যৌথ বাহিনীর ভয়ে অবসর নিচ্ছেন রাজনীতিকরা

যৌথ বাহিনীর ভয়েই অবসর নিচ্ছেন রাজনীতিকরা। পরে সুবিধা মতো সময়ে ঘোষণা দিয়ে আবারো রাজনীতিতে ফিরে আসবেন তারা। গতকাল শনিবার বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের দ্বিতীয় অধ্যায়ের এক নিয়মিত পর্বে এ সংশয় বেজে উঠলো দর্শকদের সম্মিলিত কণ্ঠে। প্যানেলিস্ট রাজনীতিকরাও তা স্বীকার করে নিলেন অসঙ্কোচে।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ওই সংলাপ অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি মেম্বার ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম মেম্বার মতিয়া চৌধুরী, কেয়ারটেকার সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান এবং সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম।

রাজনীতিকদের অবসর গ্রহণের যে কথা শোনা যাচ্ছে তা বিবেকের তাড়নায় নাকি যৌথ বাহিনীর ভয়ে সে প্রশ্ন তোলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নাঈম হোসেন। এ প্রশ্নের উত্তরে অন্য দর্শকরা বলেন, যৌথ বাহিনীর ভয়েই অবসর নিচ্ছেন রাজনীতিকরা। এ অবসর স্থায়ী হবে না। এটা রাজনীতিকদের একটা কৌশল।

দর্শকদের এ অভিযোগ কিছুটা স্বীকার করে নিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, রাজনীতিকদের অবসর নেয়ার ঐতিহ্য এ দেশে নেই। তাই তাদের নিয়ে দানা বাধা সন্দেহগুলো অমূলক নয়। ড. আকবর আলি খান আরো স্পষ্ট করে বলেন, অবসরের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিকরা আবারো ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারেন। প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তাই পলিটিশিয়ানদের ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকবেই। তবে এ রকম গুজব নিয়ে আলোচনা না করার জন্য বিবিসিকে পরামর্শ দেন মতিয়া চৌধুরী।

কালকের সংলাপে আরো পাচটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে বর্তমান কেয়ারটেকার সরকারকে সেনা সমর্থিত সরকার বলে মত দেন ব্যারিস্টার মওদুদ এবং মতিয়া চেীধুরী উভয়ই। যে কোনো মানুষের জামিন পাওয়ার অধিকার আছে বলেও একমত পোষণ করেন তারা।

সংশোধিত জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশে জামিনের বিধান স্থগিত রাখার কারণে নির্দোষ ও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া নাগরিকরা ভুক্তভোগী হবেন কি না সে প্রশ্ন তোলেন ব্যাংক কর্মচারী ফরিদা বেগম।

উত্তরে আকবর আলি খান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভালো করে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিলে নির্দোষ ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। একই প্রশ্নে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন যাতে না হয় সে রকম দায়িত্ববোধ নিয়ে দুদক কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম।

তবে ব্যারিস্টার মওদুদ জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত আছে বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জামিন একটা অধিকার। তার সঙ্গে একমত পোষণ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, যে কোনো লোকের জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত একদিনে হয়নি। দূরও একদিনে হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অনেক সময় নিয়ে করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কামরুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান কেয়ারটেকার সরকারকে প্যানেল সদস্যরা সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকার বলে মনে করছেন কি না। উত্তরে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আকাঙক্ষায় জরুরি অবস্থা এসেছে বলে দাবি করেন মতিয়া চৌধুরী। তবে তিনি বলেন, ১১ জানুয়ারি রাতে প্রেসিডেন্ট যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা সম্ভব হয়েছিল ওই দিনই তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে তার বৈঠকের ফলে।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বর্তমান সরকার যে সশস্ত্র বাহিনী সমর্থিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের সমর্থন ছাড়া দেশ সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। এখন তারা দেশপ্রেমিকের ভূমিকা পালন করছেন। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এ ব্যাপারে একমত পোষণ করায় তাদের ধন্যবাদ জানান আকবর আলি খান। বর্তমান সরকারকে সাংবিধানিক অসামরিক সরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে সেনা সমর্থিত সরকারের প্রশ্নে দর্শকদের মত হলো, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কেউ কাউকে ছাড় না দেয়ায় দেশে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু সেনা সমর্থিত নয়, জনগণও এ সরকারকে সমর্থন করে। তবে জনসমর্থন কতোদিন থাকে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম।

বার্ড ফ্লু দেশের পোলটৃ শিল্প ও অর্থনীতিতে অশনি সঙ্কেত বহন করছে কি না সে প্রশ্ন তোলেন ফয়সাল আহমেদ রানা নামে এক ছাত্র। উত্তরে প্যানেলিস্টরা বলেন, বার্ড ফ্লু আর যাতে ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। পোলটৃকে রুগ্ন শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে আবার উঠে দাড়াতে সাহায্য করতে হবে।

মানিকগঞ্জের শিক্ষক শাহাদত হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, দুর্বলের কণ্ঠ সব সময়ই ক্ষীণ। তাই বস্তি উচ্ছেদের ব্যাপারটা যতো সহজ, সত্যিকারের ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিনই বটে। তবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সরকার তো সবকিছুই ভাঙছে।

মিরপুরের ফাহমিদা আফরোজের আরেক প্রশ্নের জবাবে সম্মিলিতভাবে প্যানেলিস্ট ও দর্শকরা বাংলাদেশ কৃকেট টিমকে নিয়ে আশা প্রকাশ করেন। Source:দৈনিক যায়যায়দিন
Date:2007-03-25

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: