসই হয় সেদিকেও গুর\”ত্ব দিচ্ছি। এক্ষেত্রে সব সত্দরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। অন্যথায় তা সম্ভব নয়। আমরা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের দিকে নজর দিয়েছি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। এরই মধ্যে খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুর\” হয়েছে। খাদ্যদ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক রহিত করা হয়েছে। বিডিআরের খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিও এক্ষেত্রে গুর\”ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য আমরা এমন এক পর্যায়ে আনতে চাই যাতে ভোক্তা ও উৎপাদনকারী উভয়েই খুশি হবে। শোষণ-বঞ্চনামুক্ত সমাজ গঠনের জন্যই এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল এই মার্চে আমরা আবারো তেমনই একটা দেশ গড়ার সংকল্প গ্রহণ করতে পারি। তবে সবক্ষেত্রে আপনাদের সহায়তা দরকার।
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুধীজনরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের দাবি তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তারা বর্তমান সরকারের দুনর্ীতি বিরোধী ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। উপস্থিত সুধীজনরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি রাখেন, বর্তমানে দেশের যে অবস্থা তা পরবতর্ী সরকারের সময়েও যেন অব্যাহত থাকে। সুধীজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সদস্য খন্দকার হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক লিয়াকত আলি, এনজিও কমর্ী মোসত্দাফিজুর রহমান খান আলম, নওগাঁ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এমএ রকিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, পাবনা কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ আব্দুল করিম, জয়পুরহাটের সাংবাদিক আবুল হোসেন, রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বাবু, কুড়িগ্রামের এ এইচ এম শামসুল ইসলাম ও দিনাজপুর পৌর চেয়ারম্যান শফিকুল হক।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘসময় ধরে আমন্ত্রিত সুধীজনদের দাবি দাওয়ার কথা শোনার পর সমাপনী বক্তব্য রাখেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি এখানে এমন কোনো প্রতিজ্ঞা করবো না যা পূরণ করতে পারবো না। তবে তিনি সুধীজনদের এসব দাবি-দাওয়া বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বসত্দ করেন। তিনি বলেন, একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এ কারণে গুর\”ত্ব অনুসারে এসব দাবি বিবেচনা করা হবে। সরকারের ক্ষমতা ও জনবল দুটোই সীমিত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিভাবে সহজেই এলসি খুলতে পারে সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি। কর দেওয়ার বিষয়টি যতো সহজ করা যায় মানুষ ততো বেশি কর দেবে। সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।
দুনর্ীতির বির\”দ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. ফখর\”দ্দীন আহমদ তার বক্তব্য শেষ করেন।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=451&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: