সরকারের প্রতি ব্যবসায়ী নেতারা অপ্রয়োজনে জরম্নরি অবস্থা দীর্ঘায়িত করবেন না

ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অপ্রয়োজনে জরম্নরি অবস্থা দীর্ঘায়িত না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে যথাযথ আইন মেনে যারা কালো টাকা সাদা করেছেন তাদের তালিকা জনসমৰে প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

গতকাল বুধবার পরিকল্পনা কমিশনে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ব্যবসায়ী নেতারা এ অনুরোধ জানান। নেতাদের পরামর্শ গুরম্নত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে উপদেষ্টা তাদের আশ্বাস দেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পৰ থেকে সরকারের বিবেচনার জন্য ১২ দফা প্রসত্দাব উপস্থাপন করা হয়। ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বৈঠকে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসাইন খালেদ, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারের সভাপতি মাসিহ্ উল করিম, বাংলাদেশ এমপস্নয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, ভালো ব্যবসায়ীরা যাতে অযথা নাজেহাল না হন সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনের সুযোগ নিয়ে ইতিপূর্বে যারা কালো টাকা সাদা করেছেন, তারা কোনোভাবেই অপরাধী নন। এখন যদি আগের প্রসঙ্গ টেনে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাহলে এটি হবে আইনকে অশ্রদ্ধা করার শামিল। তিনি বলেন, একসময় ব্যবসায়ীদের পৰ থেকেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিরোধিতা করা হয়েছিল।

জরম্নরি অবস্থা দীর্ঘায়িত না করার পরামর্শ দিয়ে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, এতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে তিনি মনে করেন, দেশের প্রয়োজনে যতোদিন দরকার ততোদিন জরম্নরি অবস্থা রাখা যেতে পারে।

বৈঠকে এফবিসিসিআইসহ ১০ ব্যবসায়ী সংগঠনের পৰ থেকে যে ১২ দফা প্রসত্দাব দেয়া হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে_ বিদু্যৎ খাতের উন্নয়নে জরম্নরি পদৰেপ গ্রহণ, চিনি, শিশু খাদ্য, ভোজ্য তেল, পেয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক যথাসম্ভব কমিয়ে আনা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আরো গতিশীল এবং আধুনিকায়ন, দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে ট্যাক্স হলিডে সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং রেমিটান্স বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা চ্যানেল চালু করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দুনর্ীতি বিরোধী অভিযানে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=3068

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: