আওয়ামী লীগে তোলপাড়

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতারা যোগ দিতে না পারার ঘটনায় দলের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তোপের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। কেন চিঠি গোপন করা হল- নেতৃবৃন্দের এই প্রশ্নবাণে জর্জরিত তিনি। তারা বঙ্গভবনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে না দেয়ার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাইবেন বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে কেন যেতে দেয়া হয়নি এবং এতে তার দলের কী লাভ হয়েছে? ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, বঙ্গভবনের আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার খবর তিনি সোমবার রাতে জানতে পারেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ছাড়া শীর্ষ নেতাদের কেউই বঙ্গভবনের আমন্ত্রণের বিষয়টি জানতেন না। টেলিভিশনে বঙ্গভবনের সংবর্ধনার খবর শুনে আবদুল জলিলকে ফোন করেন। জলিল জানান, তারাও আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন, তবে সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তা বিলি করা হয়নি। তিনি নেতাদের বলেন, সভানেত্রী শুধু কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এখানে তার করার কিছু নেই।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবনের প্রতিনিধি সময়মতোই আমন্ত্রণপত্র আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের নামে আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হয়। আমন্ত্রণপত্র পেয়ে আবদুল জলিল আমেরিকায় অবস্থানরত দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু সভানেত্রী তাকে বঙ্গভবনের চিঠি বিলি না করার জন্য বলেন এবং নেতাদের শুধু কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি দেন। সভানেত্রীর নির্দেশেই আবদুল জলিল বিষয়টি নিয়ে আর অন্য কোন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেননি।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যুগান্তরকে বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে গিয়েছি, এ অনুষ্ঠানেও যাওয়ার কথা। কারণ বর্তমান সরকারের প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন রয়েছে। এটা কেন্দ্রীয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, চিঠি ‘রিসিভ’ করে বিলি না করাটা ঠিক নয়। যাদের নামে চিঠি এসেছে, তাদের জানানো উচিত ছিল। দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া যেত।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম অবশ্য সময়মতো চিঠি না পৌঁছানোর কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-28

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: