জয়ধ্বনিতে মুখরিত দেশ

কথা রেখেছেন হাবিবুল বাশার, লক্ষ্য পূরণ হয়েছে ডেভ হোয়াটমোরের, আর আনন্দের বন্যা বইছে দেশবাসীর মাঝে। স্বাধীনতা দিবসে ১৫ কোটি মানুষের জন্য বঙ্গসার্দুলদের এমন উপহারের তুলনা হয় না। শাবাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, শাবাশ মাশরাফি, রফিক, সাকিব, রাজ্জাক, রাসেল, মুশফিক, তামিম, আশরাফুল, নাফীস, আফতাব। ৩৬তম স্বাধীনতা দিবসে নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশবাসীকে আপনারা দারুন একটি সাফল্য উপহার দিলেন। রবিবার বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে বারমুডার বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে স্বচ্ছন্দ জয়ের সাথে সাথে রাজধানীসহ এদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ উল্লাস ধ্বনীতে মেতে ওঠে। জয়ধ্বনিতে মুখরিত হলো সারাদেশ।

টেলিভিশনের সামনে উৎকক্তায় থাকা কোটি কোটি মানুষের বিজয়োল্লাসের সাথে ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। শাবাশ ক্রিকেট বীরেরা, আপনারা কথা রেখেছেন। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে শোকে মূহ্যমান দেশবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়ে তুললেন আপনারা। হাজার হাজার মাইল দূরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপদেশে ত্রিনিদাদ থেকে আপনারা আনন্দ বয়ে আনলেন, আপনাদের আত্মবিশ্বাসে দেশের মানুষ গর্বিত অভিভূত, মুগ্ধ। জাতির পরম আনন্দের দিনে ১৫ সৈনিক ব্যাট বলের যুদ্ধে দেশবাসীকে আবার বিজয়ী করলেন। তারা ক্রিকেট বিশ্বের সেরাদের কাতারে সামিল করলেন লাল সবুজ পতাকাকে। আহা কী আনন্দ।

বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিদায় নিতে হয় ক্রিকেট জগতের পরাক্রমশালী ভারতকে। ১৯৮৩’র বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ও গত আসরের রানার্সআপরা এবারো ছিল অন্যতম ফেভারিট। গত ১৭ মার্চ কুইন্সপার্ক ওভালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবক্ষেত্রেই ভারতের চেয়ে সেরা ছিল বঙ্গসার্দুলরা। বাঘা বাঘা তারকাদের ১৯১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৫ উইকেটে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় দামাল ছেলেরা। ঐদিনের সাফল্যতেই বাংলাদেশের সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে যায়। রবিবার ছিল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এদিন স্পোর্ট অব স্পেনের বেহায়া বৃষ্টি টাইগারদের কাজটা সহজ করে দেয়। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে খেলতে আসা বারমুডা অত্যন্ত দুর্বল এবং নিশ্চিত জয় জানা সত্ত্বেও বাংলার ক্রীড়া পাগল মানুষ টিভির সামনে বিনিদ্র রজনী কাটায়। আশরাফুল সাকিবের জয়সূচক বাউন্ডারি আসার সাথে সাথে রাজধানীসহ সাড়া দেশ উল্লাস নগরীতে পরিণত হয়। গভীর রাতেই বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের হয়।

এদিন টস জয় থেকে সব কিছুই ছিল বাশারদের পক্ষে। খেলা শুরু হওয়ার পর তিন দফা বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়া বাংলাদেশের জয়ের ব্যাপারটি আরো সহজ করেছিল। ম্যাচটি যখন ২১ ওভার নির্ধারণ করা হয় তখন বারমুডা খেলে ফেলে ১৫ ওভার। স্কোর ৪ উইকেটে ৪৫। সুতরাং শেষ ৬ ওভারে কত আর হবে। তারপরও আফতাব আহমেদের এক ওভারে ১৭ রান তাদের স্কোরটা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত বারমুডার স্কোর হয় ৯ উইকেটে ৯৪। রাজ্জাক পতন ঘটান ৩ উইকেট মাশরাফি ও সাকিব ২টি করে। জয়ের জন্য ২১ ওভারে ৯৫ রান কোন দলের জন্যই কঠিন নয়। আর প্রতিপক্ষ যদি বারমুডার মত হয় তবে তো কথাই নেই। তারপরও ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। টেনসনে পরে দল, টেনসনে বাংলার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। এ অবস্থায় সাকিব (২৬) ও আশরাফুল (২৯) একুশ বল হাতে রেখে ম্যাচ শেষ করেন। তবে জয়সূচক ৯৬ রানের মধ্যে অতিরিক্ত থেকে আসে ২১।

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া বাংলাদেশের এটা সেরা সাফল্য। ইংল্যান্ডে নিজেদের প্রথম আসরে শক্তিশালী পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারালেও দ্বিতীয় পর্বে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকার আসরে কোন জয় ছাড়াই দেশে ফিরতে হয় টাইগারদের। এবার দ্বিতীয় পর্বে পৌঁছানোর পর অধিনায়ক হাবিবুল বাশার অংশগ্রহণকারী বড় দলগুলোকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন। তার ইতিহাস গড়া দলের লক্ষ্য হচ্ছে সুপার এইটে আরো অঘটন ঘটানো। তার বিশ্বাস খেলোয়াড়রা এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ আশরাফুল বলেন, দলটির সেমিফাইনাল পেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে বড় দলগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হলে সামনে আরো বড় কিছু সাফল্য আশা করা যায় বলে তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-27

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: