শামীম ওসমানের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জেলা স্পেশাল জজ আবদুস কুদ্দুস মিয়া মঙ্গলবার দুপুরে এ নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলা দায়ের করেছিল।
দুদক ঘোষিত শীর্ষ পঞ্চাশ দুর্নীতিবাজের নয় নাম্বার শামীম ওসমান। দুদকের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-পরিচালক বেনজীর আহম্মেদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পত্তির হিসাব না দেয়ায় ৪ এপ্রিল জেলা স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন। ওইদিনই মামলা গ্রহণ করে আদালত শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ এপ্রিলের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ মঙ্গলবার আদালতকে জানায়, শামীম ওসমানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তার অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। আগামী ১৫ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
অন্যদিকে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছে। ইন্টারপোলে জারিকৃত রেড ওয়ারেন্টে তার বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান ও অস্ত্রশস্ত্র এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পহেলা অক্টোবরের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আসনে পরাজিত হওয়ার পর শামীম ওসমান কানাডায় পালিয়ে যান। গত বছর নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে একটি সূত্র জানায়।

১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকার গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিনকে কোণঠাসা করে রাখেন। ক্ষমতায় থাকাকালে শামীম ওসমান তার অপর দুই ভাই নাসিম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে পেশাজীবী, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দখল করেন। নারায়ণগঞ্জে তিনি তার অনুগত একটি বাহিনী গড়ে তোলেন। দখল করা সংগঠনের নেতা হন অনুগত বাহিনীর লোকজন। বিএনপি নেতা আবদুল মজিদ গ্রুপ তার অনুগত থাকায় ওই সময় তারা রাজনীতি করতে পারতেন। বিএনপির অন্য গ্রুপকে তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। তার ভাই নাসিম ওসমানের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি নিয়ন্ত্রণ হতো। নারায়ণগঞ্জের টানবাজার পতিতা পল্লী উচ্ছেদ করা হয় তার নেতৃত্বে। উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করতে সরকারের বরাদ্দের ২ কোটি টাকা আত্বসাতের অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে পঞ্চবটীর বিসিক শিল্প এলাকাসহ নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য এলাকার গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা তার হাতে এখনও নিয়ন্ত্রিত। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে জাহাজের তেল চুরির সিন্ডিকেট তার অনুগত বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। তার বাহিনীর হাতে ছাত্রদল নেতা অনিক, যুবদল কর্মী ইব্রাহিম, অনুসহ প্রায় ১০ জন খুন হয়। ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী গিয়াসউদ্দিনের কাছে শামীম ওসমান পরাজিত হন। এরপরই শামীম ওসমান দেশ ত্যাগ করেন। তার বির”দ্ধে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-11

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: