জরুরি আইনে জামিন আবেদন আপাতত বিবেচনা করতে পারবে হাই কোর্ট অনত্দর্বর্তীকালীন আদেশ হাই কোর্টের

জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা-২০০৭-এর আওতায় কোনো অপরাধে হাই কোর্ট আপাতত জামিন আবেদন বিবেচনা করতে পারবে। গত ২১ মার্চের জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার নতুন বিধানে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবে না বা উচ্চতর আদালতে কোনো প্রতিকার চাইতে পারবে না_ এর আওতায় হাই কোর্টও পড়বে কি না সে বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি অনত্দর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদেশ অনুযায়ী আগামী ১৫ এপৃল পর্যনত্দ জামিনের বিষয়ে আদালত যথারীতি কার্যক্রম চালাবে। এ সময়ের মধ্যে জরম্নরি বিধিমালায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও দ-বিধির মামলায় জামিন চাওয়ার বিধান এনে বিধিমালা সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। ওইদিন এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাস্টিস নজরম্নল ইসলাম চৌধুরী ও জাস্টিস জুবায়ের রহমান চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রের পৰে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল বিষয়টি মূলতবির আবেদন জানিয়ে বলেন, জরম্নরি ৰমতা অধ্যাদেশের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ফৌজদারি কার্যবিধি ও দ-বিধি অনত্দভর্ুক্ত হয়েছে। সরকার জরম্নরি ৰমতা অধ্যাদেশের জামিন সংক্রানত্দ বিধান আবার পরিবর্তন করবে। ওই সংশোধনীতে ফৌজদারি কার্যবিধি ও দ-বিধির মামলায় জামিন চাওয়ার বিধান রাখা হবে। এ জন্য তিনি সময় মূলতবির আবেদন জানান। আদালত বলে, জরম্নরি ৰমতা অধ্যাদেশের দ্বিতীয় সংশোধনীতে আদালত বলতে বিচারিক আদালত ও ট্রাইবুনালকে বোঝানো হয়েছে। ফলে এ আদালতের অভিমত হাই কোর্ট জামিনের আবেদন বিবেচনা করতে পারবে।

আদালত এ অভিমত ব্যক্ত করে জরম্নরি ৰমতা আইনে জামিন দেয়া যাবে কি না এ বিষয়ে চূড়ানত্দ রায় দেয়ার জন্য ১৫ এপৃল তারিখ নির্ধারণ করে। এ সময় হাই কোর্ট জামিন আবেদন বিবেচনা করতে পারবে বলে অনত্দর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। এরপর আদালত যে মামলাটি থেকে জামিন দেয়া না দেয়ার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, সেই তেল পাচার মামলার আসামি মাইজুদ্দিন শিকদারকে চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেছে।

হাই কোর্টের আদেশের বিষয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, হাই কোর্ট এখন জরম্নরি ৰমতা আইনে জামিনের আবেদন বিবেচনা করতে পারবে। তিনি হাই কোর্টের অন্য দুটি জামিন সংক্রানত্দ এ আদেশ জানান।

গত ২৯ মার্চ হাই কোর্টের এ বেঞ্চে খুলনার মাইজুদ্দিন শিকদার নামে এক ব্যক্তি জরম্নরি ৰমতা বিধিমালার অধীন এক অপরাধে জামিনের আবেদন করলে এ বিষয়ে হাই কোর্ট জামিন দিতে পারে কি না শুনানি হয়। জরম্নরি ৰমতা আইনে বিচার চলাকালে জামিন দেয়া যায় না বলে আদালতে সরকার পৰের বক্তব্যের পরিপ্রেৰিতে এ বিষয়ে বিসত্দারিত শুনানি গ্রহণ করে। আদালতকে সহায়তা করার জন্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুবউদ্দিন আহমাদকে এমিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়া হয়। আইনজীবীরা হাই কোর্ট জামিন দিতে পারবে এর পৰে বক্তব্য রাখেন।

উলেস্নখ্য, গত ২১ মার্চ রাতে প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জরম্নরি ৰমতা বিধিমালা-২০০৭-এর দ্বিতীয় দফা সংশোধন করেন। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, এ বিধিমালার আওতায় কোনো অপরাধ অনুসন্ধান, তদনত্দ ও বিচার চলাকালে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো আদালত বা ট্রাইবুনালে জামিনের আবেদন করতে পারবে না। এছাড়া চূড়ানত্দ রায় হওয়ার আগে উচ্চতর কোনো আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে কোনো প্রতিকারও দাবি করা যাবে না। এ আইনের আওতায় কোনো আদালতে বিচার কাজ শুরম্ন হওয়ার দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। মামলার শুনানি তিনদিনের বেশি মুলতবি রাখা যাবে না।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=4689

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: