বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের প্রয়োজন নেইঃ ইসি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রচলনে আগ্রহী নয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের মতে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রচলনের দাবি ছিল রাজনৈতিক দলের। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যালট বাক্সের কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের দরকার নেই। এর জন্য প্রচুর সময় ও অর্থেরও প্রয়োজন হবে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা থাকলে জাল ও ভুয়া ভোটের সুযোগ থাকবে না। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ভেবে-চিন্তে নিতে হবে। অপর কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের দাবি কমিশনের নয়। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দরকার বলেও আমরা মনে করি না। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বে কমিশন গতকাল গাজীপুরে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির ডিজাইন করা নানা ধরনের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পরিদর্শন করেন। একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এক সময় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিষয়ে জোরালো দাবি জানালেও এখন তাদের সে অবস্থান নেই। তাছাড়া ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ কমিশনকে জানিয়েছে, ‘একদিকে স্বচ্ছ’ এক লাখ ব্যালট বাক্স বানাতে তাদের ১২ থেকে ১৫ মাস সময় লাগবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশনের কমপক্ষে আড়াই লাখ ব্যালট বাক্স প্রয়োজন। সেগুলো বানাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লাগবে বলে কর্তৃপক্ষ কমিশনকে জানায়। এ প্রসঙ্গে ছহুল হোসাইন বলেন, দেশের জন্য যা ভাল হবে তাই করা দরকার। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স না থাকলে কোটি কোটি টাকা খরচের কি দরকার। তাছাড়া কমিশনের বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ ব্যালট বাক্স রয়েছে। অবশ্য তারা এগুলোকেও একদিকে বা দুইদিকে স্বচ্ছ করে দিতে পারবে।

এর আগে বিচারপতি এমএ আজিজের সময়েও নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বিচারপতি আজিজের যুক্তি ছিল বিদ্যমান স্টিলের ব্যালট বাক্স অনেক টেকসই এবং ভোট গ্রহণের আগে প্রিসাইডিং অফিসার তা খুলে সবাইকে দেখিয়ে নেন। ২০০৫ সালের ১৭ জুলাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধিদল কমিশনকে বিনামূল্যে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। কমিশন সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। পরে ২০০৬ সালে আবার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহের কথা বললেও সেজন্য ৪৫ কোটি টাকা লাগবে বলে জানায়। তারা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের নমুনাও সরবরাহ করে। এ প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী পরিচালিত গাজীপুরস্থ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহে কমিশনকে প্রস্তাব দেয়। উল্লেখ্য, কমিশন বর্তমানে যে স্টিলের ব্যালট বাক্স ব্যবহার করে সেগুলোও মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বানায়।

নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কমিশন এখনো স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন শিগগিরই এ বিষয়ে প্রথমে নিজেরা আলোচনা করবে, তারপর রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে বড়-ছোট প্রায় দুই লাখ ৫১ হাজার স্টিলের ব্যালট বাক্স রয়েছে। এর মধ্যে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন গাজীপুরের মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে ৩৫ হাজার ব্যালট বাক্স বানায়। এ ব্যালট বাক্স বানাতে প্রতিটির পিছনে প্রায় এক হাজার টাকা করে খরচ হয়।

নির্বাচন পরিচালনা বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কক্ষে বড় আকারের একটি অথবা ছোট আকারের দুইটি ব্যালট বাক্স প্রয়োজন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-12

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: