ভারত দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত

রাজধানীর বিজ্ঞান ভবনে দুইদিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চতুর্দশ শীর্ষ সম্মেলন গতকাল শুরু হয়েছে। সার্কের অষ্টম সদস্য দেশ আফগানিস্তান এবং পাঁচটি পর্যবেক্ষক দেশ চীন, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়া এবারের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে।

শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এই আঞ্চলিক জোটের চেয়ারম্যানশিপ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। সার্কের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান চেয়ারম্যান ড. ফখরুদ্দীন আহমদ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লিয়নপো খন্দু ওয়াংচুক, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম, নেপালের প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মহিন্দ রাজাপক্ষে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লি ঝাওঝিং, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো আসো, কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সং মিন সুন এবং সার্কের মহাসচিব লিয়োনপো চেনক্যয়ব দর্জি বক্তৃতা করে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং তার ভাষণে বলেন, ভারত দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য তার বাজার উন্মুক্ত করে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, দিল্লী এ বছর শেষ হওয়ার আগেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্যের জন্য শূণ্য শুল্কে প্রবেশাধিকার দিবে।

ড. সিং বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ুর পরিবর্তনসহ যে সব বিষয় আমাদের উন্নয়ন কৌশলের ওপর প্রভাব বিস্তার করে সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় জ্বালানি সম্প্রদায় সমন্বিত পদ্ধতি ও কৌশলের মাধ্যমে পুরো অঞ্চল বিস্তৃত একটি জ্বালানি বাজার সৃষ্টি করে জ্বালানি বিনিময়ের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। কেবলমাত্র সড়ক ও রেলপথ তৈরির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই এই পথ ব্যবহারকারীদের যাতায়াত অবাধ ও সহজ করে দিতে হবে।

তিনি সার্ক দেশগুলো থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রফেসর, সাংবাদিক ও রোগীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানে ভারতের একক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, একটি দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত চুক্তি হবে ধ্যানধারণার সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

এর আগে সার্ক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা সার্ক-এ আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। ড. সিং বলেন, সার্ক আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক বন্যা ও খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে সৃষ্ট খাদ্য সংকট মোকাবিলা করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে সংস্থাটি এই অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে শিখবে। তিনি বলেন, সার্ক উন্নয়ন তহবিল দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করতে পারে।

সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনে আন্তরিকভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়।

ঢাকা শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর সার্ক পরিচালনায় কার্যকর ও গতিশীল ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্ক পরিবার বিস্তার লাভ করেছে এবং আমাদের সংগঠনের জন্য আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দরকার এ অঞ্চলের জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন, যা আমাদের সম্পদ আহরণ ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে আমাদের সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে আমাদের সীমাবদ্ধতা দূর করবে।

প্রস্তাবিত রোডম্যাপের প্রয়োজনীয় মাইলফলকের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় একটি প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের জন্য জরুরি।’

তিনি বলেন, সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন, সার্কের সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করা এবং সংস্থার কার্যাবলীকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত।

শওকত আজিজ ২০০৪ সালে ইসলামাবাদ সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ড সৃষ্টির প্রয়োজনে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলা, অঞ্চলভিত্তিক পরিবহন ও যোগাযোগ সংযোগ স্থাপন, জ্বালানি বৃত্ত সৃষ্টির ধারণা সম্বলিত জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগের পরামর্শ দেন।

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মহিন্দ রাজাপক্ষে বলেন, ইউরোপের দেশগুলো তাদের জনগণের স্বার্থে অনেক ভিন্নতা সত্ত্বেও আঞ্চলিক জোট গঠনে একত্রিত হয়েছে যা মাত্র কয়েক বছর আগে সম্ভব ছিল না।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালা বলেন, মানব সম্পদ ও সম্ভাবনাময় অর্থনীতির যথার্থ, কার্যকর এবং সম ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও দুর্ভোগের কবল থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে সার্ক প্রক্রিয়া অবশ্যই সক্রিয় করতে হবে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম বলেন, একটি রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি নিয়ে সার্কের জন্ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে অপর ঐতিহাসিক পরিবর্তন অর্জনে পুনরায় একই রকম রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লিয়নপো খন্দু ওয়াংচুক বলেন, আমাদের টেকসই ও পরিবেশ সহায়ক উন্নয়ন এবং জ্বালানি ব্যবহারের ওপর দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-04

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: