সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় চলছে না নগর পরিবহন; গাড়ি সিএনজি করার হিড়িক

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গতকাল বুধবার থেকে শতকরা ১০ ভাগ বর্ধিত বাসভাড়া কার্যকর হয়েছে। এ সঙ্গে বেড়েছে পণ্য পরিবহন ভাড়াও। সরকার নির্ধারিত রেট অনুযায়ী দূরপালস্নার অধিকাংশ পরিবহন ভাড়া কার্যকর হলেও নগর পরিবহনে চলছে বিশৃংখলা। কোন রম্নটে যেমন গতকাল ভাড়া বাড়েনি, তেমনি কোন কোন রম্নটে শুরম্ন হয়েছে ভাড়ার দৌরাত্ম্য। ট্রাক, লরিসহ পণ্য পরিবহনের ৰেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রির দামে তার প্রভাব পড়ার আশংকা করা হয়েছে।

এদিকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির প্রেৰাপটে গাড়ীসমূহ প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপানত্দরের (সিএনজি) হিড়িক পড়ে গেছে। গতকাল রাজধানীর সিএনজি কনভার্সন সেন্টারগুলোতে ছিল রীতিমত লাইন। তেজগাঁওয়ের একটি কনভার্সন সেন্টারের মালিক আবদুল মতিন খোকন জানান, অন্য সময়ের তুলনায় গত ২/৩ দিন সিএনজিতে রূপানত্দরের জন্য গাড়ী আসছে অনেক বেশী। গ্যাস সিলিন্ডারসহ কনভার্সনের রেটও হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছে সেন্টারগুলো। বর্তমানে ঢাকায় ৮০টি কনভার্সন সেন্টার আছে। এগুলো থেকে প্রতিদিন দুই শতাধিক গাড়ী সিএনজিতে রূপানত্দরিত হয়ে রাসত্দায় নামছে। তবে যে পরিমাণে গাড়ী সিএনজিতে রূপানত্দরিত হচ্ছে সেই তুলনায় ঢাকায় সিএনজি গ্যাস স্টেশন নেই। ফলে চাপ বেড়ে যাচ্ছে গ্যাস স্টেশনগুলোতে। বিগত জোট সরকারের সময়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য ১৭০টি পস্নট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। ৬ মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্টেশন চালু করার নির্দেশনা থাকলেও মাত্র ২৪টি স্টেশন চালু করা হয়। বরাদ্দপ্রাপ্তরা ১৩৭টি পস্নটে এখনো সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করেনি। ৯টি পস্নটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেল ও সড়ক বিভাগের জায়গায় এসব জায়গার বরাদ্দ দেয়া হয়।

সিএনজি চালিত গাড়ীগুলোকে গ্যাস নেয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেৰা করতে হচ্ছে। নাভানা ট্যাক্সিক্যাব গ্রম্নপের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকার দ্রম্নত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এখন কেবল ভাড়ায় চালিত চ্যাক্সি ক্যাবই নয়, প্রাইভেট গাড়ী, পরিবহন বাস, সরকারি প্রায় সকল পরিবহন সিএনজিতে রূপানত্দরিত করা হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তের অধিকাংশ গাড়ীর মালিক সিএনজিতে রূপানত্দর করছে।

এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির মওকায় অতিউৎসাহী কিছু সিএনজি চালকও ভাড়া বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। একজন কর্মজীবী গতকাল তেজগাঁও থেকে প্রেসক্লাব পর্যনত্দ আসতে চাইলে কোন টেক্সিক্যাবই মিটারে আসতে রাজি হয়নি। তারা সিএনজি নিতে দীর্ঘ বিড়ম্বনা এবং মালিকদের দিনের জমার পরিমাণ উলেস্নখ করে মিটারে না যাওয়ার যুক্তি প্রদর্শন করে।

অপরদিকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার ও পরিবহন কতর্ৃপৰ বাসযাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারে ৮৭ পয়সা করলেও নেয়া হচ্ছে ১ টাকা। মিনিবাসেও একই অবস্থা বলে অভিযোগ। যাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারে ৭ পয়সা বাড়িয়ে ৯০ পয়সা করা হলেও কোথাও কোথাও নেয়া হচ্ছে ১ টাকা। ট্রাকে মাল পরিবহন ভাড়া কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে অভিযোগ এই যে, ভাড়া ২৫ পয়সা নেয়া হচ্ছে। রাজধানীতে গতকাল নগর পরিবহনে পাওয়া গেছে দুই রকম চিত্র। গুলিসত্দান থেকে আদমজী পর্যনত্দ বেকার পরিবহনে ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আবার একই রম্নটে গুলিসত্দানে আসার ভাড়া কোমল পরিবহনে ১০ টাকা নিচ্ছে।
সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/05/w/n_ztmumr

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: