মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পুলিশকে আইন প্রয়োগ করতে হবে ঃ আইন উপদেষ্টা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দেশের ঊধর্্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, মানুষের মানবিক ও মৌলিক অধিকারসমূহের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, সুন্দর পুলিশ বাহিনী ছাড়া সুন্দর দেশ গড়া যায় না। সুবিচার নিশ্চিত করাও সম্ভব হয় না। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সপ্তাহ-২০০৭ উপলৰে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মত বিনিময় অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে যোগাযোগ উপদেষ্টা এমএ মতিন, স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুল করিম এবং আইজিপি নূর মোহাম্মদ বক্তব্য রাখেন। পুলিশ বাহিনীর ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের অনেকে দায়িত্ব পালনে তাদের নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা খোলামেলাভাবে বলতে গিয়ে অনেক মুল্যবান সুপারিশও উত্থাপন করেন। দু’জন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র সচিব অত্যনত্দ মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন।

আইন উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, দেশে দুনর্ীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অভূতপূর্ব উদ্যোগ শুরম্ন হয়েছে। আশার কথা যে, সরকারের এ উদ্যোগকে স্বার্থক করতে পুলিশ বাহিনী আনত্দরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊধের্্ব নয়। আর মুষ্টিমেয় অন্যায়কারীর কাছে অসহায় হয়ে থাকার জন্য এ জাতি স্বাধীনতা সংগ্রাম করেনি। আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, ইতিপূর্বে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার ফলে তাদের জনসেবার ভাবমূর্তি ৰুণ্ন হয়েছে। এখন পুলিশের উপর দলীয় রাজনীতির কোন চাপ নেই। তিনি বলেন, অসহায় সাধারণ মানুষের প্রতি সুবিচার প্রদানের প্রাথমিক দায়িত্ব পুলিশকে পালন করতে হয়। এ পবিত্র দায়িত্ব পালনে তাদেরকে অবশ্যই সততা এবং সৎসাহস দেখাতে হবে। আমাদের দেশের পরিপ্রেৰিতে এই সময়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশকে অধিকতর দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, কেউ এফআইআর করলেই মামলা শুরম্ন করা, ধরপাকড় করা ঠিক নয়। অন্যদিকে নিরীহ মানুষ অন্যায়-অবিচারের তথ্যভিত্তিক অভিযোগ নিয়ে এলে সে অভিযোগকে উপেৰা করাও সমীচীন নয়। পুলিশকে প্রতিটি অভিযোগ বিচার-বিশেস্নষণের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রাথমিক তদনত্দে আমলযোগ্য অপরাধের সাৰ্য-প্রমাণ পেলেই কেবল মামলা শুরম্ন করা যেতে পারে। মিথ্যা মামলার বোঝা বাড়তে দিলে পুলিশের দৰতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুলিশ সদস্যদের বলেন, পুলিশের আইন প্রয়োগের প্রধান উদ্দেশ্য হতে হবে জনজীবনে শানত্দি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান করা।

আইন উপদেষ্টা বলেন, দেশ পরিচালনায় দূরদশর্ী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রনায়কের রাষ্ট্র পরিচালনার আশীর্বাদ বঞ্চিত হবার কারণে সৃষ্ট যে সংকট আজ জাতিকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে তা থেকে উত্তরণের জন্য সকলকে আরো আনত্দরিক এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, কাজের ধরন অনুযায়ী যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তা পান না। পুলিশের নিকট থেকে দৰতা প্রত্যাশিত হলে তাদেরকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ ও প্রশিৰণ বৃদ্ধির বিষয়সমূহ সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান। তিনি পুলিশের সততা ও সাহসিকতাকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উপর গুরম্নত্বারোপ করেন।

পুলিশের কর্মকান্ডে এখনো কাংখিত

গতিশীলতা আসেনি ঃ জেঃ মতিন

যোগাযোগ উপদেষ্টা এমএ মতিন বলেন, বর্তমান সরকার ৰমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিভাগে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হবে। পুলিশ বাহিনীর কাছে জনগণের প্রত্যাশা বেশি হলেও পুলিশের কর্মকাণ্ডে এখনো কাঙিৰত গতিশীলতা আসেনি। এজন্য পুলিশ বিভাগে আইনগত ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করতে হবে। যোগাযোগ উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ বিভাগের সংশোধনের কাজটি তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে শুরম্ন করতে হবে। অপরাধ বিজ্ঞান এবং অপরাধ মনসত্দত্ত্ব বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের গতানুগতিক আইনের সংস্কার করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশ বাহিনীকে পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি সাম্প্রতিক দুনর্ীতি বিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব মোঃ আব্দুল করিম বলেন, পুলিশ বাহিনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় এবং ঈর্ষণীয় উন্নতি সাধন করেছে। বাংলাদেশকে বর্হিবিশ্বে উদারপন্থি দেশ হিসেবে পরিচিত করতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের আইন দিয়ে এখনো পুলিশ বাহিনী চলছে। এসব আইন বাসত্দবতার নিরীখে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। দুনর্ীতির তদনত্দ মামলায় যাতে কোন ফাঁক না থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকার ৰমতা গ্রহণের পর পুলিশ বাহিনী চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তারা সততা, দৰতা ও নিরপেৰতা সহকারে দুনর্ীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়কে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করায় জনমনে ফিরে এসেছে। দুনর্ীতি এবং সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে অভিযান পরিচালনায় পুলিশ বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, জাতিকে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার যেসব পদৰেপ নিয়েছে সাফল্যের শীর্ষ বিন্দুতে না পেঁৗছা পর্যনত্দ এ অভিযাত্রা থামবে না।

সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/11/w/n_ztykrx

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: