২০০৬ সালের ভোটার তালিকা অবৈধঃ হাইকোর্ট

২২ জানুয়ারির নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২০০৬ সালে প্রণীত ও সংশোধিত ভোটার তালিকাকে বাতিল এবং অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ২০০০ সালের বিদ্যমান ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং বিচারপতি মামনুন রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করেছেন। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটার আইডি কার্ড ও সন্দেহমুক্ত ব্যালট বাক্স তৈরির লক্ষ্যে বর্তমান সর্বোচ্চ প্রযুক্তি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্র সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদান করবে।

ভোটার আইডি কার্ড বাঞ্ছনীয় এবং নির্বাচন কমিশন ইচ্ছে করলেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলে জানান বাদীর আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মাহমুদুল আহসান। ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার ২ নম্বর মোমেনবাগ এলাকার বাসিন্দা কাজী মামনুর রশীদের জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দেন। গত ২৯ জানুয়ারি দায়েরকৃত এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ যাবতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছিল। এছাড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে এবং ভোটার আইডি কার্ড ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য আদালত ঐ সময় আদেশ প্রদান করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও নির্বাচন কমিশনের ওপর রুল জারি করা হয়।

সম্প্রতি এই রুলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে চলা এই শুনানি শেষে গতকাল আদালত উপরোক্ত রায় প্রদান করেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট সৈয়দ মাহমুদুল আহসান। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সরকার পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ মাহতাব শুনানিতে অংশ নেন।

দায়েরকৃত ঐ রিট আবেদনে আরো বলা হয়েছিল, ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে এই ভোটার তালিকাকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হয়। আবেদনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণের কপিও সংযুক্ত করা হয়। আবেদনে আরো বলা হয়, প্রকাশিত বর্তমান ভোটার তালিকা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পরিপন্থী। সংশোধিত এই ভোটার তালিকা দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে রিট আবেদনকারী আশংকা প্রকাশ করেছিলেন। আবেদনকারীর আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মাহমুদুল আহসান বলেন, হাইকোর্ট রায় বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা বেধে দেননি। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-28

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: