শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে শিক্ষকদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে আইন উপদেষ্টা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন। সবকিছুর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখাপেক্ষী থাকা স্বাধীনতার কথা নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে শিক্ষকদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের শিক্ষক থাকতে হবে। তাদের নীতি, আদর্শ, মূল্যবোধের প্রতিভূ হতে হবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি হলেই কারো মর্যাদা বাড়ে না। যে পরিবেশে শিক্ষক শিক্ষক থাকে না সেখানে ছাত্র ছাত্র থাকতে পারে না। জাতীয় রাজনীতি বন্ধের সাথে সাথে শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তবে এ দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিতে হবে।

বাংলাদেশ দর্শন সমিতির উদ্যোগে গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একথা বলেন। সেমিনার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এএসএম শাহজাহান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দর্শন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দর্শন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সালাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা আজিজুন্নাহার ইসলাম।

দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে গিয়ে জনাব হোসেন বলেন, শিক্ষিত লোকদের দায়িত্ববোধের অভাবের কারণেই জাতি সংকটে পড়েছিল। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন চিন্তা-ভাবনা ও সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিকের শিক্ষকদের চারিত্রিক দৃঢ়তা সম্পর্কে প্রবাদ প্রতীম শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের একটি স্মৃতি চারণমূলক রচনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল বলেই তখনকার শিক্ষকদের পক্ষে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্বদান সম্ভব হয়েছিল।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের সমাপ্তি টেনে বলেন, ধর্ম ও দর্শন নিয়ে যতই মত-বিরোধ থাকুক না কেন, সকল দর্শন ও মহান ধর্মের বাণী আমাদেরকে মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করার এবং পার্থিব জীবনকে সুন্দর ও শান্তিময় করার যে শিক্ষা দিয়েছে সেই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে আমাদের এই দেশটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে।

অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, সফল জীবনযাত্রার জন্য বৈষয়িক সমৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি প্রকৃত শিক্ষার কাজ। নতুন প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তি, অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তিবিদ্যা, নীতিবিদ্যা, নন্দনতত্ত্ব প্রভৃতি মৌলিক মানবিক বিষয়ের উপর যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো দরকার। তিনি দর্শন সমিতির বিভিন্ন যুক্তিযুক্ত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।

এ এস এম শাহজাহান বলেন, সংস্কার প্রতিদিনই করা দরকার। অর্থ এবং নৈতিকতার মধ্যে যে বিরোধ তা সঙ্কুচিত করতে হবে। আমাদের সময়ের চেয়ে ভাল শিক্ষক এবং মেধাবী ছাত্র বর্তমানে আছে। ছাত্র-শিক্ষকের সংখ্যা সম্প্রসারণের কারণে বিপথগামীর সংখ্যা কিছু বাড়তে পারে। কিন্তু তাই বলে আমাদের হতাশ হবার কোন কারণ নেই।

ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, যা ইচ্ছা তাই করার সংস্কৃতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতা এবং অর্থায়নের সঙ্গে মনিটরিং করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে হবে। স্ব স্ব অবস্থানে থেকে সঠিক কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজের প্রতি, সেইসঙ্গে দেশের প্রতি সুবিচার করতে হবে।

ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, আলোচনার দর্পণে দেশের আসল চেহারা ফুটে উঠেছে। বঙ্গভবন ও গণভবনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আন্তরিকতার অভাব হয়নি। রাতের অন্ধকার যতই গভীর হোক সকালের সূর্য উঠবেই। তিনি বলেন, মিশন এবং ভিশন ছাড়া কোন শিক্ষানীতি ফলপ্রসূ হতে পারে না, হয়নি। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-05

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: