সৎ ব্যবসায়ী নির্ভয়ে ব্যবসা করে যেতে পারেন এফবিসিসিআইর আলোচনা সভায় বিডিআর মহাপরিচালক

বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ীদের কোনো সমস্যা হবে না। তারা নির্ভয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। মুক্তবাজার ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীদের ছাড়া অর্থনীতি চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। গতকাল ফেডারেশন অফ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টৃজ (এফবিসিসিআই) আয়োজিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান রাশিদুল হাসান, বৃহৎ আমদানিকারক ও জেলা চেম্বারের নেতারা বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির ভাষণে বিডিআর মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা উপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে কিভাবে ভোক্তাদের কাছে সুফল পৌছানো যায় সেটিই বর্তমান সরকারের লৰ্য। ব্যবসার ৰেত্রে চাদাবাজিসহ অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ কমানো হবে। যাতে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের বেশি করে সেবা দিতে পারেন। তিনি জানান, ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল করতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে আরো বেশি করে পাইকারি হাট বসানো হবে। এছাড়া বিডিআরের বিপণন কেন্দ্র বাড়ানো হবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে বিডিআরের এ উদ্যোগ সাময়িক। ব্যবসায়ীদেরই বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। আগামী বাজেটেই ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন থাকবে বলে জানান তিনি। বিশেষ অতিথির ভাষণে বাণিজ্য সচিব ফিরোজ আহমেদ বলেন, অতীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনাকে যে বিকৃত করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাচটি ভোগ্যপণ্য নিয়ে দু’বছরব্যাপী যে গবেষণা করা হয় তাতে বাজার বিকৃত করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যেখানে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করলে দাম কমার কথা সেখানে দাম বেড়েছে। এভাবে গত দু’বছরে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেয়াজ ইত্যদি পণ্যের দামের ৰেত্রে স্বাভাবিক অবস্থা দেখা যায়নি। শুল্ক কমানোর সুফলও সাধারণ ক্রেতারা পাননি। তিনি জানান, সয়াবিন তেল আমদানিতে ৮.৪ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, অথচ সেখানে ২৭ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাম তেলে ১৬ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করা হলেও দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। পেয়াজের দাম ৩৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার কথা থাকলেও বেড়েছে ৩০ শতাংশ। পণ্যের এসব অস্বাভাবিক আচরণে কিছু ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি ভোক্তাদের প্রতি খেয়াল রেখে সীমিত পরিমাণে মুনাফা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারিভাবে পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীদেরই পণ্য মূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের ওপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। পণ্য আমদানির জন্য বর্তমানে এলসি খোলার পরিমাণ স্বাভাবিক রয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর থেকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু আতঙ্ক থাকলেও বর্তমানে তা কেটে গেছে বলে উলেস্নখ করেন তিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান রাশিদুল হাসান বলেন, আমদানিকারকদের দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ছাড়ের সুফল ভোক্তারা পেয়েছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন পণ্যে নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপে ব্যবসায়ীদের দাবিকে তিনি সমর্থন জানান। আলোচনা সভায় ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বৃহৎ আমদানিকারক ও জেলা চেম্বারের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এফবিসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউসুফ আবদুলস্নাহ হারম্নন বলেন, টাকার বিপরীতে ডলারের মান বেড়ে যাওয়া ও বিশ্বব্যাপী কৃষি পণ্য উৎপাদনে ভতর্ুকি কমে যাওয়ায় সম্প্রতি বিভিন্ন আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বিডিআরের হসত্দৰেপে সাময়িকভাবে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এর জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত গুদাম তৈরি, আমদানি ও বিপণনে নীতিমালা গ্রহণ, বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিসিবিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। তেল ও গুড়ো দুধের মতো নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে স্পেসিফিক ডিউটি আরোপ করা যেতে পারে। বিভিন্ন আনত্দর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তিনি উলেস্নখ করেন। মেঘনা গ্রম্নপের মোসত্দফা কামাল বলেন, জ্বালানি তেল ও সার আমদানিতে যেভাবে ভর্তুকি দেয়া হয় সে ভাবে ভোগ্যপণ্য আমদানিতেও ভতর্ুকি দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানির জন্য এখন নিয়মিতভাবে এলসি খুলছেন। গত কয়েকদিনে উলেস্নখযোগ্য পরিমাণে এলসি খোলা হয়েছে। ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই সাপস্নাইয়ের ঘাটতি কমে যাবে। অনুষ্ঠানে পারটেক্স গ্রম্নপের চেয়ারম্যান এ এ হাশেম ভোগ্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেশ কিছু প্রসত্দাব রাখেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজার মূল্য সহনীয় রাখার জন্য অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর পৰ থেকে বেশ কিছু প্রসত্দাব পেশ করা হয়। এসব প্রসত্দাবের মধ্যে রয়েছে মজুদদারি আইন সংশোধন, ভোক্তা সংরৰণ আইন বাসত্দবায়ন, এলসি মার্জিন আগামী ছয় মাসের মধ্যে শূন্যতে নিয়ে আসা, সহজ শর্তে অর্থায়ন ও ব্যাংক সুদের হার হ্রাস করা।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=3853

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: