রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগে সংযম ও বিচারবোধ থাকতে হবেঃ আইন ও তথ্য উপদেষ্টা

আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগে সংযম ও বিচারবোধ থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় ৰমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণেই জনজীবনে অন্যায়, অবিচার এবং দুনর্ীতি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখন এসবের প্রতিরোধে সবাইকে সক্রিয় থাকতে হবে। সংকট উত্তরনে সকলকে সাহসী হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার যশোরে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের সাথে পৃথক দুটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, সবাইকে আইনের অধীনে আনতে হবে। আইনের শাসনের এটাই মূলকথা। প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের অপরাধকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যে সাহস দরকার, সে সাহস যোগাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সকালে আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শামসের আলী। আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আবুয়াল হোসেন, ফারাজী শাহাদত হোসেন, নজরম্নল ইসলাম, কাজী তৌহিদুর রহমান, এম এ গফুর প্রমুখ। যৌথ বাহিনীর যশোর জেলার কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল কামরম্নল হাসান সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ফকির শওকত, একরাম উদ দৌলা, জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আইনজীবীদের ভূমিকা হতে হবে জাতীয় নেতৃত্ব সুলভ।

তিনি বলেন, দলীয় নেতৃত্বের ভুলভ্রানত্দি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন অসম্ভব করে তুলেছিল।। দলীয়করণের রাজনীতির কারণে দলীয় নেতৃত্ব সঠিক উপদেশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দুনর্ীতিপরায়ণ ও সুবিধাবাদীরা সুযোগ নিয়েছে। আইন ও তথ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, চরিত্রহীনতা, দুনর্ীতি এবং অব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের দেশে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে মুক্তি লাভের পথ খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোন সমাধান নয়, আমরা ফায়ার ব্রিগেডের কাজ করছি। সমাধান পেতে হবে রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার ও সাংবাদিকতা দায়িত্বের বিবেচনায় একই সূত্রে গাথা। তিনি সকলকে জাতীয় ক্রানত্দিলগ্নে সতর্ক থাকার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান। বর্তমান জরম্নরী অবস্থার সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ কারো জন্য বিবাদ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সাংবাদিকদের নজর রাখতে হবে। কোন কোন পত্রিকা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতনতা দেখাচ্ছে না।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ড. শমসের আলীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ভৈরব নদের বর্তমান অবস্থা সরজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সমস্যাটিকে গুরম্নত্বসহকারে দেখতে হবে। নদ-নদীর নাব্যতা রৰায় তিনি সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান। এ ছাড়াও যশোর বার লাইব্রেরীর সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন করেন এবং লাইব্রেরীর বই কেনার জন্য সরকারী তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা অনুদানের আশ্বাস দেন।

ড. শমসের আলী তার বক্তৃতায় যশোরের ভৈরব নদীর সংস্কারের উপর জোর দেন। তিনি যশোরে একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান এবং এ ব্যাপারে তিনি তার পৰ থেকে সার্বিক-সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদৰেপকে সাধারণ মানুষ সমর্থন করছে। এই সমর্থন ধরে রাখতে হবে এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ যাতে সৎ এবং যোগ্য প্রাথর্ীদের নির্বাচিত করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আবুয়াল হোসেন তার বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান সরকার যে ভূমিকা পালন করছে দেশের মানুষ বিগত ৩৬ বছরে তা দেখেনি। এ সরকারের প্রতি মানুষের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/12/w/n_ztyyxr

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: