আজ থেকে বাস ভাড়া বাড়ছে

সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আজ বুধবার থেকেই কার্যকর হবে। যেহেতু সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) এর দাম বাড়েনি, সে কারণে গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে।
গত রোববার সরকার তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রেসনোট ইস্যু করে। তারই সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাত্রীভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাস ও মিনিবাসে যথাক্রমে ৮৭ ও ৯০ পয়সা ধার্য করা হয়েছে। মালবাহী মোটরযানে প্রতি কিলোমিটারে টন প্রতি ২৩ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ইতিপূর্বে বাস ও মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রী ভাড়া যথাক্রমে ৮০ পয়সা ও ৮৩ পয়সা নির্ধারিত ছিল।
বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাস, ট্যাক্সি ও অটোরিক্সা সিএনজির সাহায্যে চলে। ঢাকা মহানগরী এলাকায় যখন সিএনজির সাহায্যে যানবাহন চালানো শুর” করা হয়, তখন সিএনজির ফিলিং স্টেশন ছিল অনেক কম। এ কারণে একটা যানবাহনে গ্যাস নিতে অনেক সময় লেগে যেতো। এই অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সাবেক সরকার পেট্রোলের দামের তুলনায় গ্যাসের দাম এক-তৃতীয়াংশ ধার্য করে। তবে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় পেট্রলের দামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। তারপর থেকে ঢাকা মহানগরীতে গ্যাস বিক্রি করার জন্য বহু ফিলিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। ফলে গ্যাস নিতে সংশ্লিষ্ট চালকদের এখন আর বেগ পেতে হয় না। সাবেক জোট সরকার তেলের দাম বাড়ালেও গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখে। তা সত্ত্বেও গ্যাসচালিত যানের চালকরা মালিকদের জমা বৃদ্ধির অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে মিটার রিডিংয়ের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করে।
গতকাল মঙ্গলবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সরকার সিএনজির দাম বাড়ায়নি। অতএব, গ্যাসচালিত যানের ভাড়া বাড়ানোর প্রশ্ন অবান্তর। এ ধরনের কোনো যানের চালক যদি বর্ধিত ভাড়া আদায় করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির চাপে অস্থির জনগণের জীবন অসহনীয় করে তুলবে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই পরিবহন খাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং বোরো চাষের ক্ষেত্রে জল সেচের কাজে বিরাট বাধা সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সরকার জ্বালানি তেলের দাম এক ধাপে গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে। আমদানি মূল্যের চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করার কারণে বিপিসি লোকসান দিচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে। তবে বিপিসির লোকসানের জন্য এটাই একমাত্র কারণ নয়। দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, সঠিক সময়ে তেল আমদানি না করা এবং সরকারি কোষাগারে টাকা জোগান দেওয়াও লোকসানের কারণ। বিপিসির লোকসান কমানোর নামে সাবেক বিএনপি-জামাত জোট সরকার দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারও সেই একই নীতি অনুসরণ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-04

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: