ভয়াল ২৫ মার্চের সেই কালরাত আজ

আজ রবিবার ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের সেই ভয়াল রাত ২৫ মার্চ। ৩৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতি তথা বিশ্ববাসী প্রত্যৰ করেছিল ইতিহাসের নৃশংসতম বর্বরতা! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সমগ্র বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণ করার মুহূর্তে পাকিসত্দানী হানাদার বাহিনী বাংলার নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হানাদার বাহিনী মানবাধিকারের সমসত্দ শিষ্টাচার লংঘন করে উন্মত্তভাবে চালিয়েছিল নৃশংস গণহত্যা। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে পাকিসত্দানী হানাদার বাহিনীর সেই বর্বরোচিত হামলায় সমগ্র জাতি, বিশ্ববাসী হতবাক হয়েছিল। মধ্যযুগীয় কায়দায় পাক বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, ইপিআর সদর দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা ঢাকা নগরীতে চালায় হত্যাযজ্ঞ ও অগি্নসংযোগ। ওই রাতেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সেই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু ইপিআর-এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশকে শত্রম্নমুক্ত করার জন্য সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে পাকিসত্দানী সেনাদের বিরম্নদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান।

পাকিসত্দানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালী ২৪ বছরের অপশাসন ও শোষণের কবল থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য স্বাধিকার অর্জনের লৰ্যে বাঙ্গালী জনগণ জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৭০ সালের পাকিসত্দান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী করে। পরিষদের তিনশ’ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ১৬৭টি আসনে। কিন্তু এই বিজয়ের পরও বাঙ্গালীদের হাতে শাসন ৰমতা ছেড়ে না দেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পাকিসত্দানী শাসক চক্র। আর সেই চক্রানত্দের অংশ হিসেবেই তদানীনত্দন সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান একাত্তরের ১ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই মুহূর্তে একটি দেশকে পরিণত করা হয়েছিল ৰিপ্ত আগ্নেয়গিরিতে।

লৰ-কোটি প্রতিবাদের হাত ঊধের্্ব উত্থিত হয়েছিল শাণিত কৃপাণের মত। ৭ মার্চ রেসকোর্সের বিশাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল’- বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রদীপ্ত আহবানের পর শুরম্ন হলো ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন। ১৯ মার্চ দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পাকিসত্দানী সামরিক বাহিনী জয়দেবপুর (গাজীপুর) আক্রমণ করে। এতে নিহত হয় অর্ধশতাধিক লোক। এরপর আসে ২৫ মার্চের কালো রাত। সেই ভয়াবহ রাতের বেদনাদায়ক ঘটনা সমগ্র জাতিকে শিহরিত করে। নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে পাখির মত গুলী করে হত্যা সেদিন মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ সত্দব্ধ করতে পারেনি। একাত্তরের কালোরাতের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আজো জাতি ও বিশ্ববাসীর কাছে ঘৃণিত হয়ে আছে।
সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/03/25/w/n_ztqyzt

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: