আমেরিকায় স্বাধীনতা দিবসের সমাবেশে শেখ হাসিনা পচাত্তরের পর আর কখনো ৭.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়নি

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭২ থেকে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের মধ্যে ৭.৩% হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। এরপর গত ৩২ বছরে তেমনটি আর ঘটেনি। হাসিনা বলেন, যুদ্ধবিধ্বসত্দ বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মাথা উচু করে দাড়াচ্ছিল ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের কবলে পড়েন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক কর্মকা- যদি অব্যাহত থাকতো তবে ২০ বছর আগেই বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেতো। উন্নয়নের দৃষ্টানত্দ হিসেবে মালয়শিয়া নয়, বিশ্ববাসী বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করতো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলৰে ইউএসএ আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে (বাংলাদেশ সময় ২৬ মার্চ সকাল) বক্তৃতাকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

ওয়াশিংটনের আর্লিংটনে কোয়ালিটি ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভা-পতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি খালিদ হাসান এবং পরিচালনা করেন ওয়াশিংটন ডিসি আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুন্নবী বাকী। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওয়াশিংটন ডিসি আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং আমেরিকা সেনসাস বুরোর মহাপরিচালক ড. খন্দকার মনসুর, আমেরিকা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ বসারত আলী, ফসারত আলী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. সিদ্দিকুর রহমান, ড. নূরম্নন্নবী, ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং ড. মহসীন আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, রফিক পারভেজ, সাদেক খান, আমেরিকা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিউদ্দিন দেওয়ান, ইকবাল কবীর, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন নেত্রী ড. নাজমা জাহান, আমেরিকা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, চন্দন দত্ত, মুহম্মদ আলী সিদ্দিকী ও শাহ বখতিয়ার। সমাবেশে শেখ হাসিনার পুত্র আমেরিকা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী আওয়ামী লীগের আনত্দর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপও উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা প্রবাসীদের এ সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, যে লৰ্য ও আদর্শকে বাসত্দবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরও তা অর্জিত হয়নি। স্বাধীনতার পরই যুদ্ধবিধ্বসত্দ বাংলাদেশকে গড়তে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছিল তা বিশ্বের অর্থনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তিনি বলেন, যখনই আওয়ামী লীগ ৰমতায় গেছে তখনই মানুষের জন্য কাজ করেছে। ‘৫৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে শাসনতন্ত্র উপহার দিয়েছিল। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা উপহার দিয়েছিল। ‘৭০-এ নির্বাচন, ‘৭২-এ সরকার গঠন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫ থেকে ৯৬ পর্যনত্দ কতো সরকার ছিল বাংলাদেশে। তারা কি উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে, দেশবাসীর তা অজানা নেই। তিনি বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে সরকার গঠন করেছিল। ‘৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যনত্দ আওয়ামী লীগ ৰমতায় থাকাকালে বাংলাদেশের মানুষ আস্থা ফিরে পেয়েছিল। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। ইনডিয়ার সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি করেছিলাম দ্বিপৰীয় আলোচনার মাধ্যমে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শানত্দি চুক্তি করে অভ্যনত্দরীণ যে সমস্যা ছিল তাও সমাধান করেছিলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, কেউই ভাবতে পারেননি যে, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শাসন আমল শুরম্ন হয়েছিল ৪০ লাখ মেটৃক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে। পাচ বছরে আমরা সে ঘাটতি শুধু পূরণই করিনি, ৮০ লাখ মেটৃক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত করেছিলাম।

বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে শেখ হাসিনা বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অসাংবিধানিক প্রক্রিয়া চলবে, অসাংবিধানিক সরকার চলবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও ছিল জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লৰ্য নিয়ে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ নিয়েছে ৫৮(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। বাংলাদেশের সংবিধানে ৫৮(গ) অনুচ্ছেদ যা লেখা রয়েছে তা যদি এ সরকার অনুসরণ করে তাহলে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রৰা পাবে। সেখানে কেউ যদি কারো রাজনৈতিক খায়েস পূরণের জন্য সংবিধান লঙ্ঘন করে অসাংবিধানিক সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় তা জাতির জন্য ভবিষ্যতে কল্যাণ বয়ে আনবে না, অতীতের অভিজ্ঞতা তাই বলে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে এক পালস্নায় ফেলা হচ্ছে। যারা সচেতন তারা উপলব্ধি করবেন যে, এ দুটিকে কোনোভাবেই এক পালস্নায় ফেলা যায় না। তিনি বলেন, দুনর্ীতি আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি করবে একটা দল বা জোট, অন্যদিকে এর দায় নিতে হবে সব রাজনৈতিক দলকে_ এটা মেনে নেয়া যায় না। যারা চোর তাদের চোর হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। চোরকে দৃষ্টানত্দমূলক শাসত্দি দিতে হবে। কিন্তু একজন চুরি করেছে বলে অন্যকেও দোষারোপ করা_ এটা তো কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, জীবনে যারা কখনোই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ৰমতায় যেতে পারবে না, তাদের রাষ্ট্র ৰমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার খায়েস পূরণের জন্যই এমন করা হচ্ছে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের স্বাধীনতার যে চেতনা, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগ, সবকিছুতেই ছিল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়ার। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করার ৰমতা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা কখনোই গণতান্ত্রিক রীতি হতে পারে না।

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এটাও উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির হীন মানসিকতার একটি স্বরূপ এটি। তিনি বলেন, বিদেশে এসে স্বাধীনতার সত্যিকারের ইতিহাস জানা যায়, অথচ নিজ দেশে প্রকৃত ইতিহাসকে মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=3775

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: