কৃকেট বিজয়ের আনন্দে রঙিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এবারের অনুষ্ঠানমালায় সর্বত্র ছিল বাংলাদেশের কৃকেট ওয়ার্ল্ড কাপের সুপার এইটে যাওয়ার উচ্ছ্বাস। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে নতুন করে দেশ গড়ার শপথও ছিল। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানমালায় ছিল কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, র্যালি, প্রদর্শনীসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন।

অন্যান্য বছরের মতোই সব বয়সের নারী-পুরম্নষ যোগ দেন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায়। সারা দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছিল বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে মিছিল। তরম্নণ-তরম্নণীদের মাথায় বাধা ছিল জাতীয় পতাকার স্কার্ফ। অনেকের গালে কপালে আকা ছিল বাংলাদেশের পতাকা। তরম্নণ-তরম্নণীদের দলবদ্ধ হয়ে ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে স্বাধীনতার দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে চিফ অ্যাডভাইজর ফখরম্নদ্দীন আহমদ, স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার ও ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্যরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি প্রথম স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানায়। দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভঁূইয়াসহ ১১ জন নেতা ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে সাভার স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে পুষ্পসত্দবক অর্পণ করেছেন। সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেড এ খান, যুগ্ম মহাসচিব সেলিমা রহমান, নজরম্নল ইসলাম খান, সাবেক এমপি শাহ আবু জাফর, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ও কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি।

সকাল সাড়ে ৭টায় শেরে বাংলা নগরে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পসত্দবক অর্পণ করেন। বিএনপি ছাড়াও দলের অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ওলামা দল, ড্যাব, মৎস্যজীবি দল, জাসাস প্রভৃতি সংগঠনের পৰ থেকেও নেতার মাজারে পুষ্পসত্দবক অর্পণ করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলসহ সিনিয়র নেতারা স্বাধীনতা দিবসের সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষপমাল্য অর্পণ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, আখতারম্নজ্জামান, সাবের হোসেন চৌধুরী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ প্রমুখ। এরপর তারা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টা পুষ্পসত্দবক অর্পণের পর নামে মানুষের ঢল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ছাত্র, যুব, নারী, শ্রমিক সংগঠন জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। গতকাল দুপুর পর্যনত্দ তা অব্যাহত ছিল।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্মৃতিসৌধে গতকাল সকালে পুলিশের আইজি নুর মোহাম্মদ পুষপসত্দবক অর্পণ করেন। এ সময় পুলিশের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা দিবসে সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সকাল ১০টায় ঢাকা পুরনো বিমানবন্দর এলাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিএনসিসি, বিডিআর, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি এবং কারারৰীদের সমন্বয়ে সম্মিলিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় কেয়ারটেকার সরকারের চিফ অ্যাডভাইজর ড. ফখরম্নদ্দীন আহমদ ও তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর বাদক দল মানিক মিয়া এভিনিউ, ফার্মগেট ও মিরপুর ২ নাম্বার জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যনত্দ যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও বরিশালে নৌ বাহিনীর কিছু জাহাজ জনগণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।

দিবসটি উপলৰে গতকাল রাজধানীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ট্রাকযোগে ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গণযোগাযোগ অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, রফতানি উন্নয়ন বুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত এসব ভ্রাম্যমাণ অনুষ্ঠানে শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। এছাড়া গণযোগাযোগ অধিদফতর বুড়িগঙ্গা নদীর পাগলাঘাট থেকে বসিলা পর্যনত্দ লঞ্চযোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

গতকাল বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছিল আলোচনা সভার। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তোপখানা রোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজন করে আলোচনা সভা ও স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। ধানমন্ডির লেক কর্নারে শতায়ু অঙ্গন ও রফিক চত্বরের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

দিবসটি উপলৰে প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন। প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও তার স্ত্রী প্রফেসর আনোয়ারা বেগম আমন্ত্রিতদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ফখরম্নদ্দীন আহমদ, প্রধান বিচারপতি মোঃ রম্নহুল আমিন, স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার ও ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, সুপৃম কোর্টের বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ উপলৰে বিভিন্ন সংবাদপত্র প্রকাশ করে ক্রোড়পত্র। ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে আয়োজন করা হয় প্রার্থনা সভা।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=3768

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: