দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত হলেই সরাসরি গ্রেপ্তার ও বিচার

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গতানুগতিক ধারায় মামলা দায়ের, গতানুগতিক পন্থায় তদন্ত আর প্রচলিত বিচার কাজের মধ্যে যেতে চাচ্ছেনা সরকার। দুনর্ীতিবাজদের তালিকা প্রকাশ করে সম্পদের হিসাবও আর চাওয়া হবে না। তার চেয়ে গোয়েন্দা তদনত্দে যাকেই দুনর্ীতিবাজ ও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে তাকেই গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। যাদের বির\”দ্ধে মামলা দায়ের করা হবে এসব মামলার যেন নিখুঁত তদনত্দ হয় আর বিচারেও যেন সরকার পক্ষ অপরাধ প্রমাণ করতে পারে এ জন্য সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। দুনর্ীতিবিরোধী অভিযানে সরকার সফল হতে চায়। আর এ জন্য কর্মপরিকল্পনা চূড়ানত্দ করা হয়েছে। দুনর্ীতিবিরোধী অভিযানে ব্যসত্দ এমন দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অনত্দত ১০০ মামলার টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে। ১০০ দুনর্ীতিবাজকে চিহ্নিত করে তাদের বির\”দ্ধে অপরাধ প্রমাণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর এই ১০০টি মামলার ক্ষেত্রে গুর\”ত্ব দেওয়া হবে তদনত্দ ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর। সূত্রটি জানিয়েছে, দুনর্ীতিবিরোধী অভিযানে শীর্ষ দুনর্ীতিবাজদের চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হওয়ার পর্যায়ে। এখন শুর\” হবে মামলা দায়ের এবং বিচার প্রক্রিয়া। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুনর্ীতিবিরোধী যে অভিযান চালানো হচ্ছে এর সফল সমাপ্তি না হলে এর পরিণতি কী হবে তা ভালো করেই ভাবা হচ্ছে। যে সাপের লেজে পা দেওয়া হয়েছে তা না মারা পর্যনত্দ আর কোনো উপায় নেই। কিন\’ সরকার চিনত্দিত দুনর্ীতিবিরোধী এই অভিযানে সহায়ক শক্তিগুলো নিয়ে। বিশেষ করে দুনর্ীতির মামলা দায়ের ও তদনত্দের দায়িত্ব যাদের ওপর দেওয়া হয়েছে তাদের তদনত্দের দক্ষতা আশানুরূপ নয়। দুনর্ীতিবিরোধী যে ৪০টি টাস্কফোর্স এখন কাজ করছে এর প্রতিটি টাস্কফোর্সেই একজন করে দুনর্ীতি দমন কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই টাস্কফোর্স অভিযানে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে দুদক কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করছেন। টাস্কফোর্সের সূত্রগুলো
জানিয়েছে, সেনাবাহিনী শুধু অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে কিন\’ ফৌজদারি আইনকানুনসহ অপরাপর আইনকানুন সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা কম থাকায় তাদেরকে দুদক কর্মকর্তাদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন\’ দুদক কর্মকর্তারাও অনেকক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারছেন না। ফলে মামলা দায়েরের পর এসব কর্মকর্তা যখন তদনত্দের দায়িত্ব পালন করবেন তাতে তাদের দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দুনর্ীতি দমন কমিশন গত ১৮ ফেব্রচ্ছারি যে ৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে সে তালিকার মধ্য থেকে এখন পর্যনত্দ মাত্র ১০ জনের বির\”দ্ধে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়েছে। আর যাদের বির\”দ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাদের বির\”দ্ধে আনীত অভিযোগের তদনত্দে গুর\”তর কিছু পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র তাদের হিসেবের গরমিল ছাড়া দুদক কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে আর বিশেষ কিছু বের করতে পারেননি। এসব লোক কিভাবে এতো অর্থ বিত্তের মালিক হলেন তাদের অর্থের বিনিয়োগ কোথায় কোন খাতে এমন তথ্য এখন পর্যনত্দ অনুদঘটিতই রয়ে গেছে। দুদক কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণেই তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দুনর্ীতিবাজদের বির\”দ্ধে যেসব তথ্যপ্রমাণ এখন পর্যনত্দ উদঘাটিত হয়েছে এর দ্বারা তাদেরকে বড়ো ধরনের দোষী সাব্যসত্দ করা কঠিন হয়ে পড়বে। আইন করে দুদকের কর্মকর্তাদের তদনত্দের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এসব কর্মকর্তাদের পক্ষে নিখুঁত তদনত্দ ও সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে নীতিনির্ধারকরা চিনত্দিত। আর সে কারণেই দুদকে তদনত্দকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা থেকে অভিজ্ঞ লোকদের প্রেষণে পাঠানোর সিদ্ধানত্দ নেওয়া হয়েছে।
‘গুর\”তর অপরাধ দমন জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র চেয়ারম্যান’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন গত বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব) হাসান মশহুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে এই ধরনের প্রসত্দাব দিয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। দুদকের আইন সংশোধন, জনবল কাঠামোর যে খসড়া তৈরি করা হচ্ছে তাতেও অনত্দর্বতর্ীকালীন অন্যান্য সংস্থা থেকেও দুদকে মাঠ পর্যায়ের তদনত্দকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার বিধান রাখার প্রসত্দাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তদনত্দকারী কর্মকর্তার পরই জোর দেওয়া হচ্ছে বিচার ব্যবস্থার ওপর। দুনর্ীতিবাজদের বির\”দ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারকাজ দ্র\”ত শেষ করার জন্য রাজধানীতে খুব শিগগিরই ৫টি বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠন করা হবে। সারা দেশে স্থাপন করা হবে আরো ১০টি ট্রাইবু্যনাল। এসব ট্রাইবু্যনালের বিচারক হবেন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক। বিচারক নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শ চেয়েছে। ট্রাইবু্যনালগুলোতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ফৌজদারি আইন, আয়কর আইন, কাস্টমস, ভ্যাট আইনে বিশেষজ্ঞ এমন আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে। দেশের একজন বিশিষ্ট আইনজীবীকে চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ করে প্রথম পর্যায়ে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট এই আইনজীবী প্যানেল সরকারের পক্ষে ট্রাইবু্যনালে মামলা পরিচালনা করবে। এছাড়া জেলা ও দায়রা আদালতগুলোতে বিগত সরকারের আমলে যে সব পিপি, জিপি, এপিপি রয়েছেন তাদের নিয়োগ বাতিল করে দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য এটর্নি জেনারেল অফিসেও পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া চূড়ানত্দ পর্যায়ে রয়েছে। নিম্ন আদালতসহ এটর্নি জেনারেল অফিসে যে বিপুলসংখ্যক আইন কর্মকর্তা রয়েছেন তার সংখ্যাও কমানো হবে।
জর\”রি ক্ষমতা অধ্যাদেশের বিধিমালার দ্বিতীয় সংশোধনী এনে ইতিমধ্যে দুনর্ীতি দমন কমিশনকে অগাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দুদকের তদনত্দকারী কর্মকর্তারা মামলার তদনত্দের সময় বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, সম্পত্তি জব্দ করতে পারবেন। দুদক বর্তমানে তাদের দায়ের করা ১০টি মামলার তদনত্দ করছে। এ সপ্তাহে আরো বেশকিছু মামলা দায়ের হতে পারে বলে জানা গেছে। দুদকের যে কর্মকর্তারা এই মামলা তদনত্দ করছেন এসব তদনত্দকারী কর্মকর্তাদের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক কমিশনার আবুল হাসান মনযুর মান্নান। তিনি বলেন, যে কর্মকর্তা যে মামলা তদনত্দ করবেন তাকে সেটা তদনত্দ শেষ না করা পর্যনত্দ আর কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে না। দুদককে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে,সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার শক্তি আমার আছে কি না তাও দেখতে হবে। তিনি বলেন, আমার হাতে একসঙ্গে দুটি ব্যাগ নিতে পারি কিন\’ একসঙ্গে ১০টি ব্যাগ দিলে তা কীভাবে বহন করবো?
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেবু্রয়ারি দুদক ৫০ জন ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করে তাদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিশ দিয়েছিল। দুদকের এই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৫ জন তাদের হিসাব দাখিল করেন। দুদকের তালিকার ৫০ জনের মধ্যে থেকে এখন পর্যনত্দ ১০ জনের বির\”দ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পরবতর্ী সময়ে ৮ মার্চ সরকারের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে আরো ৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এই ৫০ জনের সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়নি। সরকার প্রাথমিকভাবে ৪২০ জন দুনর্ীতিবাজের তালিকা তৈরি করলেও দুদকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে ৫০ জনের তালিকা। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের হাতে তালিকা থাকলেও এই তালিকা আর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা নাও হতে পারে। তবে তালিকাভুক্তদের ব্যাপারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদনত্দ হচ্ছে এবং এই তদনত্দের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার অভিযান চলবে।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=1101&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: