শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন না পলিটিশিয়ানরা

দেশে জরম্নরি অবস্থা জারির পর আটক পলিটিশিয়ানরা খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পাচ্ছেন না। অ্যাপেলাট ডিভিশনে তাদের আটক আদেশকে অবৈধ করে দেয়া হাই কোর্টের রায়ের ওপর শুনানি শেষ হওয়া পর্যনত্দ তাদের জেলেই থাকতে হচ্ছে। হাই কোর্ট তাদের আটক আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করলেও অ্যাপেলাট ডিভিশনে হাই কোর্টের রায় তিন দফা স্থগিত হয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার চিফ জাস্টিসের নেতৃত্বে অ্যাপেলাট ডিভিশনের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী এক মাসের জন্য হাই কোর্টের রায়ের ওপর স্থগিত আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরম্নদ্ধে সরকারকে নিয়মিত আপিলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এ আপিল দায়ের করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অ্যাপেলাট ডিভিশনের এ আদেশের পর প্রতিক্রিয়ায় আটক নেতাদের পৰের আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আদালতের এ আদেশের ফলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার অধীনে আগামী এক মাসের জন্য কারো আটক আদেশ চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। যতোদিন আপিলের নিষ্পত্তি না হবে ততোদিন আটক পলিটিশিয়ানরা বের হতে পারছেন না।

আটক নেতাদের পৰের অন্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন, অ্যাপেলাট ডিভিশনের এ আদেশের ফলে এক মাস আটক নেতাদের জামিনের বিষয়টি পিছিয়ে গেল। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি হতাশ। বর্তমান চিফ জাস্টিসের প্রতি অনেক আশা ছিল; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আশাহত হয়েছি। মনে হচ্ছে, আদালত হাওয়া দেখে রায় দিয়েছে।

ফখরম্নদ্দীন আহমদের কেয়ারটেকার সরকার ৰমতায় আসার পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক শীর্ষ পর্যায়ের পলিটিশিয়ানকে বিভিন্ন তারিখে আটক করে যৌথ বাহিনী। এদের বেশির ভাগেরই আটক আদেশ হাই কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। আটক আদেশ অবৈধ হয়ে যাওয়া বিএনপি দলীয় নেতার মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, মীর নাছির উদ্দিন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, আমানউলস্নাহ আমান, রম্নহুল কুদ্দুস দুলু, মোসাদ্দেক আলী ফালুু, মনজুরম্নল আহসান মুন্সী, আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া ও নাসের রহমান।

আওয়ামী লীগের যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলেন সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সালমান এফ রহমান, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, কামাল আহমেদ মজুমদার, লোটাস কামাল, পঙ্কজ দেবনাথ, ড. আওলাদ হোসেন, মাহমুদ হাসান বাবুল ও জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু।

আটকের পর প্রত্যেককে ৩০ দিনের আটক আদেশ দেয় স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়। আটক আদেশে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রৰণাবেৰণের কাজে বিঘ্ন করেছেন। তারা ৰতিকর কর্মকা-ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ৰতিকর কর্মকা-সহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বা প্রতিরৰার জন্য ৰতিকর কাজে লিপ্ত রয়েছেন। এ আটক আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় আবেদন করা হয়। দেশে জরম্নরি অবস্থা থাকায় সংবিধানের ১০২ ধারায় হাই কোর্ট বিভাগে সরকারের কোনো কাজকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা যাচ্ছে না, তাই তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার আলোকে এসব আবেদন করেছেন। আটক আদেশগুলো একই বিষয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আটক নেতাদের ৰেত্রে দেয়া হয়েছে। তাই একসঙ্গে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আবদুল বাসেত মজুমদার ও বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহাবুবউদ্দিন আহমাদ প্রমুখ। আটক নেতাদের পৰে আবেদনের শুনানি শেষে হাই কোর্ট এক এক করে সব পলিটিশিয়ানের আটক আদেশ অবৈধ করে দেয়। হাই কোর্টের এ রায়ের বিরম্নদ্ধে সরকার অ্যাপেলাট ডিভিশনে লিভ টু আপিল দায়ের করে। সরকারের এ আবেদন গ্রহণ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। এবার আটক আদেশের বৈধতা নিয়ে অ্যাপেলাট ডিভিশনে নিয়মিত আপিলে শুনানি হবে।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=4688

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: