চট্টগ্রাম বন্দর শিগগির পরিণত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের

চট্টগ্রাম বন্দর ২০০৯ সালের মধ্যেই পরিণত হতে যাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক বন্দরে। এই বন্দরের দক্ষতা, গতিশীলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এশিয়ার অন্যান্য আধুনিক বন্দরকেও ছাড়িয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে বন্দরে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ‘চিটাগাং পোর্ট ট্রেড ফেসিলিটাইজেশন প্রজেক্ট’-এর কাজ। চার স্তর বিশিষ্ট এই প্রকল্পের আর্থিক যোগান দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর। প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সহজ শর্তে ১৬৬ কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি। অবশিষ্ট অর্থের যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর। বাংলাদেশের অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের এই প্রকল্পটিতেই এডিবি সবচেয়ে বড় আর্থিক যোগান দিচ্ছে। এডিবি বন্দরের এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের পাশাপাশি গুরুত্ব দিচ্ছে বন্দরের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নে। যা বাস্তবায়িত হলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশেরই নয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্থলবেষ্টিত ৭ রাজ্য, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, চীনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের একটি নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট কিংবা ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে উন্নীত হতে পারবে। যার মাধ্যমে বন্দর ও দেশের আয় বৈদেশিক মুদ্রায় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।

চার স্তর বিশিষ্ট এই প্রকল্পটির মধ্যে বিভিন্ন আধুনিক স্থাপনা তৈরি, ফ্লাইওভার নির্মাণ, কম্প্যুটারাইজেশন, হেভি ভেহিক্যাল স্ক্যানার স্থাপনসহ আধুনিকায়নের সকল সুবিধা নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস্‌ হাউসকেও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। সওজ-এর প্রকৌশলী আবুল কাশেম এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস্‌ হাউজের যুগ্ম কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন যথারীতি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

চলমান এই প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), সল্টগোলা হয়ে নবনির্মিত বন্দর এক্সেস রোড পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করবে সওজ। যার জন্য আর্থিক বরাদ্দ রয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।

আরো প্রায় ৭৫ কোটি টাকা খরচে চট্টগ্রাম কাস্টমস্‌ হাউস বন্দর এক্সেস রোডের মুখে এবং এনসিটি ও সিসিটি টার্মিনালের সমন্বিত গেইটে সর্বমোট ২টি হেভি ভেহিক্যাল স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের কন্টেইনার অপারেশনসহ যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য স্থাপন করবে কম্পিউটারাইজড্‌ ব্যবস্থা। তারা বর্জ্য জ্বালানি তেল শোধন, সংরক্ষণ ও সংগ্রহের জন্য তৈরি করবে একটি অত্যাধুনিক পরিবেশ সুবিধাসম্পন্ন কারিগরি ব্যবস্থা। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করবে গেইট হাউজ। বন্দর এক্সেস রোডের মুখে নির্মাণ করবে ওয়ে ব্রীজ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পার্ক ইয়ার্ড নির্মাণ করার পাশাপাশি নিকটবর্তী স্থানে খালের ওপর নির্মাণ করবে আরো একটি ব্রীজ। যাতে পার্ক ইয়ার্ড থেকে সরাসরি বন্দর এক্সেস রোড হয়ে কন্টেইনারসমূহ বাইরে যেতে পারে। এইসব স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা।

কর্তৃপক্ষ আশা করছেন ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। এছাড়াও ক্রমবর্ধমান কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরো সুবিধা প্রদান করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী কন্টেইনার টার্মিনাল (কসিটি) ও পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পসিটি) নামের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নেও হাত দিতে যাচ্ছেন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-10

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: