রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এ সপ্তাহেই

খালেদা জিয়া সৌদি আরব যেতে পারেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন না, উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন হচ্ছে

চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা এবং ওমরার জন্য সৌদি আরব যেতে পারেন। সৌদি আরবে তার অবস্থান দীর্ঘ সময় হতে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি বড় ধরনের মামলা হতে পারে। ইতোমধ্যে ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার চার্জশিটে শেখ হাসিনাকে অন্যতম প্রধান আসামি করা হতে পারে। এদিকে চলতি সপ্তাহেই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের আরো ছয়জন নতুন উপদেষ্টা যোগ দিতে পারেন। এর বাইরে বিদ্যমান কয়েকজন উপদেষ্টারও রদবদল ঘটতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও চারদলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওমরাহ এবং চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব যেতে পারেন। ইতোমধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ তার কাছে সে দেশ সফরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এই সফরকালে বেগম জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান থাকতে পারেন। বেগম জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক অথবা সৌদি আরবে পাঠানো হতে পারে।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি’র চেয়ারপারসন চিকিৎসা এবং ওমরার জন্য সৌদি আরব যেতে চাইলে সে ক্ষেত্রে সরকার কোনো বাধার সৃষ্টি করবে না। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও যেতে পারেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ সফরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের পর আরো কয়েকটি মামলা রুজু করা হতে পারে। এর মধ্যে গত ২৮ অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের আগের দিন পল্টন এলাকায় যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সে মামলার চার্জশিটে শেখ হাসিনার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই মামলাটির চার্জশিট কয়েক দিনের মধ্যে দেয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই এসব মামলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আমেরিকা অবস্থানকালে সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে যে বক্তব্য রাখছেন তাতে সরকার ইতোমধ্যে বিব্রত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ধারণা, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব মামলা দায়ের হয়েছে এবং নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে তাতে তিনি দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত হবেন না। সরকারের উচ্চ মহলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের স্বার্থে দুই প্রধান দলের নেত্রীকে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে তাদের দেশের ভেতরে অন্তরীণ রাখার চাইতে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়াকে নিরাপদ মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিন মাস পূর্তি হওয়ার পর বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদকে সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে আরো ছয়জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছয়জন কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না। পেশাজীবী সংগঠন অথবা সুশীল সমাজ থেকে তাদের নির্বাচন করা হতে পারে। উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বর্তমান কয়েকজনকে পরিবর্তন করা হতে পারে।

জানা গেছে, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে জাতীয় সরকার গঠনে যে পরিকল্পনা নিয়েছিল তার বাস্তবায়ন কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে। এর আগ পর্যন্ত বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারেন। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১০ জন উপদেষ্টার যে বিধান রাখা হয়েছিল তা তিন মাস মেয়াদকে সামনে রেখে। বর্তমানে বিশেষ পরিস্থিতিতে যেহেতু সরকারের মেয়াদ অনেক দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে সে কারণে সরকারের দৈনন্দিন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য উপদেষ্টা পরিষদকে সম্প্রসারণ করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, সরকার একটি কার্যকর গণতন্ত্র এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে দু বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ দীর্ঘ সময় অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ রাজনৈতিক এবং টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের সরকার গঠনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্য এক বা দুই মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন জাতীয় সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক মেরুকরণ তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আলাপ-আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়টি একটি প্রকাশ্য রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হতে পারে। জানা গেছে, জাতীয় সরকার গঠনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হতে পারে। এই পরিষদ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সপর্শকাতর বিষয়সমূহে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। এই পরিষদ রাষ্ট্রপতি না প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত হবে এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নিরাপত্তা পরিষদের রূপরেখা নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিষদের উদাহরণকে সামনে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের আভাস অনুযায়ী এপ্রিল, মে ও জুন এ তিন মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে পারে। চলতি মাসের শেষের দিকে ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দেয়া হতে পারে। ঘরোয়া রাজনীতি শুরু হলে রাজনৈতিক মেরুকরণ দ্রুততা পেতে পারে। Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-04-10

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: