বিদেশেই ঠিকানা হচ্ছে খালেদা-হাসিনার

খালেদা জিয়ার বাইরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সফল করার প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। অন্যদিকে দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত হলেও রওনা হওয়ার আগেই শেখ হাসিনাকে ঠেকানোর সর্বাত্তক চেষ্টা চলছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি ঠেকাতেই এসব করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে একটি নতুন ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ধারার সূত্রপাত করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে উদ্যোক্তারা।

সূত্র জানায়, সরকার ইতোমধ্যে বহুমুখী সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এ সময়ে দেশে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার সার্বিক প্রস’তি নিয়েছেন। এ অবস্থায় যে কোনো কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে সরকার আশঙ্কা করছে। এ জন্যই সরকার তড়িঘড়ি করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকাতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের এবং ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় অভিযোগপত্র দায়ের করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় টিকিট এবং দেশে ফেরার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পরও হাসিনার দেশে ফেরা অনিশ্চিত। সরকার চাচ্ছে শেখ হাসিনা যেন জিয়া বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে না পারেন। এর আগেই আপাতত তাকে দেশে ফেরার চিন্তা থেকে বিরত থাকতে বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সম্ভব না হলে যেখান থেকে তার দেশে ফেরার কথা সে বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। অগত্যা সেটি ঠেকাতে না পারলে এবং জিয়ায় অবতরণের পর কী হবে সে পরিস্থিতি নিয়েও ভাবছে সরকার। জিয়ায় পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি কোনো মহলের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা আগামী ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডন যাবেন। সেখান থেকে দুবাই হয়ে আগামী ১৬ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় এখনো পর্যন্ত দুপক্ষই সন’ষ্ট বলে জানা গেছে। সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, খালেদা জিয়া চাচ্ছেন তারেক রহমানকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে। কিন’ সরকার এক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ঠিক রেখে তারেককে বিদেশ পাঠাতে চাচ্ছে। অন্যথায় সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার সুযোগ থেকে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্যই খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের মধ্যে এখন তেমন কোনো অস্থিরতা নেই।

সূত্রমতে, এ দুটি বিষয় নিয়ে গত দুদিন যাবৎ সরকারের বিভিন্ন দফতর এবং এজেন্সিগুলো ব্যস্ত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন এ ব্যস্ততা থাকবে বলে জানা গেছে। এরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ শুরু হবে। চেষ্টা করা হচ্ছে এ সরকারে শিক্ষিত, চৌকষ এবং দুর্নামহীন ব্যক্তিত্বের সমন্বয় ঘটানোর। এসময়ের মধ্যেই সরকার পরিচালনাকারীদের চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুনধারার স্বচ্ছ একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তোলা হবে। এ দলের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ধারার বাইরে যৌথ নেতৃত্বের সমন্বয়ে বিকল্প একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এতে বড় দুই দল এবং এর বাইরের তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণযোগ্য প্রবীণদের সমন্বয়ে এ দল গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত আছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে বলে জানা গেছে। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-04-12

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: