অবৈধ দখল ও নামমাত্র দামে কেনা তিনশ একর ফসলি জমি

রাজধানীর অদূরে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার অধীনে বরপা বিএনপি পল্লীতে বিএনপি’র সাবেক এমপি সাঈদ ইস্কান্দার ও ভাগ্নে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের রয়েছে তিন শতাধিক একর জমিতে মৎস্য চাষ প্রকল্প ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডিংয়ের কার্যালয়। এই মৎস্য চাষ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ব্রীকল্যান্ড সিরামিক ইট এবং মুরগি ও মাছের খাবার তৈরির কারখানা “রূপসী ফিড”। এসব ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে সেখানে অবৈধভাবে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল। এসব জমির মালিক কানাডা প্রবাসী অসীম গোস্বামী, মির্জা গালিব সাত্তার ও সমীর কুমার দাস বলে সেখানকার কর্তব্যরত কর্মচারী এবং কর্মকর্তারা জানান। তাদেরকে এই সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও কারখানা যে জমির ওপর গড়ে উঠেছে তার মালিক সাঈদ ইস্কান্দার ও তার ভাগ্নে তারেক রহমান বলে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, তারা শুধু অসীম গোস্বামী, মির্জা গালিব ও সমীর কুমার দাসকে মালিক হিসেবে জানতেন। নেপথ্যে অন্য কারা মালিক তারা জানেন না। তবে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাঈদ ইস্কান্দার মালিক হিসেবে প্রায়দিন সেখানে যাতায়াত করতেন। তারেক রহমান মাঝে মাঝে সেখানে মৎস্য চাষ প্রকল্পের অধীনে বেশ কিছুসংখ্যক পুকুরে মাছ শিকার করতে এসেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। বিশাল এলাকাজুড়ে ধানের জমি নিরীহ বাসিন্দারা পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা শুধু এই সকল জমি বিক্রয় করার সময় ক্রেতা হিসেবে সাঈদ ইস্কান্দার ও তারেক রহমানের নাম জেনেছেন। এর বাইরে অন্য কারও নাম শুনেননি। তবে জমি বিক্রির বছরখানেক পর অসীম গোস্বামী, গালিব ও সমীরকে সাঈদ ইস্কান্দার ও তারেক রহমানের ব্যবসায়ী পার্টনার হিসেবে তাদের নাম শুনেছেন।

সরেজমিনে বরপা বিএনপি পল্লীতে গিয়ে সেখানকার আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা পানির দামে ফসলি জমি বিক্রয় করতে বাধ্য হওয়ার নেপথ্যের সকল তথ্য তুলে ধরেন।

সাঈদ ইস্কান্দার ও তারেক রহমানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডিংয়ের কার্যালয় সেখান থেকে প্রথম শুরু করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপির ক্যাডার রমজান আলীর নেতৃত্বে নিরীহ বাসিন্দাদের সাঈদ ইস্কান্দার ও তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। পাশাপাশি অবৈধভাবে জবরদখল চলে। এই কায়দায় তারা নিরীহ কৃষকদের ফসলি জমি বিক্রয় করতে বাধ্য করে। এক বছরের মধ্যে তারা তিন শতাধিক একর জমি পানির দামে ক্রয় করতে সক্ষম হন। এই জমিতে বেশ কয়েকটি পুকুর খনন করা হয়েছে। এই পুকুরের মাটি তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। ঐ সকল পুকুরে চলছে মাছ চাষ। এলাকাবাসির দাবি, তাদের ১৬ বিঘার অধিক জমি জোর করে দখল করে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে নিরীহ বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে সাঈদ ইস্কান্দার ও তারেক রহমানের নাম বলে হুমকি দেয়া হয়। বেশী বাড়াবাড়ি করলে এলাকা ছাড়া করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়।

সড়ক ও জনপথ এবং এলজিইডিসহ বিভিন্ন অধিদফতরের অধীনে রাস্তা নির্মাণ, ব্রিজসহ বড় বড় টেন্ডারের কাজ ইসলাম ট্রেডিং হাতিয়ে নিয়েছে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এককভাবে বেশীরভাগ টেন্ডার এই প্রতিষ্ঠান বাগিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। তাদের তৈরি সিরামিক ইটও উচ্চমূল্যে ক্রয় করে নিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। বাজারমূল্য থেকে দ্বিগুণ মূল্যে এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রয় করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে বরপা বিএনপি পল্লীর উক্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও মৎস্য প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক উইং কমান্ডার (অবঃ) আরকে ভট্টাচার্য ইত্তেফাককে জানান, এই সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে তিনি অসীম গোস্বামীর মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছেন। এর বাইরে গালিব, সমীর কুমার দাসের নাম জানেন। তাদের বাইরে সাঈদ ইস্কান্দার, তারেক রহমান মালিক কিনা তিনি জানেন না। তবে উক্ত মালিকদের সঙ্গে সাঈদ ইস্কান্দার ও তারেক রহমানের যোগাযোগ থাকতে পারে। অবৈধভাবে কোন জায়গা-জমি দখল করা হয়নি। তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে আশপাশের মসজিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে। অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রকাশিত সংবাদপ্রসঙ্গে

গত ২৩ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত “ঢাকার উপকণ্ঠ বরপায়” বিএনপি পল্লী রয়েছে জমি দখলের “হওয়া ভবন” শীর্ষক সংবাদে লিতুন ফেব্রিক্স ও ঢাকা ডেনিন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম ঢালী এক প্রতিবাদে বলেছেন যে, একদা অখ্যাত নিভৃত পল্লী বরপা এলাকা ছিল বসবাসের অনুপযোগী। মিল ২টি প্রতিষ্ঠার পর এলাকায় শুরু হয় উন্নয়ন ও কর্মচাঞ্চল্য। মিল দুইটির জমির পরিমাণ ৩২ বিঘা, যা নিয়ম অনুযায়ী রেজিষ্ট্রিকৃত এবং নাম জারিকৃত। কোন জমি জবরদখল কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্রয় করা হয়নি। বিএনপি পল্লী ও হাওয়া ভবন আখ্যায়িত করার সংজ্ঞা তাদের জানা নেই এবং তা প্রতিহিংসার প্রতিফলন বলে দাবি করেন। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে মিল চালু করা হয়। পরিবেশ দূষণ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-25

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: