ঘরোয়া রাজনীতির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছেন সিইসি

ঘরোয়া রাজনীতির ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। নির্বাচনী আইনের ৩৯টি সংস্কার এবং ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা তৈরি করাসহ ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। সেজন্য ঘরোয়া রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন সিইসি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিইসি ড. এ টি এম শামসুল হুদা সাংবাদিকদের একথা জানান।
সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান আইনের সংস্কারের জন্য ৩৯টি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এতে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর রেজিস্ট্রেশন, প্রার্থীর যোগ্যতা, ঋণখেলাপি, বিল খেলাপি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা নিয়ে যাতে কেউ নির্বাচন করতে না পারে খসড়ায় সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব সংস্কার সংবিধান সম্মত করা হচ্ছে। গত তিন মাসে করণীয় বিষয়গুলোর ফ্রেম ওয়ার্ক করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, এ কারণে তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে ঘরোয়া রাজনীতির বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে ছবি সংবলিত ভোটর তালিকা, ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছি। এ যেন একের ভেতর তিন পাওয়া।

জনগণ নির্বাচনের তারিখ জানতে চায়, এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, জনগণ নির্বাচনের তারিখ জানতে চাইতেই পারেন। তবে এসব কাজ আমাদের শেষ করতে হবে। আমরা যেনতেনভাবে কিছুই করতে চাই না।
তিনি বলেন, এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে দেশী-বিদেশী কনসালট্যান্ট কাজ করবে। তাদের কাজ শুরুর দুই মাস পর বলা যাবে এসব করতে আমাদের কতো সময় লাগবে। এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা মইনুল হোসেন বলেন, প্রধান নিবার্চন কমিশনার নির্বাচনী আইন সংস্কারের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। সে জন্য তিনি ঘরোয়া রাজনীতি উন্মুক্ত করার কথা বলেছেন। তার কথায় যুক্তি রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা করা হবে।

কবে নাগাদ উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা আমি নিশ্চিত করে কীভাবে বলবো!

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মইনুল হোসেন বলেন, এটা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ওপর। রাজনৈতিক দলের গুণগত পরিবর্তন দরকার। আমরা সেই পরিবর্তন দেখছি না। এসবের পরিবর্তন না করলে অতীতের ন্যায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও হানাহানি লেগেই থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যতো দ্রুত পরিবর্তন আসবে, নির্বাচনও ততো দ্রুত হবে।
রাজনৈতিক দলসমূহের ভেতরে পরিবর্তন আনতে সরকার কোনো সিস্টেম ডেভেলপ করবে কিনা সে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো দলকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না তা বলা হয়নি। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে হবে, সর্বত্র কোয়ালিটি চেঞ্জ আনতে হবে। সরকার সিস্টেম ডেভেলপ করতে যাবে কেন? Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-05

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: